শনিবার,১৭ নভেম্বর ২০১৮
হোম / সম্পাদকীয় / শক্রতা কেন নিজের শেকড়ের সঙ্গে?
০৪/০৯/২০১৮

শক্রতা কেন নিজের শেকড়ের সঙ্গে?

-

সম্প্রতি বাংলা নববর্ষকে কলুষিত করার চেষ্টা হচ্ছে নানাভাবে। বলা হচ্ছে, এই উৎসব এটা বিরোধী ওটা বিরোধী ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের ভেতরে এই বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে কয়েক দশক ধরেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হেনস্থার শিকার হচ্ছে উৎসবমুখর নারীরা। প্রায় দুই দশক আগে বর্ষবরণ উৎসবে বোমা হামলা চালানো হয় রমনা বটমূলে।

যারা এই বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তারা বাস করছেন মূর্খের স্বর্গে। তারা জানেন না, বাংলা সনের উৎপত্তি হয়েছে এই দেশের মানুষের জীবনধারা এবং প্রকৃতির সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরির জন্য। হিজরি চান্দ্রসন ও সৌরবর্ষকে ভিত্তি করে ফসল বোনা এবং খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য প্রবর্তিত হয় এই নতুন সন। সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তন করেন বাংলা সন। এই হিসেবে বাংলা সনের ঐতিহ্য চারশ’ ৩৪ বছরের। এত বছরে এই সন এখন মিশে গেছে সমগ্র বাঙালি জাতির অস্থিমজ্জায়। চৈত্রে রবিশস্য, বৈশাখে বোরো ধান, জ্যৈষ্ঠে পাকা আম-কাঁঠাল, আষাঢ়-শ্রাবণে ঘনঘোর বর্ষা ও নদীজল ছলছল, শরতে কাশবনে বাতাসের দোলা, অঘ্রাণে নবান্নের উৎসব, পৌষে পিঠাপুলির ধুম, মাঘে কনকনে শীত-এসবই আমাদের লোকায়ত জীবনধারার অতি পরিচিত অনুষঙ্গ। এসবের শুরু হয় বাংলা নববর্ষের ভেতর দিয়েই। নববর্ষের চিরাচরিত উৎসবের মধ্যে রয়েছে হালখাতা, চাষাবাদ, বীজ বপন, বৈশাখী মেলা, মধুমাসের মেলা ও আঞ্চলিক উৎসব।

এইদিক থেকে পয়লা বৈশাখ পরমত সহিষ্ণুতা, সদ্ভাব, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মনুষত্বের দীক্ষা দেয়। আমাদের অন্তরকে বিকশিত করে, নিজের মাটিকে চেনায়, শেকড়কে চেনায়। সুতরাং যতই বিভেদরেখা টানার চেষ্টা হোক বাংলা নববর্ষ নিয়ে, এটা আসলে নিজের শেকড়ের সঙ্গে শক্রতার শামিল। ক্রিকেট-ফুটবল বিজাতীয় খেলা হয়েও যদি আমাদের প্রাণের খেলা হয়ে উঠতে পারে, তা হলে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে কেন ভেদাভেদের প্রশ্ন উঠবে? সময় এসেছে সারা বিশ্বকে চক্ষু মেলে দেখবার। সেই সঙ্গে দৃষ্টি দিতে হবে নিজের অন্তরের দিকে, নিজের মাটি ও প্রকৃতির দিকে। তা হলেই বুঝতে পারব, আমরা আলাদা কেউ নই। একটি সুক্ষ বিনিসূতায় গেঁথে রয়েছি সবাই পরস্পরের সঙ্গে। সকল ভেদাভেদ ভুলে নিজেকে রাঙাতে হবে উৎসবের রঙে।

সমাজের প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলছেন অদম্য, নিবেদিত, অত্যন্ত কর্মনিষ্ঠ অসংখ্য নারী। এই নারীদের ভেতর থেকে নির্বাচিত দশজনকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর দেওয়া হয় অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা। এবারও ৭ এপ্রিল প্রদান করা হচ্ছে ২০১৭ সালের দশজন শীর্ষ নারীকে। সম্মাননা-প্রাপ্ত এই দশ নারীর জন্য রইল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

বাংলা ১৪২৫ উপলক্ষে সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

শুভ নববর্ষ।

- তাসমিমা হোসেন