সোমবার,১৮ Jun ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / রমজানে নিয়ন্ত্রণে থাকুক ডায়াবেটিস
০৬/০২/২০১৮

রমজানে নিয়ন্ত্রণে থাকুক ডায়াবেটিস

-

প্রত্যেক মুসলিমের দ্বারে কড়া নাড়ছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। ইসলামের এই অনুশাসন মানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শারীরিক সঙ্গতি। একদিকে রোজা রাখার জন্য উপবাস করা লাগে দিনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। অন্যদিকে কিছু রোগ আছে উপবাস যাদের প্রধানতম শত্রু। তেমনি একটি রোগ হলো ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র। তবে এখন চিকিৎসাবিজ্ঞান আর ধর্মের নিয়মনীতির সমন্বয় করে রোজা রাখা সম্ভব খুব ভালোভাবেই।

রোজার আগেই যা করণীয়
আপনি যদি ডায়াবেটিক রোগী হয়ে থাকেন আবার রোজাও রাখতে চান তবে সবার আগে আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ডাক্তারের পরামর্শক্রমেই রমজানের খাদ্য ও ওষুধ গ্রহণের পরিকল্পনা নিন।

সম্ভাব্য জটিলতা
রোজার সময় ডায়াবেটিকরা যেসব জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন সেগুলো হলো-
* রক্তের সুগার অতিরিক্ত কমে যাওয়া বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া
* পানিশূন্যতা
* ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস

কেন এসব জটিলতা?
দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যেতে পারে। আবার ইনসুলিন নেয়ার ফলেও গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। পাশাপাশি ইনসুলিন গ্রহণের সাথে যদি শরীর পর্যাপ্ত খাবার না পায় তাহলেও গ্লুকোজের মাত্রা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অনেকেই খাবার গ্রহণ করা হয় না ভেবে ইনসুলিন নেওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু দেহে শক্তি জোগানোর জন্য লিভার তার সঞ্চিত সুগার নির্গত করে। এর ফলে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার শিকার হন রোগী।

জেনে রাখুন কিছু লক্ষণ
হাইপোগ্লাইসেমিয়া বোঝার উপায় হলো বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম দেয়া, মাথাঘোরা, শরীর কাঁপা, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি। অনেক সময় রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে পানিশূন্যতার লক্ষণ হলো জ্বিহবা শুকিয়ে যাওয়া, মাথাঘোরা, পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, ঝিমুনি, বমি ইত্যাদি।

খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে করণীয়
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত। গ্লুকোজের ভারসাম্যপূর্ণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বা একদম স্বল্প খাদ্যগ্রহণ এড়িয়ে চলতে হবে। ধর্মীয় রীতি মতেই সেহরির খাবার সেহরির শেষ সময়ে খাওয়া উত্তম। এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। ইফতারের সময় চর্বিযুক্ত, মিষ্টিজাতীয় এবং ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসম্মত তরল গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।

ওষুধ এবং ইনসুলিন গ্রহণের ক্ষেত্রে পরামর্শ
রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর ওষুধ গ্রহণের সময়সূচী পরিবর্তনের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, যারা তিনবার ওষুধ খান তাদের বেলায় বেশি মাত্রা ইফতারের সময় খাবেন এবং কমটুকু সেহরির সময় খাবেন। যদি দিনে দুবার খেতে হয় তবে সকালের মাত্রাটি ইফতারের শুরুতে এবং রাতের মাত্রাটি অর্ধেক পরিমাণে সেহরির সময় খাবেন।

সুগার পরীক্ষা করতে হবে নিয়মিত
বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করা যাবে, এতে রোজার কোনো সমস্যা হবে না। “সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানোর জন্য ডায়াবেটিক রোগীর উচিত সেহরির ২ ঘণ্টা পর এবং ইফতারের ১ ঘণ্টা আগে রক্তের সুগার পরীক্ষা করা,” বলেন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে সাওম বা রোজা পালন করা যাবে না এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে স্বাভাবিকের চেয়ে খানিকটা বেশি। সবাই সুস্থ থেকে পবিত্র রমজানের সমৃদ্ধি আর পুণ্য অর্জন করুন, এই প্রত্যাশা রইল।

- আহমাদ সাঈদ