সোমবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / সম্পাদকীয় / তুমি অন্ধ হয়ে থেকো না উইপোকার মতো
০২/১৭/২০১৮

তুমি অন্ধ হয়ে থেকো না উইপোকার মতো

-

ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস, অমর একুশে গ্রন্থমেলার মাস। নারীকে স্বনির্ভর করেছে বই, নারীর ক্ষমতায়নসহ সব ধরনের বিকাশের নেপথ্যে কেবল বই বই আর বই। হোক সেটা পাঠ্যবই কিংবা সিলেবাসের বাইরের বই। নারীর অন্ধকার জগতের উল্টোপাশে শক্ত প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে আছে বই, যেখানে ঝলমল করছে মুক্তির আলো। এ জন্যই বইকে ভয় পায় অন্ধকারের কারবারিরা। এ জন্যই বলা হয়, ভালো বই হলো পুরুষতান্ত্রিক কারাগারের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর একটি জানালা-যেটা দেখিয়ে দেয়, তুমি উইপোকার মতো অন্ধ হয়ে থেকো না হে নারী, তাকিয়ে দেখো বাহির পাণে-তোমার জন্য অপেক্ষা করছে কী অপরূপ এক সুবিশাল জগৎ। বই এমনই এক মহাসেতু, যার ওপর দিয়ে না হাঁটলে, হে নারী, তুমি ডুবে রইবে চিরঅমানিশায়। সেতুর ওপারে নতুন সূর্য, যত এগোবে ততই সেই আলোকধারায় উজ্জ্বল হবে তুমি, বিস্ময়াপ্লুত হবে, সার্থক হবে তোমার মানবজনম। সুতরাং আঁধারের যাত্রী হিসেবে আটকে না থেকে তোমাকে চলতেই হবে আলো হাতে। সেই আলো একজন নারীর হাত থেকে ছড়িয়ে পড়বে আরো অনেক নারীর হাতে।

বই কি অমূল্য রতন, তুমি জানো? ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বই নিয়ে লেখা আছে-‘যে দ্রব্যটি তুমি ধরে আছ তাকে যত্ন করো-এ যে সোনার চেয়েও দামি। যদি বই না থাকে তাহলে টুকরো হয়ে যাবে এই সভ্যতা।’ তবে মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর থেকেই শুরু হয় জ্ঞানার্জনের প্রকৃত সময়। আমাকে কীভাবে পড়তে হবে, কী পড়তে হবে, কোন বিষয়ে পড়তে হবে-একাডেমিক পড়ালেখা এ ব্যাপারে কেবল একটি ভিত্তি তৈরি করে দেয় মাত্র। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমাদের দেশে বর্তমানে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চলছে ভয়ঙ্কর এক নোংরা খেলা। পাবলিক পরীক্ষায় চলছে প্রশ্নফাঁসের কুৎসিত উৎসব। অনেকেই বলছেন, প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে বেশ আগে থেকেই। কিন্তু তা ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ না করে বাণিজ্যিক-কোচিং, বিদ্যালয়-ভিত্তিক কোচিং, শিক্ষক-ভিত্তিক কোচিং বা সরাসরি অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে উচ্চদামে। এরপর পরীক্ষার আগের রাতে বা সকালে ইন্টারনেট-ভিত্তিক ‘খুচরো’ ব্যবসায়ীদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে সেই প্রশ্ন। প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল আটটার পর ইন্টারনেট স্লো কিংবা বন্ধ করার কথাও শোনা যাচ্ছে। পুকুরে একটি সাপ নেমেছে, এজন্য পুরো পুকুরেই কি বিষ দিতে হবে? তাহলে পুকুর ভর্তি লাখ লাখ মাছ বা অন্যান্য উপকারী জলজপ্রাণীর কী হবে?

আমাদের চিন্তাভাবনায় বিচিত্র সব দৈন্যদশা থাবা বসাচ্ছে। এটা এক ধরনের অশনিসংকেতও বটে। শিক্ষার প্রধান বাহন বই। প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার মাধ্যমে নষ্ট করা হচ্ছে আমাদের সবকিছু। ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হচ্ছে আমাদের সততার মেরুদণ্ড। বন্ধ হোক এই ভয়ঙ্কর খেলা।

সকলের মঙ্গল হোক। জাগরিত হোক শুভ বোধ।

- তাসমিমা হোসেন