শনিবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / বিবিধ / পতাকা-জার্সি ও বিশ্বকাপের নানান কেনাকাটা
০৭/০১/২০১৮

পতাকা-জার্সি ও বিশ্বকাপের নানান কেনাকাটা

-

বিশ্বকাপে জনপ্রিয় দলগুলোর পতাকা আর জার্সি বিক্রির ধুম পড়ে গেছে সারাদশে। রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী থেকে শুরু করে সারাদেশের প্রতিটি জেলাশহর, উপজেলা এমনকি গ্রামের হাট-বাজারগুলোতেও চলে পতাকা, জার্সি এবং সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র বিক্রি। সমর্থকরা তাদের প্রিয়দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা স্পেন-জার্মানির পতাকা উড়ান নিজের বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, আঙিনায়। জার্সি পরে উল্লাসে মেতে উঠেন, ব্যান্ডানা-রিস্ট ব্যান্ডকে ঘিরেও থাকে উন্মাদনা।

ফুটবল বিশ্বকাপ আসলে বিভিন্ন দলকে সাপোর্ট করার প্রবণতাটা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। নিজ নিজ টিমকে সাপোর্ট করেই সন্তুষ্ট থাকে না ফুটবলপ্রেমীরা। নিজের পছন্দের টিমের পতাকা কে কত বড় করে বানাতে পারে আর কত উঁচুতে লাগানো যায় চলে এই নিয়ে প্রতিযোগিতাও। এই হিড়িক এখন চলছে।

হৃদয়ে প্রিয় দেশ, হাতে রিস্টব্যান্ড, গায়ে জার্সি, টানানো পতাকা-ব্যাস। বিশ্বকাপ উন্মাদনার ষোলকলা পূর্ণ হয়ে গেল। ভক্তদের বিশ্বকাপ উন্মদনার এই ষোলকলা পূর্ণতার জোগান দেন পতাকা, জার্সি বিক্রেতা ও দর্জিরা। ভক্তদের হাতে প্রিয় দেশের জার্সি ও পতাকা পৌঁছে দিতে তারা রাজধানীর রাস্তায় নেমে পড়েছেন। কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছেন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের পতাকা। আর পাশাপাশি রয়েছে খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রয় করার পরিচিত মার্কেটগুলো।

স্বাভাবিকভাবেই লাতিন আমেরিকার দুই জনপ্রিয় দেশ আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের পতাকাই বেশি বিক্রি হওয়ার কথা। হকারের সংগ্রহেও সবচেয়ে বেশি রয়েছে এই দুই দেশের নিশান। সঙ্গে রয়েছে আরও দুই ফেবারিট- জার্মানি এবং স্পেনের পতাকা আর মিশরসহ অন্যান্য দলগুলো।

মতিঝিলে পতাকা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটামুটি আড়াই থেকে তিন ফিটের প্রতিটি পতাকার মূল্য ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর টেবিলের স্ট্যান্ডে রাখা প্রতিটি পতাকার মূল্য ২০-৫০ টাকা। গুলিস্তান ও সদরঘাট এলাকার মার্কেটগুলোতে সবেচেয়ে বেশি পতাকা পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের পতাকা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ টাকা থেকে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত দামের বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ফুটবল খেলুড়ে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ফুটবলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা।

ঢাকার মিরপুর ১, ১০, নিউমার্কেট ও স্টেডিয়াম মার্কেট ঘুরে দেখা গেল জার্সি ও পতাকা বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে পতাকা ও জার্সি কিনতে আসা ফুটবলপ্রেমীদের রয়েছে উপচেপড়া ভিড়।

প্রিয়দলের জার্সি এখন শহরের প্রায় প্রতিটি মলেই শোভা পাচ্ছে। কাপড়ের মানভেদে দামটাও একেক জায়গায় একেকরকম। বাংলাদেশি কাপড়ের জার্সি যেগুলো মূলত নারায়ণগঞ্জে বানানো তা মিলছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

দাম বেশি থাইল্যান্ডের কাপড়ে তৈরি বিভিন্ন দলের জার্সি। জানা যায় থাইল্যান্ড ও চায়না থেকে আমদানিকৃত জার্সিগুলো সাধারণত ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও আরও চড়া মূল্য রাখা হচ্ছে। তবে ফুটবলামোদীরা বেশি ভিড় করছেন ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসা দোকানিদের কাছে। আবার স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত এ জার্সিগুলোই আবার আমদানিকৃত দাবি করে তোলা হয়েছে বিভিন্ন বিপণিবিতানে। তাতে অনেক ক্রেতাই বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে পাইকারি ক্রীড়া সামগ্রীর বাজার গুলিস্তান সমবায় মার্কেটে মে মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার জার্সিসহ বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনা হয়েছে। পাশেই বঙ্গবাজারেও পাইকারি জার্সি বিক্রি হচ্ছে।

পতাকা এবং জার্সিতেই দেশবাসীর বিশ্বকাপপ্রীতি থেমে থাকেনি। পছন্দের দলের রিস্টব্যান্ড, ব্যান্ডানা, টি শার্ট পাবেন রাজধানীর খেলাধুলার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানে। ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রির সবচেয়ে বড় বাজার গড়ে উঠেছে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে যেখানে পতাকা-জার্সির পাশাপাশি এসব জিনিসও পাওয়া যাবে। তবে রিস্টব্যান্ড, ব্যান্ডানা বা এ জাতীয় জিনিসপত্রের দাম স্থানভেদে ভিন্ন রকম। গুলিস্তানের সমবায় টুইন টাওয়ার মার্কেটের স্পোর্টস সেন্টারে পতাকা, জার্সি, হাতের রিস্টব্যান্ড ও স্টিকারসহ খেলাধুলার যাবতীয় সামগ্রী পাবেন খুচরা ও পাইকারিভাবে।
চাইলে গুলিস্তানেই বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্কে আমদানি করা জার্সি, ফুটবল ও অন্যান্য স্পোর্টস সামগ্রী পাবেন। তবে এক্ষেত্রে দাম পড়বে কিছুটা বেশি। এর পাশাপাশি পলওয়েল মার্কেট, ডিসিসি মার্কেটেও পাবেন বিশ্বকাপ উপলক্ষে যাবতীয় সামগ্রী।

এছাড়াও বাগডুম, দারাজ, আজকের ডিল-এর মত অনলাইন শপিং সাইটগুলোতে পাবেন জার্সি-পতাকাসহ বিশ্বকাপের নানান সামগ্রী।

- রিয়াদুন্নবী শেখ
ছবিঃ নাফসিন জাহান