শুক্রবার,২০ Jul ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / অফিসে রোমান্সঃ যা করণীয়-বর্জনীয়
০৭/০৮/২০১৮

অফিসে রোমান্সঃ যা করণীয়-বর্জনীয়

-

বর্তমান সময়ে যে-কোনো ক্যারিয়ার সচেতন ব্যক্তি দিনের সবচেয়ে বেশি সময় যে স্থানে কাটান তা অবশ্যই তার কর্মস্থল। ফলে কর্মস্থলে রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরি হওয়া খুব অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। বরং গবেষণায় দেখা গেছে যে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ডেটিং সাইটগুলোর পরপরই যে উৎস থেকে ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি তা হলো নিজের কর্মস্থল। আমাদের দেশে ডেটিং সাইট তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি ফলে জনপ্রিয়তাও তেমন নেই। এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান - কলেজ, ভার্সিটির পরপরই রোমান্সের উৎস হিসেবে নাম করতে হয় কর্মস্থলের। প্রতিদিন নিয়মিত অন্তত আট থেকে নয় ঘণ্টা আপনি যে স্থানটিতে কাটান, সেই একই স্থানে আরেক ব্যক্তি একই সময় কাটান, এবং তিনি আপনার সমমনা হলে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে ওঠাই স্বাভাবিক। তাছাড়া অফিসের কর্মব্যস্ততা ও স্ট্রেসের কারণগুলো একই উৎস থেকে তৈরি হওয়ায় বন্ধনটা সহজে গড়ে উঠে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অফিসে কোনো রোমান্টিক সম্পর্কে জড়ালে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে সেই সম্পর্ক অবধারিতভাবে বিয়েতে গড়ায়।
তবে যদিও বিভিন্ন কারণে অফিসে প্রেমের সম্পর্কের দারুণ সব দিক রয়েছে, এর ফলে নানা ধরনের টানাপড়েন ও স্ট্রেসের সম্মুখীনও হতে হয়। বিশেষ করে সম্পর্কটা শেষপর্যন্ত সফল পরিণতিতে না পৌঁছালে উভয় সহকর্মীর জন্যই তা বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে; কারণ একই স্থানে কাজ করার ফলে প্রতিদিনই তাদের দেখা হয়ই, এবং অন্যদের সামনে শুধু সহকর্মীসুলভ স্বাভাবিক আচরণ তাদের চালিয়ে যেতে হয়।
অফিসে প্রেম হয়েই গেলে যেসব করণীয় ও বর্জনীয় দিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ সেগুলো হলো-

করণীয়ঃ
প্রতিষ্ঠানের পলিসি সম্পর্কে জেনে নিন
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই নিজের কর্মীদের মধ্যে প্রেম-বিয়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজস্ব কিছু নিয়মনীতি থাকে। ফলে আপনার কোনো সহকর্মীকে প্রেম বা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার আগে এ বিষয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের পলিসিগুলো জেনে নিন। অনেক প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে উদার, তবে সম্পর্কের বিষয়ে উর্ধ্বতনদের জানিয়ে রাখাকে প্রাধান্য দেয়। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান সহকর্মীদের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে দেখে। প্রেম-বিয়ের সম্পর্ক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তবে এর জন্য আপনার ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা তা ভেবে-চিন্তে পদক্ষেপ নিন।

কর্মস্থলে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করুন
যদি আপনার প্রতিষ্ঠান উর্ধ্বতনকে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানিয়ে রাখাকে প্রাধান্য দেয়, তারপরেও বিষয়টি সবার কাছ থেকে যথাসম্ভব গোপন রাখার চেষ্টা করুন। সবার চোখের সামনে শুধু সহকর্মীর সম্পর্ক বজায় রেখে গোপনে প্রেম করাটা দু’জনের জন্যই বেশ উপভোগ্য। তবে যদিও আপনার সহকর্মীদের জানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে সহকর্মীদের সামনে যথার্থ সংযত আচরণ করার দিকে লক্ষ্য রাখবেন। কারণ আপনাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বিপাক্ষিক আচরণ অন্যান্য সহকর্মীদের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্কটিকে গুরুত্ব দিন
অফিসে প্রেমের সম্পর্ক অন্য দশটা প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেশ ভিন্ন, এবং এর নিজস্ব কিছু নিয়মনীতি আছে, যা আপনাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সম্পর্কটা সফল হোক অথবা ভেঙে যাক, এই নিয়মগুলো আপনাকে মেনে চলতেই হবে। কারণ অফিসে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক অন্য যে-কোনো প্রেমের সম্পর্কের চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে প্রভাবিত করে, যার মধ্যে সহকর্মীদের সঙ্গে সেবাগ্রহীতারাও থাকতে পারেন। ফলে সম্পর্কটি সফল না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব যেন কর্মস্থলে না পড়ে সেদিকটি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে আপনাকে।

বর্জনীয়ঃ
অতিরিক্ত প্রদর্শনী
আগেই একবার বলা হয়েছে কর্মস্থলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বিপাক্ষিক আচরণগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। যদি আপনার সব সহকর্মীরা আপনাদের সম্পর্কের বিষয়টি জেনেও থাকে, আপনাদের ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছু তাদের জানানোর প্রয়োজন নেই। হয়তো তারা সেটা পছন্দও করেন না। এটা শুধু অফিসের ভেতরে প্রযোজ্য তা-ই নয়, অফিস সম্পর্কিত যে-কোনো কাজে বা কাজের স্থানেই এই নীতি মেনে চলতে হবে। এছাড়া এই সম্পর্কের কারণে কর্মস্থলে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব যেন না পড়ে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

কাজে প্রভাব বিস্তার করা
কর্মী হিসেবে আপনার স্বাভাবিক আচরণ যেন আপনার রোমান্টিক সঙ্গীর উপস্থিতিতে বদলে না যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে কোনো মিটিং বা গ্রুপে কাজ করার সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই অসুবিধাজনক। প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পরে বিশেষ এই সহকর্মীটির প্রতি কর্মস্থলে আচরণ যেন বদলে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা
আপনার কোনো কোনো সহকর্মী হয়তো অবসরের আলাপে আপনাদের সম্পর্কের বিভিন্ন রসালো দিকের গল্প শুনতে চাইবে; কোনো সহকর্মীর সঙ্গেই ব্যক্তিগত এসব বিষয়ে আলাপে যাবেন না কখনও। এ ধরনের রসালো গল্পের ভান্ডার ধরনের ব্যক্তি সব জায়গাতেই থাকে, এবং তাদের থেকে আপনাকে সাবধানে থাকতে হবে নিজের সম্পর্ক ও চাকরি উভয়ের স্বার্থেই। একইসঙ্গে এসব আলাপ আপনার একার ক্ষতি করবে না, এতে আরো একজন যুক্ত আছে সেটাও আপনার মনে রাখা উচিত।

- কাজী শাহরিন হক
ছবিঃ আকিব আবদুল্লাহ