শুক্রবার,২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / ভ্রূণের কাহিনি
০৫/০৩/২০১৮

ভ্রূণের কাহিনি

- মতিন রায়হান

তবু তুই রোদ্দুর ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাক
আমি না হয় বাতাসের সঙ্গেই বাঁধি ঘর!
কিছু পাগলামি ছড়িয়ে দিই
নদীর ঢেউয়ে, কোলাহলে
কুয়াশার মতো ঝাপসা অস্পষ্ট
রাতের রতিলিপি
ভ্রূণের কাহিনি হয়ে গড়িয়ে পড়ে
সকালের রোদে
তোর বসন্তদিনে
আমার মায়াময় শীত রান্না করে
অষ্টব্যঞ্জন
তুই খাবি না সই?

কে বলে তোর হাত মৃত্যুর মতো হিম?
আমি তো উষ্ণতাকেই বুকে তুলে নিই
অতীতচারিতা থেকে বেরিয়ে আসে
গল্পের হাত-পা, মাথা কিংবা ধূসর ঠৌঁট
গোপন নদীর কাছে জমা রাখি তোকে
তুই ডুবসাঁতারে আয়...
স্বজনসুবাসে ভাসে মৎস্যগন্ধা-নারী
ও নদী জল দাও
শরীরী-চৈতন্যে
মনমাঝি বেঘোরে ঘুমায়
দিন যায়...
ভালোবাসা, তবু তুই লেপ্টে থাক গায়ে গতরে..


জলম্যাজিকের ভোরবিদ্যা
ফকির ইলিয়াস

আমি বহুবার লিখিত হয়েছি মেঘজীবনীর খাতায়।
বহুবার; জলম্যাজিকের ভোরের ভেতর নিজেকে-
আবিষ্কার করতে করতে দেখেছি, প্রেমিক হয়ে উঠছি
বিকিরণের। কখনও প্রণয়ে জড়িয়ে পড়েছি পারমাণুর
সাথে। যে জল ছাই রেখে যায়,
ভেসেছি বহুকাল সেই জলে, সেই বাষ্পানলে।

তালি দেয়া ক্যাম্বিসের গায়ে আঁকতে চেয়েছি একটি
সনাতন সূর্যের মুখ। যে গ্রহে মানুষ বাস করে,
কিংবা যে শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে ঈশ্বরের চোখ-
চেয়েছি সেই চোখে রেখে যেতে আমার নেত্রযুগল।

আমি কোনও দিনই আত্মকাব্য লিখবো না,
এই শর্তে আষাঢ়কে বলেছি,
তুমিই না হয় আমাকে একটু ভালোবাসা দিও।


সঞ্চয়ে প্রথমটুকু
এলিজা খাতুন

থমকে দাঁড়ায় যদি সচল সম্পর্ক,
যদি সুদীর্ঘ দিন হয় দুর্দিনের প্রতিচ্ছবি,
সান্নিধ্যে অতিবাহিত সময় যদি হয়-
হাহাকারের পিরামিড,
ব্যর্থ আস্ফালন বেজে ওঠেই সামঞ্জস্যের নূপুরে

অন্তরের ঐশ্বর্য জলাঞ্জলি দেওয়া কেন অমন পদক্ষেপে!

সম্মুখ যাত্রায় পেছনের টান-
টানের বদলে টান মুছে ফেলা ঢেউ হয় যদি!
সতর্কের গহীনে হারায় যদি সজনের বুকের গভীরতা
যদি ইতিবৃত্ত শুনি-
ঠোঁটের উপর ভর করা অর্ধস্ফুট ধ্বনির
অসময়ের ছন্দে কেন তবে শব্দ-বিন্যাস-অন্বষণ!
কোন্ মোহন-বাক্য গঠন হয় তাতে!

অসুবিধা কি! তার চাইতে অটুট বোধে-
চেয়ে থাকা বিস্ময়খানি আকস্মিক বেড়ে গিয়ে-
দূর থেকে ফের শুরু হয় যদি প্রথমটুকু!


শুধু একটি কমলা খেতে চেয়েছিলে
আনোয়ার কামাল

তুমি শুধু একটি কমলা খেতে চেয়েছিলে
স্রেফ একটি কমলা
মৃত্যুর শেষ ঘণ্টা নিয়ে দপ্তরি ঠিক দাঁড়িয়ে
অপেক্ষায় ছিল তোমার কমলা খাওয়ার

আমরা কেউ তখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি
তোমার প্রেয়সীও খানিক বিরক্তিতে কুঁকড়ে ছিল
আর তোমার প্রিয় দুজন ভক্ত-
তারা হাল ছাড়েনি
একের পর এক তোমার কালজয়ী কবিতার পঙ্ক্তি
আওড়ে যাচ্ছিলো অবলীলায়

তুমি শুধু একটি কমলা খেতে চেয়েছিলে
আহা! কমলা; পৃথিবীর মতো কমলা-
শেষবারে শুধু একবার
তুমি একটা কমলা খেতে চেয়েছিলে!