বৃহস্পতিবার,১৫ নভেম্বর ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / সঙ্গীর বন্ধাত্বে বিকল্প পদ্ধতিতে সন্তানধারন
০৭/০৮/২০১৮

সঙ্গীর বন্ধাত্বে বিকল্প পদ্ধতিতে সন্তানধারন

-

প্রাকৃতিক নানা কারণ থেকে শুরু করে জীবনযাপনের বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে বন্ধ্যাত্বের হার ক্রমশ বাড়ছে। ফলে সন্তান ধারন করা এধরনের দম্পতিদের জন্য একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। বিজ্ঞানের অগ্রগতির কল্যাণে এখন আমরা এটাও জানি যে বন্ধ্যাত্ব শুধু নারীদের মধ্যেই ঘটে না, পুরুষদের মধ্যেও বন্ধ্যা ব্যক্তি থাকেন। যে-কোনো পুরুষ বিভিন্ন কারণে শুক্রাণু উৎপাদনে অক্ষম হতে পারেন, এটাই বন্ধ্যাত্ব। বন্ধ্যাত্বের জন্য ধূমপান, মদ্যপান, শারীরিক কসরৎ না করা এবং সবসময় বসে কাজ করা, বিভিন্ন রশ্মির বিকিরণ ঘটে এমন পরিবেশে নিয়মিত থাকা অথবা এজাতীয় যন্ত্রপাতি নিয়মিত ব্যবহার করা থেকে শুরু করে বেশি বয়সে বিয়ে এবং সন্তান ধারণের চেষ্টা করা পর্যন্ত সবকিছুকেই দায়ী করা যায়।

তবে বন্ধ্যাত্ব কী কী কারণে ঘটতে পারে তা এখন আলোচনার বিষয় নয়, বরং বন্ধ্যাত্ব যদি দেখাই দেয় তবে কী কী উপায়ে তার প্রতিকার করা যেতে পারে সেটাই মুখ্য। বন্ধ্যাত্বে চিকিৎসার জন্য নারী ও পুরুষদের ভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে যদি আপনার পুরুষ সঙ্গী বন্ধ্যা হয়ে থাকেন তবে আপনি যে ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারেন, সেগুলো হলোঃ

সাব-ফার্টাইল, ইনফার্টাইল না স্টেরাইল?
সবার প্রথমে আপনাকে সাব-ফার্টাইল, ইনফার্টাইল ও স্টেরাইল- এই তিনটি ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।

সাব-ফার্টাইল এই তিন ধরনের মধ্যে সবচেয়ে কম আশঙ্কাজনক, এবং এর প্রতিকার করার পদ্ধতি অপেক্ষাকৃত সহজ। এক্ষেত্রে গর্ভধারণ করা সহজ হলেও খুব সামান্য কারণে গর্ভধারণ হুমকির মুখে পড়তে পারে, অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় ঝুঁকির হার বেশি থাকে।

ইনফার্টিলিটিতে গর্ভধারণ করতে সাব-ফার্টিলিটির তুলনায় বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়, তবে এ অবস্থায়ও গর্ভধারণ সম্ভব।

তবে স্টেরাইল হলো সবচেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থা, কারণ এ অবস্থায় জরায়ুর ভেতর ডিম্বাণুর সঙ্গে শুক্রাণুর মিলন কোনোভাবেই ঘটে না।
সবার প্রথমে জানতে হবে সঙ্গী এ তিন ধরনের বন্ধ্যাত্বের কোনটা-তে পরে; যাতে আপনারা দু'জন পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সন্তান ধারনের বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

যদি আপনার সঙ্গী সাব-ফার্টাইল হয়ঃ আইইউআই (IUI)
ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশান (আইইউআই) বন্ধ্যাত্বের প্রতিকারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি। পুরুষ সঙ্গীর শুক্রাণুর পরিমাণ অন্তত এক কোটি হলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গীর শুক্রাণু সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে পরিষ্কার করার হয়। এরপর এসব শুক্রাণুর মধ্যে থেকে সর্বোত্তম কিছু শুক্রাণু নির্বাচন করে একটি সরু টিউবের মাধ্যমে নারী সঙ্গীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

যদি আপনার সঙ্গী ইনফার্টাইল হনঃ আইভিএফ (IVF) বা আইসিএসআই (ICSI)
সঙ্গী ইনফার্টাইল হলে ইন-ভিট্রো ফার্টালাইজেশন (আইভিএফ) অথবা ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশান (আইসিএসআই) পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করা যায়। এ দুই পদ্ধতি প্রায় একই ধরনের। আইভিএফ পদ্ধতিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটানো হয় পরীক্ষাগারেও, একটি পেট্রিডিসে। আর আইসিএসআই পদ্ধতিতে প্রতিকার করা হয় যখন শুক্রাণুর পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে। এ পদ্ধতিতে শুক্রাণুগুলোকে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য বাড়তি সাহায্য সরবরাহ করা হয়। দু’টি পদ্ধতিতেই ডিম্বাণু-শুক্রাণুর মিলন ঘটানো হয় জরায়ুর বাইরে, পরীক্ষাগারে। মিলন ঘটার পরে এমব্রায়ো জন্ম নেয়ার পরে তা জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

যদি আপনার সঙ্গী স্টেরাইল হনঃ স্পার্ম ডোনার
এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয় যখন পুরুষ সঙ্গীটি শুক্রাণু উৎপাদনে সম্পূর্ণ অক্ষম হন। তিনি হয় তো অস্বাভাবিক কম হারে শুক্রাণু উৎপাদন করেন, অথবা একেবারেই করেন না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন অনুমোদনপ্রাপ্ত সিমেন ব্যাংক থেকে অনুমোদিত শুক্রাণুদাতার শুক্রাণু গ্রহণ করে তা ইনজেকশানের মাধ্যমে নারী সঙ্গীর প্রজননতন্ত্রে স্থাপন করা হয়।

- কাজী শাহরিন হক