শনিবার,২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / ফ্যাশন / সাজুন বসন্তের রঙে
০২/১২/২০১৮

সাজুন বসন্তের রঙে

-

বসন্ত বাতাসে সইগো বসন্ত বাতাসে... তোমার বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে...বসন্তের আকর্ষণ আসলেও এতটাই যে তা দোলা দেয় সবার মনেই। তাই ঋতুরাজকে বরণ করতে বাসন্তী রঙে সেজে ওঠা চাই।

বসন্তের প্রথম দিন নিয়ে আয়োজনের শেষ নেই, আর সব কিছুর মধ্যমণি হয়ে থাকে একুশে বইমেলা। তাই বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমির আশপাশেই তরুণ-তরুণী এবং নানান বয়সিদের ভিড় জমে বেশি।

ফাল্গুন মানেই বাসন্তী রংয়ের ছড়াছড়ি। তবে আর সব কিছুর মতো এই ধারায়ও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। হালে বসন্তবরণে লাল, সবুজ, কমলা, মেরুন ইত্যাদি রঙও বেশ চোখে পড়ে। সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে নীল, বেগুনিও স্থান করে নিয়েছে।

ফাল্গুনের পোশাক হিসেবে শাড়িই বেশি জনপ্রিয়। হলুদ-লাল পাড়ের শাড়ি, হাতভর্তি চুড়ি আর মাথায় গাঁদাফুল, এসব মিলিয়েই পূর্ণতা পায় বসন্তের সাজ। তবে এখন অনেকেই শাড়ি ছাড়াও সালোয়ার-কামিজ বা ফতুয়া পরেন।

প্রকৃতিতে রঙের এমন ছড়াছড়ি, সাজপোশাকে একটু ভিন্নতা রাখা যেতেই পারে। একরঙা শাড়ি, পাড়ে রঙের ছটা আর শাড়িটা যেহেতু একরঙের, তাই ব্লাউজটা যেন বেশ বাহারি হয়।

শাড়ির ক্ষেত্রে জামদানি বা তাঁতের শাড়ি বেছে নেওয়া যেতেই পারে। সাজে বাঙালিয়ানা বজায় থাকবে। তবে এছাড়াও বেছে নিতে পারেন মনমতো যেকোনো শাড়ি। হাফসিল্ক, জর্জেট বা কোটা শাড়িও পরা যেতে পারে এই দিনে। বসন্তের প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে শাড়ির নকশায়ও প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে ফুলের প্রিন্ট বা ডিজাইনকে।

শাড়ির সঙ্গে এবার ব্লাউজে কিছুটা ভিন্নতা আনা যেতে পারে। হালকা প্রিন্ট বা একরঙা শাড়ির সঙ্গে প্রিন্টের ব্লাউজ বেশ মানিয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে শাড়ি এবং ব্লাউজের মধ্যে যেন সামঞ্জস্য থাকে। অর্থাৎ শাড়িতে নকশা বেশি হলে ব্লাউজ হওয়া উচিত ছিমছাম। আর ব্লাউজে যদি প্রিন্টের প্রাধান্য থাকে তাহলে শাড়ি যেন হালকা নকশার হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

হাল ফ্যাশনে গলার ডিজাইনে এবং হাতার স্টাইলে এসেছে ভিন্নতা। হাই নেক গলার ব্লাইজ বা অফ শোল্ডার যেকোনো স্টাইল বেছে নিতে পারেন নিজের স্বাচ্ছন্দ্যমতো। পয়লা ফাগুনে ঘটিহাতা, খাটোহাতার ব্লাউজের আবেদন তো আছেই। ব্লাউজে ছোট ঘণ্টা, কলকা ব্যবহার করা যেতে পারে। শাড়ির সঙ্গে কনট্রাস্ট করে ব্লাউজের রংটা বেছে নিন। স্লিভলেস ব্লাউজ পরলে শুধু তাজা ফুলের বাজুবন্ধ পরতে পারেন। গলায় বা হাতে যেকোনো একটি গয়না পরুন। এছাড়া মেটাল, কড়ির গয়না পরতে পারেন।

শাড়ি, কামিজ বা ফতুয়া যেই পোশাকই বেছে নিন না কেন বসন্তবরণে পরুন দেশিয় অলঙ্কার। কাপড়ের তৈরি মালা বা চুড়ি, মাটির গয়না বা ধাতুর তৈরি গয়না বসন্তের সাজে আনবে পূর্ণতা।

বসন্তে প্রকৃতিতে রং বুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি স্নিগ্ধ আমেজও তৈরি করে। তাই এদিনের সাজেও থাকা চাই সেই আভা। আর সাজে স্নিগ্ধতা ফুটিয়ে তুলতে তাজা ফুলের তুলনা নেই। খোঁপা করে গুঁজে দিতে পারেন তাজা ফুলের মালা বা গোলাপ।

বসন্তে ভারি মেকআপ না দিয়ে বরং নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকেই রঙিন করে ফুটিয়ে তুলুন। চোখে গাঢ় করে কাজলের রেখা টেনে ঠোঁটে দিন লাল লিপস্টিক। কপালে টিপ দিতে ভুললে চলবে না। আর হাতে পরুন কাঁচের চুড়ি। সাধারণ সাজে অনন্য লাগবে খুব অল্পেই।

বসন্তবরণে সারাদিনের জন্য বের হলে হাইহিল এড়িয়ে আরামদায়ক স্যান্ডেল পরুন। অল্প উঁচু বা ফ্ল্যাট স্যান্ডেল পরলে হাঁটতে সুবিধা হবে।

বেরুনোর আগে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সঙ্গে নিয়ে নিন। এক বোতল পানি, ছাতা, টিস্যু পেপার সঙ্গে রাখা চাই। পাশাপাশি লিপস্টিক, কম্প্যাক্ট পাউডার আর চিরুনিও গুছিয়ে নিন যেন প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। সঙ্গে রাখা চাই ছোট একটি আয়নাও।

ঘর থেকে বেরুনোর আগে ছিটিয়ে নিন সুগন্ধি। তারপর বেরিয়ে পরুন প্রিয় মানুষদের সঙ্গে বসন্তবরণে।

- অদিতি