শনিবার,১৭ নভেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / মেয়ে সন্তানকে করে তুলুন আত্মপ্রত্যয়ী
০৭/১৮/২০১৮

মেয়ে সন্তানকে করে তুলুন আত্মপ্রত্যয়ী

-

আপনার মেয়ে সন্তানটিই আগামীদিনের নারী। নারীদের আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠা দিন গড়ালেই হঠাৎ করে হয়ে যায় না। একজন আত্মপ্রত্যয়ী মানুষকে প্রস্তুত করতে হয় তার শৈশব থেকেই। নারীদের জেন্ডারভিত্তিক ভূমিকাগুলো মেয়ে শিশুদের উপর চাপিয়ে দেয়া হলে একজন আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হয়ে ওঠার পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সন্তানকে আত্মপ্রত্যয়ী নারী গড়ে তুলতে হলে নারীদের প্রতি জেন্ডারভিত্তিক যেসব দৃষ্টিভঙ্গি এবং আকাঙ্ক্ষা, সেসব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আপনাকেই।

কন্যাকে ‘দেখতে সুন্দর’, এর চেয়েও বেশি কিছু ভাবুন
আপনার মেয়ে দেখতে সুন্দর বা ছিমছাম কিনা, তা নিয়ে তার প্রশংসা না করে তার অন্যান্য গুণগুলো নিয়ে প্রশংসা করুন। আপনার আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবদেরও এ বিষয়ে সচেতন করুন এবং মেয়ের বাহ্যিক সৌন্দর্য বাদ দিয়ে অন্যান্য গুণগুলো নিয়ে প্রশংসা করতে উদ্বুদ্ধ করুন। মেয়েকে “পুতুলের মতো”, “পরীর মতো” প্রভৃতি অ্যাখ্যা না দিয়ে তাকে বুদ্ধিমান, বন্ধুবৎসল, গোছানো প্রভৃতি প্রশংসা করুন। শিশুমনোবিদরা বলেন, ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে প্রশংসা করতে যেসব ইতিবাচক ভাষা ব্যবহার করা হয়, মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইতিবাচক ভাষা ব্যবহার করা উচিত।

অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা ছাড়ুন
মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করবেন না এবং মেয়ে ও ছেলে শিশুদের জন্য আলাদা নিয়ম চালু করবেন না। ছেলে শিশুরা যেসব কাজ করতে পারে মেয়ে শিশুরাও সেসব কাজ করতে পারে, সেটা বাড়িতেই হোক অথবা বিদ্যালয়ে। ছেলেমেয়ে শিশুদের একই ধরনের খেলাধুলা, একই ধরনের শখের কাজ করার সমান সুযোগ তৈরি করুন।

সঠিক ধরনের বইপড়া নিশ্চিত করুন
বইপড়া যে কোনো শিশুর জন্যই একটি ভালো অভ্যাস। তবে যেসব বই তারা পড়ছে সেগুলোতে কী ধরনের ভাষা লেখা রয়েছে, কী ধরনের বার্তা বইগুলো দিচ্ছে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। তাদের এমন সব বই পড়তে দিন যেগুলোর ভাষা শুধু মেয়েদের জেন্ডার ভূমিকাগুলো তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই লেখা হয়েছে এমন না হয়। যেসব বইয়ে মেয়ে শিশুদেরও ছেলেদের মতো সাহসী, বুদ্ধিমান, শক্তিধর, স্থিতধীসম্পন্ন ভূমিকায় দেখানো হয়েছে, যেসব বইয়ে মেয়েরাও ছেলেদের মতো বিপদের মোকাবেলা করে জয়ী হয় সেসব বই পড়তে দিন।

তাদের হাতে জেন্ডার ভূমিকা মুক্ত খেলনা দিন
মেয়ে শিশুদের হাতে এমন খেলনা দিন যেগুলো জেন্ডার ভূমিকা তার উপর চাপিয়ে দেয় না। তাকে লেগো ব্লক, বিভিন্ন ধরনের পাজল সেট, নিজ হাতে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করার সেটগুলো খেলার জন্য দিন। এতে তার অববোধগত ধারণাশক্তি বাড়বে। তবে তার পুতুল আর রান্নাবাটির সেটগুলোও একেবারে ফেলে দিবেন না। তাকে বেছে নেয়ার সুযোগ দিন। শিশু মনোবিদরা বলেন, মেয়েরা প্রকৃতিগতভাবেই অন্যের যত্ন নিতে অভ্যস্ত, ফলে সে হয়তো পুতুল আর রান্নাবাটির সেটগুলো বেছে নিতে পারে। তবে তাকে অন্যান্য সব ধরনের খেলনাও দিন এবং সেগুলোও যে মজার হতে পারে তা দেখিয়ে দিন।

এছাড়া শুধু ঘরের ভেতরে না, মাঠের খেলাধুলাতেও মেয়ে শিশুদের কখনও বাধা দিবেন না। যে কোনো ধরনের খেলাধুলাতেই ছেলে ও মেয়ে শিশুরা সমানভাবে অংশ নিতে পারে, তাদেরকে খেলাধুলার ক্ষেত্রে পূর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিন।

নিজের মেয়ের জন্য আদর্শ হয়ে উঠুন
মেয়েদের জেন্ডার ভূমিকা নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনাগুলোকে নিজেই প্রশ্ন করুন। মেয়েরা কী করতে পারে অথবা পারে না, কেন পারে না এসব বিষয়ে নিজের ভাবনাগুলোকে প্রশ্ন করুন। আপনার নিজের মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক কোনো বধ্যমূল ধারণা থাকলে তা থেকে বেরিয়ে আসুন। মেয়ে শিশুদের কীভাবে আরো আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলা যায় সে বিষয়ে চিন্তা করুন। এবং নিজের ব্যক্তিত্বকে মেয়ের জন্য অনুসরণীয় আদর্শে রূপান্তরিত করুন।

- কাজী শাহরিন হক