বৃহস্পতিবার,১৫ নভেম্বর ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / বর্ষায় চাই সুস্থতা
০৭/৩০/২০১৮

বর্ষায় চাই সুস্থতা

-

বর্ষা ঋতু হলো প্রকৃতির এক অনন্য আশীর্বাদ। বর্ষায় প্রকৃতি এক নবজীবন পায়, চারিদিকে প্রাণের হিল্লোল জাগে। জীবনের এই মুখরতা সবার প্রাণেই দোলা দেয়; কিন্তু সবার তা উপভোগ করার সৌভাগ্য হয় না। কেননা বর্ষা সাথে করে নিয়ে আসে বিভিন্ন অসুস্থতা। সামান্য অসাবধানতায় চরম মূল্য দিতে হয় তখন।

বর্ষাকালের কমন রোগব্যাধি
বর্ষাকালে যেমন ঠান্ডা জ্বর, সর্দি কাশি ইত্যাদির মতো ছোটখাট সমস্যা হয় তেমনি বিভিন্ন ভাইরাসজনিত জটিল রোগব্যাধিও হয়ে থাকে। তাই এসব অসুস্থতার কোনোটিকেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। সাধারণ সমস্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফ্লু আর ভাইরাল জ্বর। ঠান্ডার সমস্যায় হাঁচি-কাশি আর গলা ব্যথা হতে পারে, এর সাথে জ্বর যুক্ত হয়ে সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস আর টাইফয়েড এই সময়ে খুব বেশি দেখা যায়। মশার উপদ্রব যেহেতু বর্ষাকালে বেশি হয় তাই মশাবাহিত রোগও ছড়িয়ে পড়ে দ্রুতই। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া হরহামেশাই দেখা যায়। তবে এতসব রোগের বাইরেও খাবার আর পানির ইনফেকশন আর লেপ্টোসপিরোসিস সবচেয়ে বেশি ভুগিয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ লেপ্টোসপিরোসিস মানুষ আর প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। শরীরের তাপমাত্রার বৃদ্ধি, কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা আর জ্বর এর প্রধান লক্ষণ।

প্রতিরোধ আর প্রতিকার- দুটোই প্রয়োজন

বর্ষার রোগব্যাধি থেকে বেঁচে থাকতে একইসাথে প্রতিরোধ আর প্রতিকার প্রয়োজন। নিম্নের বিষয়গুলো মেনে চলুন-
* বৃষ্টিতে ভেজা থেকে বিরত থাকুন
* বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা আর জ্বরের সমস্যা দেখা দেয়। তাই সবসময় সাথে ছাতা বা রেইনকোট রাখবেন। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে সাথে সাথে ভেজা কাপড় বদলে নিন। অফিসে যাতায়াত করলে সাথে করে ব্যাগ রাখুন যাতে ছাতা বা রেইনকোট রাখতে পারেন, আর অবশ্যই অতিরিক্ত এক সেট জামা আর জুতা রাখুন। অধিক সময় ধরে পায়ের পাতা ভেজা অবস্থায় রাখবেন না, পরিষ্কার রাখবেন যাতে ছত্রাক জমতে না পারে।
* হেলদি ডায়েট আর অতিরিক্ত পানি পান
* এই সময়ে সহজেই শরীরে রোগ বাসা বাঁধে, তাই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর খাবার আর অতিরিক্ত পানি পান করুন। বেশি বেশি ফলমূল আর শাকসবজি খেতে হবে এসময়। বর্ষাকালে নানারকম হট ড্রিংক্স শরীরকে চাঙা রাখে, বিভিন্ন রকমের অর্গানিক চা খেতে পারেন।

পরিষ্কার আর শুষ্ক পরিবেশ চাই
বর্ষাকালের আর্দ্রতার কারণে সহজেই রোগজীবাণু ঘরবাড়িতে ঢোকে আর আশ্রয় নেয়। তাই আপনার বাসা পরিষ্কার রাখুন, মেঝে ফিনাইল আর এন্টিসেপ্টিক লিকুইড দিয়ে পরিষ্কার করুন। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ রোগজীবাণুর অভয়ারণ্য, তাই সবসময় শুষ্ক রাখুন ঘরবাড়ি।

রোগব্যাধির সাথে লড়াইয়ে ভিটামিন ‘সি’
ভিটামিন সি ভাইরাসজনিত ঠান্ডা জ্বর থেকে সহজেই মুক্তি দেয়। শরীরে এন্টিবডি তৈরীতেও এর ভূমিকা অগ্রগ্ণ্য। সাধারণত বর্ষাকালে ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত ফলমূল প্রচুর পাওয়া যায়; তাই প্রতিবেলাতেই এসব ফলমূল খেতে পারেন।

মশা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি
বৃষ্টির সময় পানি জমে মশার উপদ্রব বাড়ার সাথে সাথে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো রোগ দেখা দিতে থাকে। এসব রোগ থেকে বাঁচতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। বাইরে গেলে এন্টি মসকিটো ক্রিম লাগিয়ে যাবেন। আর অবশ্যই বাসার আশপাশে কোথাও পানি জমতে দিবেন না।

সাবধান থাকুন আরও কিছু বিষয়ে
> পানি জীবাণুমুক্ত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পান করুন।
> খাবার বেশিক্ষণ রেখে খাবেন না। বাসি খাবার পরিহার করুন।
> ফলমূল আর শাকসবজি অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে।
> বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখুন।

- তানভীর ইসলাম