শনিবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / ভ্রমণ / বেড়িয়ে আসুন ফলের আঙিনায়
০৭/৩১/২০১৮

বেড়িয়ে আসুন ফলের আঙিনায়

-

গ্রীষ্মের মাঝ থেকে বর্ষার আরম্ভ পর্যন্ত, অর্থাৎ মে থেকে জুলাই মাস বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং দিনাজপুরে শতাধিক আম এবং লিচুর বাগান হয়ে ওঠে রমরমা। এই এসময়েই আমের মুকুলের ঘ্রাণ এবং লিচুর লাল রঙে মাতে দেশ। রোদ বৃষ্টির এই মৌসুমে আপনি চাইলে টাটকা ফল খেতে চলে যেতে পারেন যমুনার ওপারে। কি করবেন, কিভাবে যাবেন জানিয়ে দিচ্ছি আজ।

পুরো দেশের ফলের চাহিদা মেটাতে এই জেলাগুলো গ্রীষ্মে পরিণত হয় ভাসমান বাজারে। রাজশাহীতে আমের বাগান আছে কিছু, তবে ফাঁকফোকরে বসতি গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থানে। আমের বাগানের আসল চেহারা দেখতে হলে আপনার যেতে হবে আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। সেখানে দিগন্তজুড়ে আছে হরেকরকম জাত-প্রজাতির আম বাগান। বছরের বেশিভাগ সময় এসব আম বাগানে মানুষের আনাগোনা থাকে না, তবে গ্রীষ্মে এর দৃশ্য পুরো ভিন্ন। সবুজ বাগানের মাঝে হলুদ বর্ণের আমের মুকুল যেন নতুন জীবনের উৎস। বাগানে গেলে আপনি দেখবেন মালিকের তত্ত্বাবধানে চলছে আমগাছের নিবিড় পরিচর্যা। গাছে ঝুলছে সবুজ কিংবা হাল্কা হলুদ বর্ণের হরেকরকম আম। পাশের রাস্তায় দেখবেন সাইকেলে করে কর্মীরা ঝুড়ি ভর্তি আম নিয়ে যাচ্ছে বাজারে বিক্রির জন্য। এক বাগানে একই সময় বিভিন্ন প্রজাতির আমগাছ রোপণ করা হয়ে থাকে। তাই একসঙ্গে মুকুল, কাঁচা আম এমনকি পাকা আমও দেখতে পারবেন এক বাগানের মধ্যে। বাগানের মধ্যে আরাম আয়েস করে যদি আম খেতে চান, তার জন্য অবশ্যই মালিকের সাথে কথা বলে নিতে হবে আগে। গাছ থেকে আম পাড়তেও মালিকদের অনুমতি নেওয়া উচিত।

রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের জন্য বিখ্যাত হলেও, একটু দূরের দিনাজপুর সুনাম কুড়িয়েছে লিচুর জন্য। মাসিমপুর এলাকার বেলে মাটির লিচু আকারে অন্য এলাকার লিচুর থেকে বেশ বড়। সেখানকার বাগান মালিকেরা বছরে ব্যবসা করে মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য। গাছপাকা টসটসে লিচু বিক্রি হয় লট হিসেবে। গাছের থেকে সরাসরি লিচু খেতে হলে আপনি নয়াবাদ গ্রামেও চলে যেতে পারেন। ঢাকা শহরের তুলনায় সেখানে লিচুর দাম অনেক কম।

উত্তরের এসব জেলাগুলো শুধু ফলের জন্যই বিখ্যাত নয়। রাজশাহী বিভাগের পশ্চিমে আছে বাংলার প্রাচীন গৌর অঞ্চলের রাজধানী। নাটোরের রাজপ্রাসাদ, রাজশাহীর বাঘা মসজিদ এবং পুঠিয়ার রাজবাড়ী ছাড়াও আরও বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে এসব অঞ্চলে। সময় হাতে নিয়ে বেড়াতে গেলে এসব নিদর্শন ঘুরে আসবেন।

যেভাবে যাবেন
রাজধানীর গাবতলি থেকে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু বাস আছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং দিনাজপুরের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা আছে। বাস ভাড়া ৪৫০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। তাছাড়া, রেলযোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ ভালো। রাজশাহী কিংবা চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে আপনি অটো ভাড়া করে নিতে পারেন পুরো দিনের জন্য। সেখান থেকে দিনভর আমবাগান ঘুরে দেখতে পারবেন। দিনাজপুরে আপনি বাস টার্মিনাল থেকে রিকশা করেই যেতে পারবেন লিচু বাগানে। সাথে স্থানীয় কাউকে সঙ্গী বানিয়ে নিতে পারলে আরও ভালো হয়। নাটোর এবং আশপাশের এলাকার প্রাচীন নিদর্শন দেখতে হলে আপনার যেতে হবে রাজশাহী শহর থেকে পশ্চিমে।

টিপস
* আম বাগানে উষ্ণ বাতাস থাকে, তাই পাতলা জামাকাপড় নিয়ে যাওয়া উত্তম।
* কালবৈশাখী থেকে বাঁচতে আগে থেকে আবহাওয়ার খোঁজখবর নিয়ে নিন।
* রোদ বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ছাতা এবং রেইনকোট নিয়ে যাবেন।
* মশার ওষুধ কিংবা রিপেলেন্ট স্প্রে নিয়ে যেতে পারেন।
* বাগানের মালিক এবং কর্মীদের সাথে মার্জিত আচরণ করুন এবং অনুমতি ছাড়া ফলমূল নিবেন না।

- কাজী মাহদী