মঙ্গলবার,২২ মে ২০১৮
হোম / ভ্রমণ / মরিশাসঃ নীল-সবুজের দ্বীপপুঞ্জ
০৪/২৬/২০১৮

মরিশাসঃ নীল-সবুজের দ্বীপপুঞ্জ

-

আফ্রিকান মহাদেশের পূর্বে ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র মরিশাস। আগ্নেয়গিরির কালো কাঁদা মাটি সমুদ্রতল থেকে বুদবুদের মতো উঠে আসে উপরে, আর সেই মাটি জমে গিয়ে তৈরি হয় মরিশাস দ্বীপপুঞ্জ। সেটা প্রায় কয়কশ হাজার বছর আগের কথা। বর্তমানে মরিশাস বিশ্বের নানা দেশের মানুষের এক মিলন মেলা এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি টুরিস্ট ডেস্টিনেশান। মরিশাসের দিগন্তজুড়ে শুধু স্বচ্ছ নীলাভ পানি এবং আকাশ, মাঝের উর্বর দ্বীপে আছে হরেকরকম জীবজন্তু এবং সবুজের সমাহার। নাতিশীতোষ্ণ দেশ হওয়ায় মরিশাসে হানিমুনে আসা দম্পতীদের ভিড় লেগেই থাকে। বিশ্বের অন্যতম সুন্দর কিছু সমুদ্র সৈকত আছে এই ছোট্ট মরিশাসের আশপাশেই।

পেরেই বেরে
সুবিশাল ভারতীয় মহাসাগরের স্বচ্ছ নীল পানির দিকে শান্তিতে চোখ মেলে যদি পূর্বের সূর্যোদয় এবং পশ্চিমের সূর্যাস্ত দেখতে চান, তাও বিলাসী লাক্সারি হোটেলের দুয়ারে বসে, তাহলে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হওয়া উচিত মরিশাসের পেরেই বেরে সৈকত। ২০১০ সালে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা পেরেই বেরে বীচ-কে এক জরিপে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সৈকত হিসেবে নির্বাচিত করে। এই সৈকত থেকে আপনি কাচের তৈরি নৌকায় চড়তে পারবেন, আর পানির উপর ভেসে দেখতে পারবেন অসম্ভব সুন্দর কোরাল এবং সামুদ্রিক প্রাণীর চলাফেরা। শান্ত সৈকতে আপনি সাঁতারও কাটতে পারবেন কোনো সমস্যা ছাড়া। স্কুবা ডাইভিং করেও উপভোগ করা যাবে স্বচ্ছ পানির নিচের রঙিন দুনিয়া। স্ট্রিট ফুড এবং হকারদের কাছে কেনাকাটার জন্যও পেরেই বিচ বেশ জনপ্রিয়।

ইলে ও আইগত
মরিশাসের ইলে ও আইগত স্থানটি বর্তমানে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার জন্য অন্যতম একটি স্থান। এই বনের মাঝে সাফারি করে দেখতে পারবেন বিশ্বের সবচাইতে বিরল পাখির বসবাস। গ্রিন গেকো, অত্যন্ত বিরল গোলাপি কবুতর এবং আলদাব্রা জাইয়ান্ট কচ্ছপও দেখতে পাবেন এই অঞ্চলে।

ব্লু বে
পর্যটকেরা বলে ব্লু বেতে পৃথিবীর বুকে সবচাইতে নীল পানির সৈকত আছে, যার স্বচ্ছ সাদা বালু এবং ভলকানিক রক সৌন্দর্যের আরেক মাত্রা যোগ করেছে। রাজধানী পোর্ট লুই থেকে বোটে করে সমুদ্রপারি দিলেই পৌঁছানো যাবে ব্লু বে অঞ্চলে। সেখানে স্কুবা ডাইভিং করে দেখতে পারবেন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং ছোট হাঙ্গরের প্রাকৃতিক মেরিন পার্ক। গ্লাসের তৈরি নৌকায় সেখানেও ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

রচেস্টার ফলস
সুলিয়েক অঞ্চল থেকে ২.৫ কিলোমিটার থেকে ভিতরে গেলেই দেখা মিলবে রচেস্টার ফলসের। পাহাড়ের চূড়ার জলপ্রপাত এসে পড়েছে আগ্নেয়গিরির তৈরি গুহায়। প্রাকৃতিকভাবে পানি ফিল্টার হওয়ার ফলে এই গুহার ভেতরে স্বচ্ছ এবং নীলাভ পানির দেখা মেলে। অনেক উপর থেকে দেখলেও গুহার একদম নিচ পর্যন্ত দেখা যায় স্ফটিকের মতো পানির মাঝ দিয়ে। এই ফলস পর্যটকদের কাছে ডাইভিংয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয়।

তামারিন বিচ
বেশ কিছু সৈকতে পানি শান্ত থাকলেও, পশ্চিমের তামারিন বিচে দেখতে পাবেন স্বচ্ছ পানির ঢেউয়ের খেলা। সার্ফিং এর জন্য এই বিচ মরিশাসে সবচাইতে জনপ্রিয়। শ্বেতবর্ণের বালির উপর সবুজ স্বচ্ছ পানির নিরন্তন ঢেউ ভাঙা একটি চোখ জুড়ানো দৃশ্য বটে। মৃত ভলকানো মন্তা দু রম্পো সোজা দাঁড়িয়ে আছে এই সৈকতেই। ডলফিনের বসাবাসও রয়েছে সৈকতের খুব কাছেই।

টুরিস্টদের থাকা খাওয়ার জন্য মরিশাসের প্রত্যেকটি অঞ্চলই বেশ নামকরা। সি ফুড বাদেও লোকাল কিছু ফলমূল অত্যন্ত সুস্বাদু ও জনপ্রিয়। ভূস্বর্গ মরিশাসে যেতে হলে অনেক দেশের নাগরিকের কোনো ভিসা প্রয়োজন হয় না, তবে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা দরকার হয়। সরাসরি কোন মিশন বাংলাদেশে না থাকায় মরিশাসে যেতে হলে আপনাকে ভিসা নিতে হবে ভারতে অবস্থিত মরিশাস এমব্যাসি থেকে এবং ফ্লাইও করতে পারবেন সরাসরি ভারত থেকে।

- কাজী মাহদী আমিন