শনিবার,১৮ অগাস্ট ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ঈদের ভুরিভোজের পর ফিটনেসে ফেরা
০৬/১১/২০১৮

ঈদের ভুরিভোজের পর ফিটনেসে ফেরা

-

ঈদ উৎসব মানেই ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকটি দিন মুখরোচক, মজাদার সব খাবার। আর কে না জানে যে মুখরোচক খাবার মানেই একইসঙ্গে বাড়তি তেল, বাড়তি মশলা, বাড়তি মিষ্টি, অর্থাৎ খাদ্যের যেসব উপাদানের বাড়তি উপস্থিতি শরীরের জন্য ক্ষতিকর সেগুলোর সবই না চাইলেও বেশি খাওয়া হবেই।

তবে ডায়েটের কথা চিন্তা করে উৎসবের খাওয়া-দাওয়ার আনন্দ কি থেমে যাবে? কখনওই না। বরং চিকিৎসকরা বলেন যে, যখন কোনো খাবার খেতে অনেক বেশি ইচ্ছা করবে, তখন নিজেকে আটকে না রেখে সেটা কিছুটা খেয়ে নেয়া উচিৎ। কারণ এর ফলে নিজের পছন্দের খাবারটি না খেতে পারার কারণে মনে যে হতাশা তৈরি হয়, তা থেকে স্ট্রেস ইটিংয়ের প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত শরীরের ওজন বাড়িয়েই দিবে।

ঈদের খাওয়া-দাওয়ায় ওজন বেড়ে গেলে পরবর্তী কয়েক দিনে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই শরীরের বাড়তি ওজন কমে যাবে দ্রুতই।

আবারও ডায়েট চার্টে ফিরে যান, তবে...
বেড়ে যাওয়া ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে খাবারের পরিমাণ বাড়াবাড়ি রকমের কমিয়ে দেবেন না, আবার শরীরের উপর জোর খাটিয়ে বাড়তি ব্যায়ামও করবেন না। অতিরিক্ত কম পরিমাণে খাবার খেলে অসময়ে ক্ষিদে পাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়, এবং তখন মেজাজও খিটখিটে হয়ে ওঠে। তাই এই পথ অবশ্যই বর্জনীয়।

বরং আপনার খাদ্যতালিকা স্বাস্থ্যকর খাবারে পরিপূর্ণ করে তুলুন, সঙ্গে দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করুন কিছু ব্যায়াম। তাছাড়া উৎসবের কয়েকটি দিনে যদি একটু বেশি পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে থাকে তাহলে খাবারের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন। অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত স্ন্যাকস ও কোমল পানীয় পুরোপুরি বর্জন করতে পারেন, তবে অবশ্যই তার বিকল্প স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস ও পানীয় গ্রহণ করুন।

প্রচুর পানি পান করুন
যতক্ষণ জেগে থাকবেন ততক্ষণ পান করুন প্রচুর পানি। এর ফলে দুই উপায়ে ভালো ফল পাবেন। পানি খাওয়ার ফলে আপনার পেট ভরা মনে হবে, ফলে অন্যান্য ক্যালরিযুক্ত খাবার কম খাওয়া হবে। এছাড়া আপনার ত্বক, কিডনিসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভালো থাকবে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য কিনুন এবং খান বেশি পরিমাণে
প্রতিদিনের বাজার করার সময় স্ন্যাকস অথবা বিকালের নাস্তার জন্য ফল, সবজিসহ দই, দুধ, ডিম, ওটমিলের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার কিনুন বেশি পরিমাণে। ওট আপনার হজমেও সাহায্য করবে। এছাড়া এটি অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি এটি মোট গৃহীত ক্যালরির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বাড়তি ওজন কমান
উৎসবের ব্যস্ততায় ঘুমের ঘাটতি হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। তবে ঘুম কম হলে, বিশেষ করে রাতের ঘুম কম হলে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। এছাড়া মানসিক স্ট্রেসও বেড়ে যায়। ফলে প্রতিদিন ঠিক যতোক্ষণ ঘুমানো জরুরি ততোটুকু সময় নিশ্চিত করুন ঘুমের জন্য। এতে আপনার শরীরও প্রয়োজনীয় বিশ্রামটুকু পাবে।

হাঁটতে যান নিয়মিত
সময় করে বাইরে খোলা হাওয়ায় হাঁটতে যান। যদি বাইরে গিয়ে হাঁটাহাঁটির সময় একেবারেই বের করতে না পারেন তাহলে ঘরের ভেতরেই ফ্রিহ্যান্ড ব্যায়াম, যোগব্যায়াম প্রভৃতি নিয়মিত করুন, অথবা ট্রেডমিলের মতো শারীরিক কসরতের যন্ত্রগুলোর সাহায্য নিয়ে নিয়মিত হাঁটুন।

- কাজী শাহরিন হক