বৃহস্পতিবার,১৫ নভেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / বন্ধু যখন ঈর্ষাকাতর
০৭/১৮/২০১৮

বন্ধু যখন ঈর্ষাকাতর

-

ঈর্ষা গনগনে এক অনলের নাম। বন্ধুত্ব, প্রণয় অথবা পরিণয়- যে-কোনো সম্পর্ককে জ্বালিয়ে ছাই বানিয়ে দিতে পারে এ আগুন। কখনো মুহূর্তেই, আবার কখনো ধীরে ধীরে। তবে বন্ধুত্বের সম্পর্কেই সম্ভবত ঈর্ষা সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে। কত-শত চমৎকার বন্ধুত্ব এ আগুনে বলি হয়েছে তা কে বলতে পারে!

নানাভাবেই মানুষ বন্ধুর প্রতি ঈর্ষান্বিত হতে পারে। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্র ছাড়া সব ঈর্ষাই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে আজকে বরং সেসব আলোচনা থাক। তারচেয়ে চলুন ঈর্ষান্বিত বন্ধুদের সাথে কিভাবে সম্পর্ক সুন্দর রেখে চলা যায় তাই নিয়ে কথা বলা যাক।

বিষয়টিকে এড়ানোর চেষ্টা করবেন না
বন্ধুত্বে ঈর্ষার ব্যাপারটি বেশিরভাগ রোগের মতো। আপনি এড়িয়ে চলতে চাইলেও সেটি আপনাকে এড়িয়ে যাবে না। বরং ধীরে ধীরে ছেয়ে যাবে। বন্ধুর প্রতি ঈর্ষা থেকে আসবে বিরক্তি। সবশেষে হতে পারে বন্ধুত্বের করুণ মৃত্যু অর্থাৎ শত্রুতার সৃষ্টি।

সুতরাং, যদি মনে হয় আপনার বন্ধু আপনার প্রতি ঈর্ষান্বিত তাহলে বন্ধুর সাথে কথা বলুন খোলাখুলি।

কিভাবে শুরু করবেন?
আচ্ছা, আপনার প্রতি যে এমনিতেই অনেক বেশি ঈর্ষাকাতর হয়ে আছে সে কি আদৌ আপনাকে ঈর্ষা করার বিষয়টি শেয়ার করবে? তার জন্য তো সরাসরি অস্বীকার করাটাই স্বাভাবিক। সুতরাং তার সাথে এ বিষয়ে কথোপকথনের শুরুটা করতে পারেন এভাবে- “আমার মনে হচ্ছে আমাদের সম্পর্কের কোথায় যেন একটা গোলমাল হচ্ছে।”

আর হ্যাঁ, আপনাকে অবশ্যই খুব মন্র কিন্তু দৃঢ়ভাবে কথা বলতে হবে। সেই সাথে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন বন্ধুত্বের এ-সম্পর্কে সে আপনার জন্য যা করেছে সেজন্য আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

তাদের জায়গা থেকে বোঝার চেষ্টা করুন
আপনার বন্ধু ঈর্ষান্বিত হয়ে আপনাকে এড়িয়ে চলছে। তাই দেখে আপনিও যদি তার সম্পর্কে বাজে ধারণা করেন তাহলে একটা বিরাট শূন্যস্থান তৈরি হতে পারে আপনাদের সম্পর্কের মাঝে। এবং সেটি অবশ্যই ভালো কিছু নয়। বরং নিজেকে তার জায়গায় দাঁড় করিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন কেন সে আপনাকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত। তার দৃষ্টিতে দেখুন আপনি আপনার কোনো সাফল্য নিয়ে বাড়াবাড়ি কিছু করেছেন কি না যেটি তাকে ঈর্ষান্বিত করে তুলতে পারে। যদি এ ব্যাপারটি বুঝতে পারেন তবে বন্ধুত্ব ঠিক করার ক্ষেত্রে আপনার পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও আপনি নিজ থেকেই দিশা পাবেন।

ঈর্ষান্বিত বন্ধুটিকে গুরুত্ব দিন
আপনার যে বন্ধুটি আপনার প্রতি ঈর্ষা বোধ করে, তাকে আগের তুলনায় একটু বেশি গুরুত্ব দিন। তাকে সঙ্গ দিন আগের চেয়ে খানিকটা বেশি। এতে সে আপনার সাথে আরো সহজ হবে। আপনাকে আরো ভালো বন্ধু ভাববে। তার কথা শুনুন। তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। সেই সাথে তাকেও বাস্তবতা বোঝানোর চেষ্টা করুন। আপনিসহ আশপাশের সবাই তারই মতো সাধারণ মানুষ এবং তাদের প্রত্যেকেরই যে সীমাবদ্ধতা আছে সেটি বোঝান। বোঝান যে কমবেশি সবাই-ই তাকে ভালোবাসে।

নিজের সাফল্যের ক্ষেত্রে আপস নয়
বন্ধুর সাথে হারানো সম্পর্ক ফিরে পেতে সাধ্যমত চেষ্টা করাটা নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়। তবে আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে সাফল্যের ক্ষেত্রে আপস নয়। যেহেতু আপনার জীবনটা একান্তই আপনার, সুতরাং জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতার দায়ভারও সম্পূর্ণই আপনার। আপনার সাফল্যে বন্ধুর মন খারাপ। তো বন্ধুর মন রক্ষা করতে গিয়ে আপনি নিশ্চয়ই সাফল্যকে ছুঁড়ে দেবেন না, বরং বন্ধুত্বের চেয়ে নিজের সাফল্যের দিকেই জোর দিবেন। হ্যাঁ, সেটিই করা উচিত।

বন্ধুত্বের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন
উপরের পরামর্শগুলো মেনে চলার পরও দেখলেন যে আপনার ঈর্ষাকাতর বন্ধুটির মানসিকতায় পরিবর্তন নেই তবে সম্পর্কের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মনে রাখা প্রয়োজন, যারা অপরের সাফল্যে ঈর্ষা বোধ করে তারা অনেকটাই শিশুসুলভ মানসিকতার অধিকারী। এমন মানসিকতার মানুষদেরকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে যদি তাদের ভুল ভাঙানো যায় তাহলে সেটিই সবচেয়ে ভালো এবং সেটিই কাম্য। কিন্তু যখন এ ধরনে বন্ধু জীবনের গতিপথকে রূদ্ধ করে দিতে চায় তখন বন্ধুত্বকেই কবর দিয়ে দিন। ভালো থাকুন ইতিবাচক বন্ধু নিয়ে।

- আহমাদ সাঈদ
ছবিঃ নাঈম শান