মঙ্গলবার,১৬ অক্টোবর ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ইফতারের পর পেটফাঁপা রোধে
০৬/০২/২০১৮

ইফতারের পর পেটফাঁপা রোধে

-

ইসলাম ধর্মানুসারীদের জন্য রোজার মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে এসময় খাদ্যাভাসে অনিয়ন্ত্রণ নানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইফতারের মেন্যুতে আমাদের দেশে সাধারণত ভাজাপোড়া আর অস্বাস্থ্যকর খাবার প্রাধান্য পায়। আর এতেই পেট ফাঁপে আর বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় অস্বস্তি ভাব এবং ক্লান্তি যার ফলে স্বাভাবিক কাজ এবং ইবাদত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এই সময় নিম্নোক্ত খাদ্যগ্রহণের আগে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার ডায়েটের সময় উচ্চরক্তচাপসহ মাথাব্যথা আর কিডনিতে পাথরের মতো সমস্যার সৃষ্টি করে। এর সাথে পেটফাঁপার সমস্যাও হবে। তাই ইফতারে সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার পরিহার করে চলুন।

খেজুর আর দুধের অসম কম্বিনেশন
অনেকেরই খেজুর আর দুধ দিয়ে রোজা ভাঙ্গার অভ্যাস আছে। সঠিক নিয়ম মেনে না খেলে এই কম্বিনেশনটি অনেকটা টক্সিকের মতো কাজ করে। খেয়াল রাখতে হবে যেন খেজুর যথেষ্ট পাকা হয়, আর দুধের সাথে জায়ফল মিশিয়ে নিলে এই সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে।

প্রোটিন আর শর্করার মিশেল
প্রোটিন আর স্টার্চের মিশেলের খাবার বদহজমের কারণ হয়ে থাকে। সাধারণত প্রোটিন আর শকর্রার হজম প্রক্রিয়া আলাদা, তাই এর মিশেল পেটের পীড়ার কারণ হয়। ইফতারে পরিমিত পরিমাণে প্রোটিনযুক্ত খাবারের সাথে অনেক বেশি সবুজ শাকসবজি খেতে হবে।

দুগ্ধজাত খাবার এবং আইসক্রিম
দুধ, সুগার, ডিম ইত্যাদি খাবার হজমের ক্ষেত্রে সহায়ক নয়। আর তা যদি হয় আইসক্রিমের রূপে, তবে রোজার সময় তা অবশ্যই পরিহার করা উচিত। কারণ এ জাতীয় খাবার আপনার হজম প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে এবং ক্লান্তিভাব বয়ে আনবে। তবে আপেল টুকরো করে তা দারুচিনির সাথে খেলে পুষ্টি আর আরাম দুটোই পাবেন।

একইসঙ্গে দুধ আর ফলের জুস
আলাদাভাবে দুধ বা ফলের জুস ইফতার হিসেবে গ্রহণ করলে সমস্যা নেই। তবে দুধ খাওয়ার পরে কোনো এসিডিক ফলের জুস খেলে তা হজমের সমস্যা তৈরি করে। টকজাতীয় ফল দুধকে ঘন করে তোলে যা পরবর্তীতে ব্লোটিংয়ের কারণ হয়। তাই দুধ আর ফলের জুস একসাথে না খাওয়াই ভালো।

ইফতার পরবর্তী পেট ফাঁপার কিছু কমন কারণ
ইফতারের সময় কিছু নির্দিষ্ট কারণে পরবর্তীতে পেট ফাঁপার ঘটনা ঘটে থাকে, যেমন-
- ইফতারের সময় অতি দ্রুত খাবার খেলে;
- অতিরিক্ত ফ্যাট আর মশলাযুক্ত খাবার খেলে;
- ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা, কফি ইত্যাদি পান করলে;
- বেশি পরিমাণে কোমল পানীয় পান করলে,
- ইফতার গ্রহণের সাথে সাথে ঘুমালে,

পেটফাঁপা থেকে বাঁচতে করণীয়
- খালিপেটে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ ঠিক নয়, তাই ইফতারে পরিমিত পরিমানে খেতে হবে।
- ইফতারে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খান।
- কাঁটাচামচ দিয়ে খাবার খেতে পারেন, এতে করে দ্রুত খাওয়ার প্রবণতা দূর হবে আর অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ এড়িয়ে চলা যাবে।
- ভাজাপোড়া খাবার আর হাই ফ্যাট, সুগার আর মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
- ইফতারের পর ঘুমিয়ে না পড়ে হালকা হাঁটাচলা করুন।
- প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

- তানভীর জাহান