সোমবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / সন্তানের সৃজনশীলতা আপনি নিজেই ধ্বংস করছেন কী?
০২/১০/২০১৮

সন্তানের সৃজনশীলতা আপনি নিজেই ধ্বংস করছেন কী?

-

প্রতিটি মানুষই নিজের ভেতর সৃজনশীলতা নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। সবার সৃজনশীলতা একইভাবে প্রকাশ পায় না। বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যার যার পছন্দের কাজ বা বিষয়ের সঙ্গে সৃজনশীলতা প্রকাশ পেতে থাকে। তবে এটা প্রমাণিত সত্য যে, শিশুরা সবচেয়ে বেশি সৃজনশীল, কারণ নিজের ভাব প্রকাশ করার সময় তারা কোনো সীমা বা বাধা মানে না। একারণেই তাদের সৃষ্টি করার ক্ষমতাকে সবসময় উৎসাহ দেয়া উচিত। তবে অনেক মা-বাবাই সন্তানের ভালো করছেন ভেবে এমন কিছু কাজ করেন যা আসলে শিশুদের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করে ফেলে।

১. অতিরিক্ত রকমের রুটিনে বেঁধে ফেলাঃ
নিয়মানুবর্তিতার গুণটি আয়ত্তে থাকা এবং সময় মেনে কাজ করা ভালো, তবে সব সময় ঘড়ি ধরে সব কাজ করতে থাকলে নিজের প্রাকৃতিক বিচারবোধ ব্যবহার করতে পারে না শিশু, যার ফলে তার সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়।

২. অতিরিক্ত পুরস্কৃত করাঃ
শিশু ভালো কোনো কাজ করলে তার প্রশংসা করা উচিত, তবে অতিরিক্ত পুরস্কৃত বা প্রশংসা করতে থাকলে তা শিশুকে অলস করে ফেলতে পারে। তারা পুরস্কারের আশায় কিছু কাজকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে নিজের প্রকৃত সৃজনশীল কাজ করা থামিয়ে দিতে পারে।

৩. সারাক্ষণ শিশুর আশপাশে অবস্থান করাঃ
অভিভাবকরা যখন সন্তানের আশেপাশে থাকেন তখন তাদের সব মনোযোগ শিশু কী করছে তার উপর থাকে। সবসময় শিশুর উপর নজর থাকলে তার উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।

৪. জীবনে অসফল হওয়ার ভয় দেখানোঃ
অভিভাবকদের একটা প্রবৃত্তি থাকে সন্তানকে, “তোমাকে দিয়ে ভালো কিছু হবে না” জাতীয় কথা বলে জীবনে অসফল হওয়ার ভয় দেখানোর। ভয় পেয়ে শিশু সৃজনশীল কাজ করা থেকে বিরত থাকতে পারে।

৫. অন্যদের সঙ্গে তুলনা করাঃ
বেশিরভাগ মা-বাবাই সবসময় অন্যের সন্তানের সঙ্গে নিজের সন্তানের কাজের তুলনা করতে থাকেন। এতে শিশুর মধ্যে নিজেকে অক্ষম ভাবার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করতে পারে, তবে তা না ঘটলে তারা নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে।

৬. অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেয়াঃ
মা-বাবারা অনেক সময় নিজের এক সন্তানের সঙ্গে অপর সন্তানকে, অথবা সন্তানের বন্ধুদের সঙ্গে তুলনা করে তাদের এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেন। এ-ধরনের প্রতিযোগিতা শিশুর সৃজনশীল উচ্চাকাঙ্খাকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। তবে যেকোনো স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা ভালো এবং তাতে অংশ নিলে শিশু বরং আরো সক্ষম হয়ে উঠে।

৭. অভিভাবক নিজে সৃজনশীল না হওয়াঃ
সন্তানের সৃজনশীলতা শুধু তার নিজের উপর নির্ভর করে না, বরং অভিভাবকের যেকোনো কাজ কর্মের প্রচ্ছন্ন প্রভাব শিশুর উপর সবসময়ই থাকে। মা-বাবারা সন্তানের সামনে সৃজনশীল উদাহরণ না হয়ে উঠতে পারলে তা পরোক্ষভাবে সন্তানের সৃজনশীলতা নষ্ট করে ফেলতে পারে।

৮. অতিরিক্ত সমালোচনা করাঃ
যেকোনো কাজের প্রয়োজনীয় সমালোচনা কাজে দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত সমালোচনা করলে শিশুরা তাদের শখের কাজগুলো করা বন্ধ করে দিতে পারে, এবং তার চাইতেও বড় কথা অতিরিক্ত সমালোচনা শিশুর আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দিতে পারে। সন্তানের বয়স, বয়সের চাহিদা এবং প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বুঝে সমালোচনা করে শিশুর সৃজনশীলতাকে তার আপন গতিতে বাড়তে দিন।

৯. খুঁটিনাটি ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাঃ
অনেক মা-বাবার প্রবণতা থাকে সবসময় সন্তানের সব কাজে, এমনকি কী পড়বে, কী করবে বা করবে না এ সব বিষয়েই নিজেদের মতামত ও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার। এতে শিশুর সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সন্তানকে তার মতো কাজ করতে দিয়ে ফলাফল বুঝতে দেয়া সৃজনশীলতা বাড়ানোর সবচেয়ে ভালো ঊপায়।

১০. অবাস্তব আকাঙ্ক্ষাঃ
সন্তানের সক্ষমতার বাইরে গিয়ে তার কাজের অবাস্তব ফল আশা করা শিশুর সৃজনশীলতা ধ্বংস হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। আপনার অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা শিশুকে চাপে ফেলে দেয় এবং তার সৃজনশীল বিচারবোধ কাজে লাগাতে বাধা দেয়।

১১. অতিরিক্ত চাপ দেয়াঃ
কিছু শিশু তার বয়সি অন্যদের চেয়ে বাড়তি সৃজনশীল হয়ে থাকে তবে আপনার সন্তানকে আরো ভালো করার জন্য চাপ দিলে তা উলটো ফল দিতে পারে এবং সে তার সৃজনশীল কাজ করা থামিয়ে দিয়ে পারে। প্রতিটি সৃজনশীল মানুষই তার ক্ষমতা বুঝতে পারার জন্য নিজের মতো করে সময় নিয়ে থাকে, এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে আরো উন্নত করে তোলে।

- কাজী শাহরিন