বুধবার,১৮ Jul ২০১৮
হোম / ফিচার / ভার্সিটি ক্যাম্পাসে বসন্তের ছোঁয়া
০২/১২/২০১৮

ভার্সিটি ক্যাম্পাসে বসন্তের ছোঁয়া

-

প্রকৃতির নিয়মে আসছে ঋতুরাজ বসন্ত। শীতের রিক্ততা, শুষ্কতা ভুলিয়ে ফাগুনের আগুন নিয়ে ঋতু-পরিক্রমায় বাংলা ভাষাভাষীদের জীবন রাঙাতে প্রকৃতিতে ফিরে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। বসন্তের এই ছোঁয়ায় বরাবরের মতো এবারো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। ক্যাম্পাসগুলোতে তাই দেখা যাবে ঋতুরাজ বরণের নানা আয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের একদল শিক্ষার্থীর উদ্যাপন করা বসন্তের প্রথম দিন। কয়েক বছর পর, চারুকলাসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা আর সব উৎসবের মতোই এই দিনটিকে ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু করে। আর আজ পহেলা ফাল্গুন দেশের অন্যতম একটি বৃহৎ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমরা যারা শহুরে কৃত্রিমতার মধ্যে থাকি তারা প্রায়ই বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশগুলো থেকে দূরে থাকি। চারুকলার শিক্ষার্থীদের বসন্ত উৎসব আয়োজনের আরেকটি কারণ ছিল মানুষ যেন গ্রামীণ বাঙালি সংস্কৃতিকে ভুলে না যায়।

পহেলা ফাল্গুনে রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা বসন্ত উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের কপালে এঁকে দেয় বসন্তের আলপনা। যার মাধ্যমে তৈরি হয় অনন্য মেলবন্ধন। পাবলিক লাইব্রেরি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনাপার্ক, টিএসসি থেকে শুরু করে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়, হলুদ রঙে ছেয়ে যায় পুরো ক্যাম্পাস এলাকায়।

আর এই ফাল্গুন মাসে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে বাঙালি। থোকা থোকা ফুল হয়ে ফুটে আছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিক। সেই বায়ান্ন থেকে প্রতিবছর ফিরে ফিরে আসে একুশে গ্রন্থমেলা। স্বাধীনতার পর প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজিত গ্রন্থমেলা বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের যে ঢল নামে তাতেও পাওয়া যায় প্রাণের ছোঁয়া।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
শহরের অন্য প্রান্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও বর্ণিল আয়োজনে বসন্ত বরণ উৎসব পালিত হয়। শহরের কোলাহলের কিছুটা বাইরে প্রকৃতির কাছাকাছি উপভোগ করার ফুসরত মেলে এখানে। মেহেদি উৎসব, বাউল সংগীত, ঘুড়ি উড়ানোসহ নানারকম খেলার মাধ্যমে এ উৎসব উদযাপন করে বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া তলায় দিনব্যাপী বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়। এদিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চারপাশে বাসন্তী রঙের ছড়াছড়ি দেখা যাবে। মেয়েদের পরনে থাককেব বাসন্তী শাড়ি। কপালে লাল টিপ, হাত ভর্তি কাচের চুড়ি, গলায় পুঁতির মালা। চোখে, ঠোঁটে, মুখে এমনকি হাতের ব্যাগেও রঙের প্রলেপ। বসন্তের সৌরভ নিয়ে বর্ণিল সাজে মোহনীয় বাঙালি নারীর পাশাপাশি ছেলেরাও নানারঙের পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও কাঁধে নানাবর্ণের চাদর ঝুলিয়ে উৎসবে মেতে উঠবে তাদের প্রাণের ক্যাম্পাসে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকসহ নানাআয়োজনে দিনব্যাপী বসন্ত উৎসব উদযাপন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সংগঠন। নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজন থাকে এই দিনে। ছেলেদের পোশাক হিসেবে পাঞ্জাবিই থাকে তরুণদের পছন্দ আর তরুণীরা পড়েন শাড়ি আর চুলে রঙ-বেরঙের ফুল। পুরো ক্যাম্পাসে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

রিয়াদুন্নবী শেখ