রবিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৮
হোম / খাবার-দাবার / থাইল্যান্ডে খাওয়ার বাহার
০৭/১৮/২০১৮

থাইল্যান্ডে খাওয়ার বাহার

-

দেশের বাইরে বেড়াতে যাবার প্রিয় ডেস্টিনেশন হিসেবে তালিকার উপরেই থাকে থাইল্যান্ড। সাদা বালির সমুদ্র সৈকত, লোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চার এবং নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার পাশাপাশি থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী ব্যাংকক সুস্বাদু এবং ভিন্নধর্মী খাওয়ার জন্যও জগদ্বিখ্যাত। ফলমূল থেকে শুরু করে, হরেকরকমের সিফুড, কিছুই বাদ নেই ব্যাংককে। বেড়াতে গেলে কোথায় এবং কী খাবেন -এই বিভাগের প্রথম লেখায় তাই বলা হোল থাই দেশের খাবার-দাবারের কথা।

স্টিকি রাইস এবং পাকা আম
বাংলাদেশের মতো থাইল্যান্ডেও অনেক প্রকারের আম রয়েছে। আঠালো এক ধরনের মিষ্টি চালের সাথে টসটসে পাকা আম আপনি থাইল্যান্ডে যেকোনো রাস্তাঘাটে কিনতে পারবেন। এই মিষ্টি খাওয়ার আইটেমটি এতটাই জনপ্রিয় যে বর্তমানে স্টিকি রাইস এবং আমের কম্বিনেশান থাইল্যান্ডের পরিচিতি ছড়িয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বে। সকালের নাস্তা কিংবা দুপুরের খাওয়া, অথবা রাতের ডিনার কিংবা হালকা নাস্তা, যেকোনো সময় হালকা ঠান্ডা স্টিকি রাইস আপনাকে গরমের মাঝে শান্তি এনে দিবে। তবে আমের মৌসুম না থাকলে রাস্তাঘাটে এই সুস্বাদু অমৃত নাও পেতে পারেন। তখন আপনার যেতে হবে ইয়েনলি ইউরস নামের শপিং মলে। বিভিন্ন লোকেশানে আছে এই শপ। সেখানে ৩০০ টাকার মধ্যে আপনি পাকা আমের নানাপদ চেখে দেখতে পারবেন।

পাড থাই
পাড থাই থাইল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। চালের গুঁড়া থেকে তৈরি এই সূক্ষ্ম নুডলস পরিবেশন করা হয় ডিম এবং স্টার ফ্রাইড চিংড়ি কিংবা কাঁকড়ার সাথে। থাইল্যান্ড-এর নানান জায়গায় পাড থাই কিনতে পাওয়া গেলেও, আসল রাইস নুডলস খেতে আপনার যেতে হবে থিপ সামাই রেস্তোরাঁতে। ১৯৬৬ সাল থেকে চলছে এই বিখ্যাত রেস্তোরাঁ, যেখানে জন্ম নিয়েছিল এই মডার্ন নুডলস ডিশ। অনেক পদের পাড থাই পাওয়া যায় এখানে। নিরামিষভোজীদের জন্য আছে ভেজিটারিয়ান নুডলস। তবে আসল স্বাদ পেতে হলে অবশ্যই সিফুড পাড থাই খেতে হবে। মাহা চাই রোডে গেলেই দেখতে পাবেন থিপ সামাই। তাছাড়া যেকোনো ট্যাক্সি কিংবা টুকটুকে করে সোজা চলে যেতে পারবেন এখানে।

টম ইয়াম গুং
থাইল্যান্ডের জলসীমায় চিংড়ি উৎপাদন হয় বেশ। হরেকরকম সিফুডের ভিড়ে থাইল্যান্ডের স্পাইসি টম ইয়াম চিংড়ি সুপ ভোজনবিলাসীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। লেবুর টক এবং লাল মরিচের ব্রথের মাঝে বেশ বড় সাইজের চিংড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় এই টম ইয়াম সুপ। লোকাল খাঁটি টম ইয়াম খেতে আপনার যেতে হবে পি আওর রেস্তোরাঁয়। পেটচাবুরি ৫ নম্বর রাস্তায় ছোট্ট খুপরির মতো দোকানে ভিড় লেগেই থাকে সবসময়। মাঝারি চিংড়ির সুপ নিতে পারবেন বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ১৮০ টাকায়। তবে লবস্টার, ওয়েস্টার কিংবা অন্যান্য সিফুডের টম ইয়াম নিতে হলে আপনার প্রায় ২,০০০ টাকার মতো গুনতে হবে। সব গুলোর স্বাদ বেশ ভালো এবং পরিমাণে অনেক থাকে। এই রেস্তোরাঁয় থাই গ্লাস নুডলসও বেশ মজার।

ওয়েং লেং মার্কেট
স্ট্রিট ফুডের জন্য বিখ্যাত ওয়েং লেং একটি স্থানীয় মার্কেট। রবিবার ছাড়া সব দিনই খোলা থাকে। যেকোনো অরেঞ্জ এক্সপ্রেস বোটে চড়ে ডক নম্বর এন১০ এ নামলেই পেয়ে যাবেন এই মার্কেট। সারি সারি জামাকাপড়ের পাশাপাশি রয়েছে তাজাফল, সবজির স্ট্যান্ড। আর একটু পরপর আপনি দেখতে পাবেন নুডলস, ফ্রাইড চিকেন, গ্রিল্ড বানানা, ডামপ্লিং, স্কুইড বারবিকিউ, ফিশ কেক এবং মিষ্টি কাপকেকের ছোট্ট আঁকারের দোকান। বেশ ভিড় থাকে মার্কেটের ভেতর, সার্ভিসও বেশ ভালো ও দ্রুত। বাজার খোলা থাকে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

থাইল্যান্ডে বিচে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি অবশ্যই নানাপদের খাওয়া নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করবেন। দেশিয় খাওয়া থেকে বেশ ভিন্নধর্মী এসব আইটেম।

- ইশরাত জাহান নওশীন