শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮
হোম / অন্দর-বাগান / ছাদে বা বারান্দায় ফলের বাগান
০৪/০৯/২০১৮

ছাদে বা বারান্দায় ফলের বাগান

-

গাছপ্রেমী অ্যাপার্টমেন্ট-এর বাসিন্দাদের মনের একটি বড় হতাশা হোল সবুজের সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হওয়া। তবে একেবারে বঞ্চিত না থেকে আপনি বারান্দা বা ফ্ল্যাট বাড়ির ছাদে সহজেই গড়ে তুলতে পারেন আপনার মন মত ছোট্ট বাগান। আর সে বাগান যে শুধু সিলেক্টেড কিছু ফুল আর শাক সব্জিরই হতে হবে তা কিন্তু নয়। একটু খোজ খবর নিয়ে ইচ্ছে করলেই ছোট্ট বাগান করে তাতে বিভিন্ন ফলমূল চাষ করা যায়। এক্ষেত্রে ভালো কোনো নার্সারি থেকে কয়েকটি রোগমুক্ত পাত্র/পট কিনে শুরু করতে পারেন, পরে সময়ের সাথে সাথে গাছগুলোকে মিডিয়াম সাইজের পটে স্থানান্তরিত করে নেবেন। ২০-২৫ গ্যালন সাইজের পট একটি পরিপূর্ণ ফলগাছের জন্য আদর্শ। চলুন দেখে নেই কোন ফলের গাছগুলো সহজেই জায়গা করে নিতে পারবে আপনার বাড়িতে।

লেবু
সময়ের সাথে সাথে কন্টেইনার গার্ডেনিং-এর জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে লেবুগাছ। লেবু একটি গ্রীষ্মপ্রধান ফল। যদিও সব ধরনের লেবুই পাত্রে জন্মানোর জন্য উপযুক্ত, তবে জায়গা ও আবহাওয়া বুঝে কয়েকটি প্রজাতির লেবু ভালো ফলে। চারা কেনার সময় নার্সারির সাথে এ ব্যাপারে পরামর্শ করে নিতে পারেন। বাসার বাইরের প্রাঙ্গণ, ছাদ কিংবা বারান্দাই হোক না কেনো, লেবু ফল সৌন্দর্যের সাথে সাথে সুগন্ধ উপভোগ করারও সুযোগ দেয়। উদ্ভিদের মূলের তুলনায় ২৫% বড় একটি মাটির পাত্রে লেবু চারা বুনে দিন। লেবু ফল হওয়ার জন্য এদের দৈনন্দিন ৭-৮ ঘণ্টা সূর্যের আলোর ব্যবস্থা করুন।

স্ট্রবেরি
স্ট্রবেরি গাছ নিঃসন্দেহে পাত্রে বড় করার জন্য সবচেয়ে ভালো, কারণ এরা খুব সহজেই ফল দেয়। স্ট্রবেরি গাছের জন্য বড় পাত্র বা খোলামেলা জায়গা লাগে না, চাইলেই শহরের যেকোনো ছোট বারান্দা বা জানালার পাশে এরা বড় হতে পারে। স্ট্রবেরিই একমাত্র ফল যা আপনি চাইলে ঝুলন্ত বাস্কেট, জানালার কর্নার বা বাক্স, উলটো টব বা বাগানে লাগাতে পারেন। একমাসের মধ্যেই স্ট্রবেরি ফল বেছে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

ডালিম
ডালিম ফল একটি রসালো ও স্বাস্থ্যকর ফল, তার সাথে এটি বড়ও হয় খুব সহজে। ডালিম গাছের বৃদ্ধি অন্যান্য বড় ফলের গাছের তুলনায় বেশ দ্রুত হয় কেননা এদের মূল অগভীর। ডালিম গাছগুলো সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে উজ্জ্বল জায়গাটি বেছে নিন। ডালিম গাছ যত আলো পাবে, তত বেশি ফল হবে। বাড়ির ভেতরে হালকা ছায়ায়ও ডালিম গাছ বেঁচে থাকে কিন্তু তখন এদের বৃদ্ধি ধীরে হবে এবং ফলনও কমে যাবে। জানালার পাশে সূর্যালোক প্রবেশ করলে ডালিম গাছ সেখানেও ফল দিতে পারবে।

পেয়ারা
পেয়ারা গাছ এর সুবাসিত ফুল, সুস্বাদু ফল ও গ্রীষ্মপ্রধান উজ্জ্বল লুক দিয়ে পুরো বাড়িকে সুন্দর করে তুলবে। পেয়ারা গাছ শুষ্ক এবং উষ্ণ পরিবেশে অনায়াসে বেড়ে উঠে। এটি একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছ কিন্তু হালকা শীতের দিনেও এরা বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। পেয়ারা ফল পেতে গাছটিকে এমন জায়গায় রাখুন যাতে এরা প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা সূর্যের আলো পায়। যখন গাছটি ছোটো থাকে বা ফুল দিতে থাকে, এতে প্রতিদিন বেশি করে পানি দিবেন মাটিকে সবসময় সামান্য আর্দ্র রাখার জন্য।

তরমুজ
পর্যাপ্ত যত্ন ও শুকনো মাটি পেলে তরমুজগুলি পাত্রে খুব সহজে বেড়ে ওঠে। তরমুজ আর শসার ফলন অনেকটা একই ধরনের। তরমুজ গাছটি অবশ্যই রোদেলা একটি জায়গায় রাখতে হবে। কিন্তু ছাদে জায়গা না থাকলে ব্যালকনিতে বা ছোটো জায়গায় গাছটিকে উল্লম্বভাবে জালির উপর বড় হতে দিন। এক্ষেত্রে জালিটি অবশ্যই ন্যূনতম ৪ ফুট লম্বা এবং তরমুজগুলোর ভার বহন করার মতো পোক্ত হতে হবে।

কলা
একটি পাত্রের মধ্যে কলাগাছের বেড়ে ওঠা খুবই সহজ। পাশাপাশি কলার সবুজ ও হলুদ উপস্থিতি বাগানে ভিন্ন একটি লুক ও অনুভব নিয়ে আসে। কলাগাছ সাধারণত পৃথিবীর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলোতেই হয় আর তাই এরা পরিপূর্ণ সূর্য, তাপ ও আর্দ্রতা ভালোবাসে। কলাগাছ আপনার বাগানে একটি চমৎকার সংযোজন হতে পারে কারণ এরা তেমন কোনো যত্ন ছাড়াই খুব সহজে বড় হয়। ছোটকলা যেকোনো জায়গায় ২-৪ মিটারের মধ্যে বড় হতে পারে।

আনারস
আনারস গাছগুলো সাধারণত ছোট ও আঁটসাঁট হয় এবং এরা ৩-৬ ফুটের চেয়ে বেশি লম্বা হয় না। তাছাড়া ডালিম গাছের মতো এদের মূলও বেশ অগভীর হয়, তাই সহজেই পাত্রে বড় হয়ে ওঠে এরা। আনারস গাছের বেঁচে থাকার জন্য অনবরত উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ দরকার হয়। এদের দৈনিক কয়েক ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোকের নিচে রাখতে হবে।

- নুসরাত ইসলাম