মঙ্গলবার,২২ জানুয়ারী ২০১৯
হোম / ভ্রমণ / মৈনট ঘাটঃ এ যেন এক মিনি কক্সবাজার!
০৭/১৮/২০১৮

মৈনট ঘাটঃ এ যেন এক মিনি কক্সবাজার!

-

শহরের ক্লান্ত জীবনের ব্যস্ততার মাঝে সবসময় দূরে কোথাও যাওয়া হয় না। তাই মাঝেমধ্যে ছোটখাট অবকাশ হলে মন্দ হয় না। ঘুরে বেড়ানোর জায়গা দূরদূরান্তে হওয়ায় অনেকেরই সময় হয়ে উঠে না। তবে ঢাকা এবং আশপাশের জেলার ভ্রমণপিপাসুরা একদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিত পদ্মাপাড়ের মৈনট ঘাটে। সেখানে আছে স্বচ্ছ-সুন্দর বালি, ইলিশের বাজারের হাঁকডাক, এমনকি বীচের পাড়ে বসার জন্য আছে কক্সবাজারের মতো বিলাসী সিটিং স্পট। পদ্মার বিশালতার দিকে তাকিয়ে সূর্যকে দিগন্তের মধ্যে হারিয়ে যেতে দেখার মধ্যে আছে এক অনন্য অনুভূতি, যা আপনি সেই ঘাটে না গেলে উপভোগ করতে পারবেন না। আজ বলে দিই কীভাবে যাবেন এবং কী করবেন।

কী করবেন
মৈনট ঘাট সুবিশাল পদ্মার পাড়ে স্বচ্ছ সাদা বালির বেলাভূমি। নদী যেন দিগন্তে মিশে গেছে সেই লাল সূর্যের সাথে। নোনা পানির প্রবল ঢেউ না থাকলেও, মৈনটঘাট গেলে আপনার মনে হবে কক্সবাজারেই যেন এসেছেন। স্থানীয়রা পর্যটকদের বসার জন্য ছাতাসহ ইজি চেয়ারের ব্যবস্থা করে রেখেছে, যেখানে ঘণ্টায় ৩০ টাকার বিনিময়ে বিশ্রাম করতে পারবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত ঘাঁটে থাকলে দেখতে পারবেন এক অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য। ধূসর পদ্মার রং বদলে যাবে আপনার চোখের সামনে, যেন নদীর গভীরে তার আঙিনায় ফেরত চলে যাচ্ছে সূর্য।

মহীয়ান পদ্মার ঢেউর মধ্যে যদি অ্যাডভেঞ্চার করতে চান, তাহলে আপনার জন্য আছে স্পিডবোট, ট্রলার কিংবা ছোট নৌকা। স্পিডবোট ১০-১২ জনের জন্য রিজার্ভ করতে খরচ পড়বে প্রায় ২,০০০ টাকা, তাই বড় গ্রুপ নিয়ে যাওয়া উত্তম। নদীর মাঝে অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং যারা সাঁতার জানেন না, তাদের অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাওয়া উচিত। ট্রলার কিংবা ছোট নৌকা ভাড়া করতে পারবেন ৫০০ থকে ১,০০০ টাকার মধ্যে, অবশ্যই দর কষাকষির পর।

ভাঁটার সময় ঢেউ কমে আসে। সেই সময় স্নানও করতে পারবেন পদ্মার তীরে। জোয়ারের সময় ঢেউ মোড় বদলিয়ে যেতে পারে হুট করে, তাই সাবধানতা অবলম্বন করে স্নান করতে যাওয়া উচিত। জোয়ারের সময় পানিও বেড়ে যায়। তাই বেশি দূর যাওয়া ঠিক না। তবে ভাঁটার সময় ঘাটের আশপাশে চর উঠে আসে, যেখানে পায়ে হেঁটে খোলা হাওয়ায় শরীর জুড়িয়ে নিতে পারবেন।

মৈনট ঘাট থেকে বেশ কিছু নৌকা সকাল বেলা ছেড়ে যায় মাছ ধরার জন্য। আপনি যদি সাহসের সাথে জেলেদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাদ পেতে চান, তাহলে চড়তে পারেন কিছু ছোট নৌকা এবং ট্রলারে। জেলেরা অনেকেই অপরিচিত কাউকে তাদের নৌকায় নিতে চায় না, তবে তাদের সাথে চুক্তি করে নিতে পারেন। দেশের প্রত্যেকটি নদনদী হাজারো জেলের জীবনের একমাত্র আয়ের উৎস। ঢাকা কিংবা অদূরের জেলায় মাছ সরবরাহ হয়ে থাকে এসব জেলেদের ক্ষুদ্র নৌকা থেকেই। তাদের সাথে অ্যাডভেঞ্চার করতে হলে অবশ্যই তাদের পেশাকে সম্মান করা জরুরি। নদীর গভীরে যেতে ভয় লাগলে এই দুঃসাহসী অভিযানে না যাওয়াই শ্রেয়।

কী খাবেন?
সঠিক মৌসুমে গেলে অবশ্যই পদ্মার অদ্বিতীয় ইলিশ খেতে ভুলবেন না। ঘাটের আশপাশেই আছে বেশ কিছু খাওয়ার দোকান, যেখানে বোয়াল, চিংড়ি থেকে শুরু করে নদীর রুই মাছ পর্যন্ত পাবেন। ডাল এবং ভাত পাবেন স্বল্প খরচে, তাই খাওয়াদাওয়া করতে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আস্ত ইলিশের দরকষাকষি করে নিলে আপনাকে বাবুর্চিরা হরেকরকম পদ পরিবেশন করবে। খাওয়ার মান বেশ ভালো এবং দাম সাশ্রয়ী। তাছাড়া, তীরে অনেকেই স্থানীয় ফলমূল এবং ডাব বিক্রি করে। পদ্মার আশপাশে মাটিও বেশ উর্বর, তাই শাকসবজি পাবেন অনেক রকমের। টমেটো, বেগুন, লাউ, ঝিঙা, আলু এবং অন্যান্য অনেক সবজির নানাপদ পাওয়া যাবে এসব দোকানে।

কীভাবে যাবেন?
গুলিস্তান ফ্লাইওভারের বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি যমুনা পরিবহনের বাসে উঠে দোহার মৈনট ঘাটে নামতে পারবেন। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৯০ টাকা। ফেরার সময় আবারও একই বাসে উঠে চলে আসবেন ঢাকা। যেতে লাগবে দেড় কিংবা দুই ঘণ্টা। গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারবেন সরাসরি। সে ক্ষেত্রে আশপাশে অবস্থিত কলাকোপার জজবাড়ি, কোকিলপেয়ারি জমিদারবাড়ি, আনসার ক্যাম্প, ইছামতী নদীও ঘুরে আসতে পারবেন।

টিপস
* স্থানীয়দের সাথে মার্জিত ব্যবহার করুন এবং ঘাটে ময়লা আবর্জনা ফেলে থেকে বিরত থাকুন।
* পানিতে নামতে হলে অবশ্যই অতিরিক্ত জামাকাপড় নিয়ে যাবেন।
* ইভটিজিং বা অন্যান্য সমস্যার সম্মুখীন হলে তৎক্ষণাৎ ঘাটের পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করুন।

- কাজী মাহদী
ছবিঃ বেস্ট টুর এন্ড ফুড/ইন্টারনেট