শনিবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯
০৪/১৯/২০১৮

জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯

-

ধরুন, ঘড়িতে রাত দু’টো, হঠাৎ আপনার নিজের ঘুম ভেঙে গেল প্রচন্ড বুক ব্যথায়, বুঝতে পারছেন যে এক্ষুনি হাসপাতালে যাওয়া না হলে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে, অথচ আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ নেই বাড়িতে। অথবা হঠাৎ দেখলেন প্রতিবেশি কোনো এক বাড়ির জানালা দিয়ে বেরোচ্ছে অস্বাভাবিক রকমের বেশি ধোঁয়া। কিংবা ছুটির দিনে দুপুরে আপনার বাসার দরজা ঠেলে জোর করে ঢুকে পড়লো অপরিচিত কিছু লোক। কী করবেন এমন অবস্থায়?

যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাইন ওয়ান ওয়ান’ (৯১১) বিশ্বব্যাপী খুব পরিচিত বিশেষ একটি নাম্বার, যা বিভিন্ন জরুরি অবস্থাগুলোতে সাহায্য চাওয়ার জন্য ব্যবহার করে থাকেন ওই দেশটির জনসাধারণ। সম্প্রতি বাংলাদেশেও চালু হয়েছে জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯।

প্রায় এক বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে জরুরি সেবা নাম্বারটি চালানোর পরে গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। যে-কোনো মোবাইল বা ল্যান্ডফোন থেকে এই নাম্বারে জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য কল দেয়া যাবে।

‘জাতীয় জরুরি সেবা’ নামে এই সেবা লাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কল করা যাবে। মোবাইলে টাকা না থাকলেও ‘৯৯৯’-এ কল করা যাবে। মূলত পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা চালু এই সেবাটি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাকার আব্দুল গনি রোডের মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে।

কখন ৯৯৯ নাম্বারে কল করবেন?

- কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে;

- প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে;

- কোনো হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে অথবা কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে;

- কেউ কোনো বিপদে পড়লে অথবা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে;

- কোথাও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে;

- কখনও জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলে।

সাহায্যের আবেদনকারীকে একই প্রশ্নের উত্তর একাধিকবার দিতে হতে পারে। ‘৯৯৯’ থেকে কল ট্রান্সফার হয়ে পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিস বা হাসপাতালে পাঠানো হলে এমনটা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ধৈর্যের সঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং দ্রুত সেবার জন্য সঠিক অবস্থানের বিষয়টি জানাতে হবে।

২০১৬ সালের ১লা অক্টোবর থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে জাতীয় জরুরি সেবার পরীক্ষমূলক পর্যায় চালু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক সেবাটি চালু ছিল।

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৩৩ লাখ কল পায় এই সেবা লাইন। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ কল ছিল পুলিশ সেবার জন্য, ৩১ দশমিক ১ শতাংশ ছিল দমকল বাহিনীর জন্য এবং ৪ দশমিক ১ শতাংশ ছিল অ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য।

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, ৯৯৯ সার্ভিসের জন্য বিশাল তথ্য ভান্ডারের মোবাইল অ্যাপস ও ওয়েবসাইট রয়েছে, যা ব্যবহার করে জরুরি মুহূর্তে সহযোগিতা দেওয়া হবে। মোবাইল অ্যাপস বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ৯৯৯ সার্ভিসের হেল্প ডেস্কে সরাসরি কথা বলা ছাড়াও প্রতিনিধির সঙ্গে লাইভ চ্যাট করা যাবে।

এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অধিদফতর দ্বারা পরিচালিত কল সেন্টারগুলোতে সরাসরি কল করা যাবে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন হাসপাতালের প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর ও লোকেশন ম্যাপও রয়েছে এই অ্যাপস ও ওয়েবসাইটে। যে কেউ নিজের লোকেশনের তথ্য দিলে এই ফিচারটিতে নিকটবর্তী পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও লোকেশনের ম্যাপ প্রদর্শিত হবে।

- কাজী শাহরিন হক