শনিবার,১৮ অগাস্ট ২০১৮
হোম / সম্পাদকীয় / প্রকৃতির অশনি সংকেত
০৫/০২/২০১৮

প্রকৃতির অশনি সংকেত

-

ঢাকা অনেক ক্ষেত্রেই একটি বদ্ধ শহরের মতো। বিশেষ করে শিশুদের জন্য। এজন্য ছুটির দিনে কিংবা বিকেলের অবকাশে বাচ্চাদের নিয়ে বের হয়ে পড়েন অনেকে। শিশুদের অবকাশের জন্য ঢাকাবাসী যেসব জায়গায় ছুটে আসেন তার মধ্যে সংসদ ভবন এলাকা অন্যতম। সম্প্রতি সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউ দিয়ে যাতায়াত করার সময় যে কেউ লক্ষ্য করলেই দেখতে পারবেন আশপাশে ভেঙে পড়ে আছে অনেক গাছগাছালি।

বৈশাখ মাসটা কালবৈশাখীর। এ সময় হঠাৎ ঝড় উঠবে-এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কিন্তু বিস্ময়টা অন্যখানে। যাদের স্মৃতিশক্তি ভালো, যারা গত ত্রিশ-চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রকৃতির ভেতরে বড় হয়ে উঠেছেন, তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করছেন যে, কালবৈশাখীর সংখ্যা ও তাণ্ডব দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। এটা আমাদের জন্য এক ধরনের অশনি সংকেত। কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কালবৈশাখীর ধরন নিয়ে। ডিসকভারি বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফির সৌজন্যে আমরা প্রায়শই দেখতে পাই যুক্তরাষ্ট্রের নানা অঞ্চলের টর্নেডোর তাণ্ডব। আল জাজিরার গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পৃথিবীর আরো একটি অঞ্চল টর্নেডোর মতো দ্রুতগতির ও ধ্বংসাত্মক দুর্যোগের জন্ম দিচ্ছে, সেই অঞ্চলটি ভারতের পূর্বাংশের রাজ্য ও বাংলাদেশ। দুই সপ্তাহ আগে, এপ্রিলের মাঝামাঝিতে কলকাতার উপকণ্ঠে যে কালবৈশাখী হানা দিয়েছিল, ঘণ্টায় তার গতিবেগ ছিল একশো কিলোমিটারের কাছাকাছি। সার্কের আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, কালবৈশাখীর মৌসুমে বজ্রঝড়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে দুই থেকে তিনশো মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এক কালে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে হাসাহাসি করা হতো। যদি পূর্বাভাসে বলা হতো আজ ঝড়বৃষ্টি হবে, তো দেখা যেত সারাদিন রৌদ্রতপ্ত দিন, বৃষ্টির ছিটেফোঁটাও নেই। আবার রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের কথা বললে অনেকে ছাতা নিয়ে বের হতেন যে, আজ বৃষ্টি হবেই। আসলে কয়েক শত আলামত ও উপকরণের সূক্ষ্ম হিসেবনিকেশের মাধ্যমে দেওয়া হয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস। সেসবের কোনো একটির সূক্ষ্ম পরিবর্তনও মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারে পুরো আবহাওয়ার চিত্র। তবে বর্তমান সময়ে আধুনিক বিজ্ঞান আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনেকটাই ঠিকঠাক মতো দিতে পারে। এজন্য ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বিকেলবেলা সংসদ ভবন বা খোলা কোনো প্রাঙ্গণে ঘুরতে বের হওয়ার আগে সেদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসটা খুব সহজেই জেনে নেওয়া যায়। যাদের হাতে স্মার্টফোন রয়েছে, যারা ফেসবুকের ভার্চুয়াল জগতে মশগুল থাকেন দিনরাত, তাদের জন্য এটুকু জেনে নেওয়া কোনো কঠিন কাজ নয়। এটুকু সচেতনতা নিজের ভেতরে গড়ে তুলুন, অন্যকেও সচেতন করুন।

বিশ্বজুড়েই জলবায়ু পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশ। বায়ুমণ্ডলে সঞ্চিত হচ্ছে বেশি বেশি তাপ। আর তার ভারসাম্য আনতে গ্রীষ্মের শুরুতে আমাদের দেশে ঘন ঘন আঘাত হানছে কালবৈশাখী বজ্রঝড়। প্রকৃতির ওপর অত্যাচর করলে তার প্রতিশোধ হয়ে ওঠে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। প্রকৃতির সবচাইতে বড় ভারসাম্যরক্ষাকারী জাদুকরী বস্তুটির নাম গাছ। সুতরাং বৃক্ষরোপণই হতে পারে প্রকৃতিকে সন্তুষ্ট রাখার শ্রেষ্ঠ উপায়।

সবাই সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।

- তাসমিমা হোসেন