শুক্রবার,২৫ মে ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / প্যানিক অ্যাটাক? কি করবেন
০২/০৪/২০১৮

প্যানিক অ্যাটাক? কি করবেন

-

জীবনে কিছু সময় আসে যখন কোনো কিছুও মনের মতো হয়না, মাথার উপর দুশ্চিন্তার পাহাড় জমা হতে থাকে তখন। এভাবে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা একটা সময় মানসিক সমস্যা বয়ে আনতে পারে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যার নাম ‘প্যানিক অ্যাটাক। কখনো কখনো এই সমস্যা মানসিক ব্যাধি বা ডিসর্ডারে পরিণত হতে পারে।

প্যানিক অ্যাটাক কী?
কোনো কাজ মনের মতো না হলে বা বিপদের সময় দুশ্চিন্তা হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এই দুশ্চিন্তার মাত্রা অতিরিক্ত হলে তা প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়টায় আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র উদ্বেগ এবং উৎকন্ঠার মধ্যে থাকেন। অনেক সময় ব্যক্তি সামান্য কারণেই এমনকি কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এর ফলে স্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা হয়। ব্যক্তির মনে মৃত্যু-ভাবনাও এই সময়টায় জেঁকে বসতে পারে। বেশিদিন ধরে এই সমস্যায় ভুগলে তা একসময় ‘প্যানিক ডিসঅর্ডার’ নামের মানসিক রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

বুঝবেন কি করে
ঠিক কখন বা কোন পরিস্থিতিতে আপনি প্যানিক অ্যাটাকের সম্মুখীন হবেন তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে একেকজনের বেলায় একেকরকম চিত্র দেখা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে জনসম্মুখে কথা বলার সময় অথবা অতীতের কোনো বাজে অভিজ্ঞতা মনে পড়লে প্যানিক অ্যাটাক হয়ে থাকে। অনেকেই আবার ব্রিজের উপর দিয়ে হাঁটতে গেলে বা রাস্তা পার হতে গিয়ে এই সমস্যার মুখোমুখি হন। বিশেষজ্ঞদের মতে নিম্নোক্ত লক্ষনগুলো দেখা গেলে বুঝতে হবে আপনি প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন।
* হ্রদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
* শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া
* হঠাৎ বুকে ব্যাথা অনুভব করা
* মৃত্যুভীতি কাজ করা
* আশেপাশের পরিবেশ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হওয়া
* শরীর বেয়ে ঘাম হওয়া
* হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া এবং মাথা ঘোরা

অনেক সময় এই ধরনের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন ভেবে ডাক্তারের কাছে ছুটে যান। পরবর্তীতে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন নিশ্চিত হওয়ার পর এই অভিজ্ঞতার ব্যাপারে একেবারেই ভুলে যান যা মোটেও উচিত নয়। এ রোগের শিকার হলে ব্যক্তির আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে এবং মনের মধ্যে সবসময় অজানা ভয় কাজ করে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত লোকটি হয় সবসময় দুশ্চিন্তায় ভোগেন অথবা বিভিন্ন পরিবেশ-পরিস্থিতি এড়িয়ে চলেন।

সমস্যা যখন তীব্র
বারবার প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হওয়া ব্যক্তি উপযুক্ত চিকিৎসা না নিলে একসময় মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এ ধরনের ডিসঅর্ডার অনেক সময় ‘অ্যাগারোফোবিয়া’ডেকে আনতে পারে। ইতোপূর্বে অ্যাগারোফোবিয়া বলতে জনসমাগমে নিজেকে উপস্থাপন করতে ভীতি বোঝানো হতো। তবে বর্তমানে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হতে পারেন বলে ব্যক্তির মনে যে ভীতি কাজ করে তাই প্যানিক ডিসঅর্ডার নামে পরিচিত।

প্রতিকার
নিয়মিত ঔষধ সেবনের মাধ্যমে প্যানিক অ্যাটাকের তীব্রতা কমানো যেতে পারে। প্যানিক অ্যাটাক থেকে মুক্তির জন্য চিকিৎসকরা মূলত অ্যান্টিডিপ্রেসাণ্ট বা বেনজোডিজেপাইনস জাতীয় ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে শুধুমাত্র ঔষধের মাধ্যমে পুরোপুরিভাবে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব নয়। প্যানিক অ্যাটাক যেহেতু একটি মানসিক সমস্যা, তাই এর প্রতিকারের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে জরুরী হলো মানসিক দৃঢ়তা। এজন্যে সবার প্রথমে প্যানিক অ্যাটাক ও এরলক্ষন সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন এমন ব্যক্তিকে ধূমপান বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পান থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া সঠিকভাবে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন করতে হবে। সর্বোপরি সব ধরনের উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়মিত ইয়োগা বা মেডিটেশন করলে সুফল পাওয়া যাবে।

- রিদোয়ান