মঙ্গলবার,১৩ নভেম্বর ২০১৮
হোম / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / বিজয় থেকে অভ্রঃ বাংলা লিখুন প্রাণ খুলে
০৩/১৯/২০১৮

বিজয় থেকে অভ্রঃ বাংলা লিখুন প্রাণ খুলে

-

একবার ভাবুনতো ফেসবুকে মনের মতো স্ট্যাটাস দিতে চাচ্ছেন অথচ বাংলা লেখার কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই আপনার কাছে! ইংরেজিতে কিংবা ইংরেজি বর্ণে বাংলা লেখা হয়তো সাময়িক সমাধান দিবে এক্ষেত্রে, তবে নিজের ভাষায় লেখার যে আনন্দ তা অপূর্ণ থেকেই যাবে। নিজ ভাষায় লেখার এই অপূর্ণতা দূর করেছে বিজয়, অভ্র এবং রিদমিকের মতো বাংলা লেখার এই সফটওয়্যারগুলো। ভাষার মাসে তাই এই সফটওয়্যারগুলোর ইতিবৃত্ত জেনে নেয়াটা প্রাসঙ্গিক এবং দরকারিও বটে।

বিজয় কি-বোর্ড
আমাদের দেশে কম্পিউটারে বাংলা ফন্টে লেখার হাতেখড়ি হয়েছে বিজয় কি-বোর্ডের মাধ্যমে। সদ্যমন্ত্রিত্ব লাভ করা প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তা মোস্তাফা জব্বারের মাধ্যমে বাংলা কি-বোর্ড সফটওয়্যারের প্রচলন শুরু হয়। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর সফটওয়্যারটির প্রথম সংস্করণ বাজারে নিয়ে আসেন মোস্তাফা জব্বার। বাণিজ্যিকভাবে নির্মিত হলেও মূলত বিজয় কি-বোর্ডের মাধ্যমেই কম্পিউটারে বাংলা টাইপের দ্বারোন্মোচন হয় এবং যার হাত ধরে মুদ্রণ শিল্পেও আসে ব্যাপক পরিবর্তন এবং বলাবাহুল্য অফিস-আদালত থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে মাতৃভাষায় লেখ্য ব্যবহার বেড়ে যায় বহুগুণে। ইউনিকোড ভিত্তিক অভ্র কি-বোর্ড আসার পূর্ব পর্যন্ত বাংলা লেখার সফটওয়্যার জগতে বিজয়-কি বোর্ডের ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। ইউনিকোড সাপোর্টের জন্য বিজয়-এর দ্বিতীয় সংস্করণ ২০০৯ সালে বাজারে আসে।

অভ্র
‘ভাষা হোক উন্মুক্ত’- স্লোগানের মতো প্রকৃতপক্ষেই ভাষাকে সবার মাঝে উন্মুক্ত করেছে বহুল ব্যবহৃত ও তুমুল জনপ্রিয় বাংলা লেখার সফটওয়্যার অভ্র কি-বোর্ড। উইন্ডোজে ইউনিকোড ভিত্তিক লেখার জন্য ২০০৩ সালের ২৬ মার্চ বাজারে আসে ডা. মেহদী হাসান খান ও তার সহযোগীদের নির্মিত অভ্র কি-বোর্ড। এক কথায় বলতে গেলে ইংরেজি বর্ণমালা ব্যবহার করে অর্থাৎ বাংলিশ টাইপ করে বাংলা লেখার ব্যবস্থা রয়েছে অভ্র কি-বোর্ডে আর এই ফিচারটিই সফটওয়্যারটির জনপ্রিয়তার মূল কারণ। পেশায় ডাক্তার হলেও মেহদী হাসান খানের বানানো এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে বাংলা লেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, অফিস-আদালত পেরিয়ে তাই ব্যক্তিগত কাজে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে অভ্র। অভ্র কি-বোর্ডকে একেবারে বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দিয়ে বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন একই সাথে ডাক্তার এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামার মেহদী হাসান খান। তার এই উদ্যোগ টিকে থাক যুগ যুগ ধরে, মনের সুখে বাংলা লিখুক নতুন প্রজন্ম।

রিদ্মিক কি-বোর্ড
এতক্ষণ তো কথা হলো কম্পিউটারে বাংলা লেখার প্রসঙ্গে, এবার আসা যাক মোবাইলে বাংলা লেখার কথায়। অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ডিভাইসে বাংলা লেখার জনপ্রিয় একটি অ্যাপ হলো রিদ্মিক কি-বোর্ড। বাংলা ফোনেটিক লেআউট সমৃদ্ধ এই কি-বোর্ডটি অভ্র-এর মতোই কাজ করে এবং বলার অপেক্ষা রাখে না সহজ-সরল ফিচারের জন্য স্মার্টফোনে বাংলা লেখার অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সফটওয়্যার।

দেশিয় প্রযুক্তি নিয়ে অল্প-বিস্তর খোঁজখবর রাখেন যারা তারা নিশ্চয়ই বিজয়-অভ্র বা বিজয়-রিদ্মিক এর মধ্যকার বিতর্কের কথা শুনেছেন। এই লেখায় ইচ্ছাকৃতভাবেই সেদিকে না গেলাম। বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে এই সবগুলো এবং এর বাইরে আরো বেশ কিছু সফটওয়্যারের ভূমিকা রেখেছে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে ও সময়ে এই সফটওয়্যারগুলো এবং এর নেপথ্যের কারিগররা তাই সম্মান ও আন্তরিক ধন্যবাদের দাবিদার।

- নাসিফ রাফসান