শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / শিশুকে বাঁচান ওবেসিটি থেকে
০১/২৫/২০১৮

শিশুকে বাঁচান ওবেসিটি থেকে

-

আজকাল শিশুর আবদার মেটাতে অভিভাবকেরা কোনো কমতি রাখেন না। তবে এই আবদার খাওয়া সংক্রান্ত হলে তা মেটাতে গিয়ে অনেক সময় মনের অজান্তেই নিজ সন্তানের বিপদ ডেকে আনেন মা-বাবা। যখন তখন ফাস্টফুড খেয়ে স্থূলতার মতো সমস্যায় ভুগছে অনেক শিশু। সেই সাথে আছে খেলাধুলার ঘাটতি, মোবাইল ফোন-টিভি-ভিডিওগেমে আসক্তি। শিশুস্বাস্থ্য এবং স্থূলতাকে উপজীব্য করেই মূলত আজকের লেখা সাজানো হয়েছে।

শিশুর স্থূলতা এবং সামগ্রিক অবস্থা
শিশু-কিশোর স্থূলতাজনিত সমস্যাকে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন। বর্তমানে স্থূলতা এমন একটি সমস্যা, যা স্থান-কাল নির্বিশেষে সকল অর্থনৈতিক জনগোষ্ঠীর জন্যই প্রযোজ্য।

নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই সমস্যার প্রকোপ সবচেয়ে ভয়াবহ। পিজ্জা, বার্গার, কোমল পানীয় ইত্যাদির ধুম্রজালে নিজেদের জড়িয়ে খুব কম বয়সেই স্থূলতার মতো শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে হালের শিশু-কিশোর।

হঠাৎ মুটিয়ে যাওয়ার কারণে বন্ধু-বান্ধবদের হাসি-ঠাট্টার শিকার হচ্ছে এই শিশুরা। এরফলে শিশুমনে অজান্তেই নিজেকে ছোট ভাবার মানসিকতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা তার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে বহুগুণে।

এই মনঃস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব শিশুর আচরণে পরিবর্তন বয়ে আনে, যা তার স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতায় ভুগছে এমন শিশুদের মধ্যে অন্যদের চেয়ে আত্মহত্যার মতো প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

এছাড়া সমাজের মানুষদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ভুল শিক্ষার কারণে স্থূলতায় ভুগছে এমন শিশুদের আলাদা চোখে দেখা হয়। এর ফলে এই শিশুরা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা এবং বন্ধুদের অবজ্ঞার শিকার হয়। অবাক করা ব্যাপার হলো, অনেক সময় শিক্ষকরাই ক্লাসের মোটা ছেলেটাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে বসেন। এর ফলে শিশু নিজের চোখে নিজেই ছোট হয়ে যায়।

স্থূলতার সমস্যায় ভোগা শিশুরা প্রায়ই বিষণ্ণতায় ভোগে। এই শিশুদের অলস সময় কাটাতে দেখা যায়, এদের বন্ধুভাগ্যও যে নেহাত মন্দ তা না বললেই চলে।

শিশুদেহে স্থূলতার কারণ
শিশুর হঠাৎ মুটিয়ে যাওয়ার পেছনে নানকারণ থাকতে পারে। বিস্তর আলোচনা-পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো।

অভিভাবকের উদাসীনতা
শিশুদেহে পর্যাপ্ত পুষ্টির আধিক্য কিংবা অভাব উভয় কারণেই স্থূলতা হতে পারে। এক শ্রেণির অভিভাবকদের মধ্যে শিশুর খাদ্যের ব্যাপারে উদাসীনতা দেখা যায়। আবার অন্য শ্রেণির অভিভাবক শিশুর খাওয়াদাওয়া নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করেন। উভয় কারণেই শিশু মুটিয়ে যেতে পারে।

বংশগত কারণ
অনেক সময় মা-বাবা স্থূলতায় ভুগলে তা তাদের সন্তানের ক্ষেত্রেও হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই মা-বাবার শারীরিক বৈশিষ্ট্য শিশুদেহেও প্রভাব ফেলে।

ভুল ডায়েট
বর্তমানে ঘরে বানানো খাবারের চেয়ে বাইরের খাবারের প্রতি শিশু-কিশোরদের আসক্তি বেশি লক্ষ্য করা যায়। বাইরের এসব ফাস্ট ফুড একদিকে যেমন উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন অন্যদিকে এতে খাদ্যগুণ একেবারেই অনুপস্থিত। এর পাশাপাশি নিয়মিত কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস থাকলে শিশু স্বাস্থ্যের জন্য তা কতটা ভয়ংকর তা বোধহয় না বললেই চলে।

শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
আজকাল ছেলেমেয়েদের কাছে খেলাধুলা বা আনন্দের উপকরণ হলো টেলিভিশন, ভিডিও গেইমস কিংবা কম্পিউটার। এসব যন্ত্রের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও কোনো ধরনের শারীরিক কসরত হয় না বললেই চলে। আর এই শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে শিশুর দেহে মেদ বাসা বাঁধে।

উপযুক্ত পরিবেশের অভাব
বর্তমানে খুব কম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শারীরিক শিক্ষা এবং খেলাধুলার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। শিশুদের মধ্যে যখন ফাস্ট ফুড এবং সোডাজাতীয় খাবারের আসক্তি প্রবল তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বাসায় খেলাধুলা ও কায়িক পরিশ্রমের সুযোগ না থাকায় শিশুর মুটিয়ে যাওয়া স্বাভাবিকই বলা চলে।

পরিবারের খাদ্যাভ্যাস
মা-বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস শিশুর মনঃস্তত্তের প্রভাব ফেলে। পরিবারের সকলের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শিশুকেও পুষ্টিগুণহীন খাদ্য গ্রহণে প্ররোচিত করে।

স্থূলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়
শিশুর স্থূলতা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্ষেত্রে সবার আগে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর জোর দেওয়া উচিত। শিশুর ক্ষেত্রে ওজন কমানোর পরিকল্পনা করার আগে অবশ্যই ডাক্তার অথবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নির্দেশনাগুলো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।
১) শিশুকে কখনো উপোস রাখা যাবে না।
২) শিশুকে না খাইয়ে রাখার বদলে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য প্রদান করতে হবে।
৩) দৈনিক অন্তত এক ঘণ্টা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

- মুহাম্মদ রিদোয়ান