রবিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৮
হোম / ফিচার / গলফার অরণিঃ স্টিক হাতে একজন অনন্যা
০৩/০৮/২০১৮

গলফার অরণিঃ স্টিক হাতে একজন অনন্যা

-

ক্রিকেট-ফুটবলপাগল বাংলাদেশিদের কাছে গলফ অনেকটাই অপরিচিত একটি খেলা। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গলফার সিদ্দিকুর রহমানের সাফল্যের মাধ্যমে সাম্প্রতিককালে খেলাটির পরিচিতি বেড়েছে। যদিও এতদিন ধরে বিশ্বব্যাপী নামকরা এই খেলাটিতে বাংলাদেশি নারীদের পেশাদারভাবে অংশগ্রহণ ছিল না, সেই আক্ষেপও এবার ঘুচেছে। দেশের প্রথম পেশাদার নারী গলফারের খেতাব পেয়েছেন সামাউন আঞ্জুম অরণি।

অরণির প্রথম পরিচয় তিনি বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার নারী গলফার। তবে এর পাশাপাশি দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী- এই পরিচয়টাও উল্লেখ করার মতো। স্বামী সিদ্দিকুর বেশ কয়েকবছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। সে জায়গায় অরণিও গলফের ক্লাব হাতে দেশের মেয়েদের জন্য অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গত ২৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএ) অরণির হাতে ‘প্রো-কার্ড’ তুলে দেয়। এক কথায় বলতে গেলে পেশাদার পর্যায়ে গলফ খেলার সার্টিফিকেটের মতো কাজ করে এই কার্ড।

তবে এই কার্ড অর্জনের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। স্কুল জীবনে মাথায় গলফের পোকা না থাকলেও ২০১০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে গলফকেই ধ্যান-জ্ঞান মেনে এগোতে থাকেন অরণি। পরীক্ষার পর ছুটির দিনগুলোতে প্রায়ই কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে মা গুলনাহারের খাবারের দোকানে আসতেন অরণি। সে থেকেই অরণির গলফ প্রেম, স্টিক হাতে চলতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিবিড় অনুশীলন। গলফ ফেডারেশনের অধীনে চলা বাছাইপর্বের গন্ডি পেরিয়ে জাতীয় অ্যামেচার ওপেনে খেলার যোগ্যতা লাভ করেন অরণি। কঠোর পরিশ্রমের সুফল পেতে বেশি দেরি হয়নি। ২০১৩ বাংলাদেশ গেমসে সেনাবাহিনী দলের হয়ে ব্রোঞ্জপদক জিতে নিন তিনি।

২০১৫ সালে সিদ্দিকুরের সঙ্গে বিয়ের পর কিছুদিন অনিয়মিত হয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে স্বরূপে ফিরে আসেন অরণি। আর এরই প্রমাণ পেশাদার গলফার হিসেবে তার প্রো-কার্ড অর্জন। তবে গলফার অরণির পরীক্ষা এখনই শেষ হয়নি। পেশাদার টুর্নামেন্টে খেলতে হলে প্রফেশনাল গলফ ট্যুর অব ইন্ডিয়া (পিজিটিআই)-এর বাছাই স্কুলে খেলে আরো একবার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। আর অদম্য অরণি যে তা পারবেন এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।

একজন গলফার হিসেবেই থেমে থাকলেও একটা কথা ছিল। অরণির পথচালা আরো সুদূর বিস্তৃত। খেলার পাশাপাশি কোচিং জগতেও পা রেখেছেন এই কর্মচঞ্চল নারী। গতবছর নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় গলফ একাডেমির অধীনে কোচিংয়ের ‘ডি’ লাইসেন্স করেন তিনি। এরপর চণ্ডীগড়ে গিয়ে করেছেন ‘সি’ লাইসেন্স। গলফের প্রতি তার ভালোবাসা এবং এর পেছনে নিবেদনের গল্পটা তাই যে কারো জন্যেই অনুপ্রেরণাদায়ক।

দেশিয় প্রেক্ষাপটে নারী হিসেবে গলফের মতো অচেনা এবং চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রে নিয়মিত হওয়াটাই বেশ দুরূহ। আর সেই কাজটি আরে ভালোভাবে করে দেখিয়েছেন অরণি। গলফার অরণির পথচলা অব্যাহত থাকুক, তার পথ ধরে গøফস্টিক হাতে সাফল্যে ভাসুক আরো অসংখ্য নারী।

- নাইব রিদোয়ান