শনিবার,২০ অক্টোবর ২০১৮
হোম / অন্দর-বাগান / রোজার মাসে ঘরে আনুন নতুন আবহ
০৬/০২/২০১৮

রোজার মাসে ঘরে আনুন নতুন আবহ

-

রোজার মাসে সংযম ও ইবাদাত মুখ্য উদ্দেশ্য হলেও ইসলাম ধর্মানুসারীদের কাছে এটি আনন্দ-আয়োজনের সময়ও বটে। তাই এ সময়টায় আপনার বাড়ি-ঘরে আনুন নতুন সাজ আর পরিবারের সবার সাথে উদযাপন করুন মাসব্যাপি রমজান।

সঠিক আবহ ঠিক করুন
রমজানের আগে বাসা সাজিয়ে নিলে ছুটির একটি আমেজ এসে পড়ে। বাসার শেলফ-এ রমজান মাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কিছু ব্যানার ও ফ্রেম দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। চাইলে মূল দরজার সামনে একটি ব্যানার লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে রোজার শেষ ১০ দিনে এগুলো সরিয়ে ঈদের ডেকোরেশন শুরু করে দিন।

লাইট লাগান
বাসায় লাইট লাগালে স্বাভাবিকভাবেই উৎসবমুখর একটি পরিবেশ তৈরি হয়ে যায়। মিশর বা অন্যান্য মুসলিম দেশে বড় লণ্ঠন দিয়ে রমজানকে স্বাগত জানানো হয়। ড্রয়িংরুম বা ডাইনিং স্পেসে, অথবা বিছানার পাশের টেবিলে কিছু বড় লণ্ঠন রাখতে পারেন। লাইটের বিভিন্ন দোকান ঘুরলে অনেক ডিজাইনের ল্যাম্প বা লণ্ঠন পাবেন। ফেয়ারি লাইটগুলো বারান্দা বা সিঁড়ির রেলিং-এ পেঁচিয়ে দিতে পারেন।

ডিসপ্লে টেবিল
বাসায় ঢোকার পরে সামনেই, না হলে ডাইনিং স্পেসে একটি ডিসপ্লে টেবিল রাখুন ও রোজার মাসের আমেজ অতিথিদের দেখান। এই টেবিলে আপনি রোজার মাস-সংক্রান্ত সব জিনিস একসাথে রাখতে পারেন, তা সেটা হতে পারে ডেকরেটিভ প্রিন্ট, স্ট্রিং লাইট, কাউন্টডাউন ঘড়ি বা খেজুরের জার। এই টেবিলেই দাওয়াতের সময় ইফতারের সব খাবার সারি করে রাখার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। ঈদের গিফটও রাখতে পারেন চাইলে এখানে।

খেজুর রাখুন
খেজুর রোজার মাসের একটা স্টেপল ফুড বলা চলে। সুন্দর একটি জারভর্তি খেজুর সাজিয়ে সহজেই ঘরে আনতে পারেন রমজানের আবহ। খেজুরের এই জারটি সেন্টারপিস হিসেবে বা কিচেন কাউন্টারে রেখে দিতে পারেন। আপনার অন্যান্য বেলার আর কেকজাতীয় খাবারেও রমজানের এই বিশেষ ফলটির স্বাদ যোগ করুন।

বাচ্চাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
বাড়ির বাচ্চাদেরকেও রমজানের এই আমেজে যোগ দিতে দিন। ঘর সাজানোর কাজে তাদের সাহায্য নিন। ইফতারের সময় বাচ্চাদের জন্য মেঝেতে সুন্দর ম্যাট বিছিয়ে দিতে পারেন। ঘরটিও সুন্দর লাগবে, বাচ্চারাও আনন্দ পাবে। তাছাড়া রমজান নিয়ে তাদের আঁকা কিছু ছবি দরজার বাইরে ঝুলিয়ে দিতে পারেন।

কাউন্টডাউনের ব্যবহার
ঈদের জন্য অপেক্ষা করাই রমজানের একটি অন্যতম একটি আনন্দ। তাই ডাইনিং রুমে একটি কাউন্টডাউন চার্ট সাজিয়ে রাখুন। এছাড়া ঈদের গিফটগুলো সুন্দর প্যাকেটে রেখে রোজার শেষ ১০দিন বসার ঘরের এক কোণেই সাজিয়ে রাখতে পারেন।

শেয়ার করুন
অন্যদের সাথে এই সময়টি শেয়ার করলে সবাই উৎসবমুখর মুডে থাকে। কিছু বিস্কিট, হালুয়া, খেজুর জাতীয় খাবার একটি ট্রে বা কেক স্ট্যান্ডে রেখে দিন ডাইনিং টেবিলে। যেকোনো ইফতারে বা ঈদের দিন অতিথিদের বাসায় আমন্ত্রণ করুন।

নিজস্ব ঐতিহ্য তৈরি করুন
যেহেতু রমজান অনেক দেশ এবং সংস্কৃতিতে বিস্তার করে, তাই এর ঐতিহ্যগুলো এক পরিবার থেকে অন্য পরিবারের জন্য আলাদা হতে পারে। নিজের পরিবারের জন্য কোনো রমজান-স্পেশাল কাজ খুঁজে নিন। চাইলেই ইফতারের আগে অপেক্ষা করার সময় সবাই কৃতজ্ঞ থাকার একটি করে কারণ খুঁজে বের করুন ও তা জমিয়ে একটি জারে রেখে দিন। এটি আপনি পরবর্তী রমজানের প্রথম রাতে বের করে পরিবারের সাথে পড়তে পারেন। আবার চাইলেই পরিবারের সবার জন্য একটি নামাজ ও কুরআন পড়ার একটি কর্নার ঠিক করে রাখতে পারেন।

লক্ষ্য রাখুন, যাতে এই পবিত্র ও ত্যাগের এই মাসটি পরিবারের সবার জন্য উপভোগ্য হয়, ঘরের আমেজে ও ঐতিহ্যে।

- নুসরাত ইসলাম