বুধবার,২১ নভেম্বর ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / বিয়ের পর বন্ধুত্ব
০১/২৩/২০১৮

বিয়ের পর বন্ধুত্ব

-

স্কুলজীবন থেকেই নায়েল প্রায়ই তার বন্ধুদের সাথে এদিক-ওদিক বেড়াতে যেত। কলেজ জীবন আর ভার্সিটি জীবন পার হতে হতে বন্ধুরাই তার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের দাবিদার হয়ে ওঠে। বিয়ের পরও সেই ধারাটা অব্যাহত রাখতে গিয়েই সংসারে অশান্তি আর সবশেষে বিচ্ছেদ।

তানহার গল্পটা আবার উলটো। ভার্সিটি লাইফে বন্ধুমহল মাতিয়ে রাখা উচ্ছল মেয়েটাই কিনা বিয়ে করে হয়ে গেল পুরোদস্তুর গৃহিণী। ঘরকন্নার বাইরে গিয়ে বন্ধুদেরকে সময় দেওয়ার কোনো ফুরসতই তার মেলে না। বন্ধুরা প্রায়শই তাকে এ নিয়ে অভিযোগ করে, টিটকিরি মারে।

ওপরের গল্পগুলোতে শায়লার বিচ্ছেদে ‘বন্ধুত্ব রক্ষা’ই কি সবচেয়ে বড় কারণ ছিল? অথবা বন্ধুদের ছেড়ে তানহার গুটিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংসারধর্ম পালনই কি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে? অবশ্যই না। আমাদের সমাজ-বাস্তবতায় বন্ধুত্ব বা বিয়ে কোনোটাই কম গুরুত্ব রাখে না। কিন্তু ওপরের গল্পের মতো ঘটনা যাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা এ দুয়ের মধ্যে সমতা রাখতে পারেন না বলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে। তাহলে কিভাবে আমরা এ দুইয়ের সমতারেখা টানতে পারি? চলুন দেখা যাক-

সঙ্গীকে বন্ধুদের ব্যাপারে জানান
অনেক সময় আমরা বন্ধুদের ব্যাপারে সঙ্গীর সাথে আলোচনা করাটাকে নিজেদের অজান্তেই অবহেলা করি। অথচ দুপক্ষই আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে ভীষণভাবে। আপনার বন্ধুদের সাথে আপনার কেমন সম্পর্ক তা সঙ্গীকে জানিয়ে রাখলে পরবর্তীসময় এ দু’টো সম্পর্কের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হবে না। আপনিও অনেক বিড়ম্বনা এড়াতে পারবেন।

কৌশলী হোন সময় দেয়ার ক্ষেত্রে
ধরুন, স্বামী-স্ত্রী নিয়ে বাইরে খেতে যাবেন। অথবা ঘরোয়া কোনো আয়োজনই করা হলো। ওদিকে বন্ধুরা ডাকছে আড্ডা দিতে। এক্ষেত্রে আপনি যতই বন্ধু অন্তঃপ্রাণ হোন না কেন, আপনাকে কৌশলী হয়ে বন্ধুদেরকে এড়াতে হবে। এক ছুটির দিনে সঙ্গীকে সময় দিলে আরেকটা ছুটির দিনে বন্ধুদের জন্য রাখুন। অথবা, অফিস থেকে ফেরার পথেই খানিকটা সময় নিয়ে কোন বন্ধুর সাথে দেখা করে আসুন।

নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হন
অবিবাহিত জীবনে আমাদের হাত-পা একদম ঝাড়া থাকে বলে যখন যা ইচ্ছে করে ফেলার সুযোগ আছে। বন্ধুদের সাথে এক-দুই হপ্তার একটা ট্যুরে গেলেও খুব বেশি বাধা আসে না সাধারণত। কিন্তু যখন আপনি বিবাহিত তখন কিছু কিছু ব্যাপারে আপনাকে লাগাম টানতেই হবে। রাতে ঘুরতে বের হওয়া বা যখন তখন আড্ডা দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে নিয়ন্ত্রণ আনুন।

দাম্পত্য জীবনের বিষয়াদি বন্ধুদেরকে না জানানো
আপনার দাম্পত্য জীবন হচ্ছে একান্তই আপনার আর আপনার সঙ্গীর। এ-সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা সাময়িক বিচ্ছেদ হতেই পারে। আপনি যদি এসব ব্যপার বন্ধুদেরকে জানান তাহলে আপনার ব্যাপারে বন্ধুদের মনে বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দাম্পত্যে তৃতীয় কারো আবির্ভাব হতে পারে। আর সেখান থেকে বন্ধুত্বও শেষ হতে পারে বাজেভাবে।

সঙ্গীর বন্ধুদেরকে গুরুত্ব দিন
আপনি যদি আপনার স্বামী-স্ত্রী’র বন্ধুদেরকে গুরুত্ব দেন তাহলে তিনিও আপনার বন্ধুদেরকে ভালোভাবে নেবেন। এতে করে বন্ধুদের সাথে সম্পর্কটা ভালোভাবেই রক্ষা করা যাবে। বরং আপনার বন্ধুদের বিপদে আপদে আপনার সঙ্গীও আপনার সাথে তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে যাবেন হাসিমুখে।

হয়ে যান মিউচুয়াল বন্ধু
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে আমরা সবাই মোটামুটি ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডশিপ’ পরিভাষাটির সাথে পরিচিত। সঙ্গীর আর বন্ধুদের মধ্যে আপনি মিউচুয়াল হওয়ার চেষ্টা করুন। মাঝেসাঝেই আয়োজন করে ফেলুন ছোটখাট অনুষ্ঠান, যেখানে আপনার সঙ্গীটির সাথে বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। এতে করে দু’টো সম্পর্কের মধ্যে একধরনের সমতা চলে আসবে। তখন দেখবেন আপনার সঙ্গী আপনার বন্ধুদেরকে নিয়ে আর তেমন অভিযোগ তুলছেন না।

বন্ধুদের নিয়ে সন্দেহ নয়
বিবাহিত জীবনে বন্ধুদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পেছনে সন্দেহের অবদান সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। কারো স্বামী বা স্ত্রী যদি তার কোনো বন্ধুর ব্যাপারে কোনো প্রশংসা করেন, তাহলে দেখা যায় তিনি তার সঙ্গীকে জড়িয়ে বন্ধুকে সন্দেহ করা শুরু করেন। এর পরিণতি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ। কেননা, এজন্য তিনি তার বিবাহিত জীবনের শান্তি যেমন হারান তেমনি বন্ধুও হারান। অথচ দেখা যায় এধরনের সন্দেহ বেশিরভাগ সময় শুধুই কল্পনা থেকে তৈরি হয়। সুতরাং সুন্দর সম্পর্কগুলো বাঁচাতে অহেতুক সন্দেহ করা থেকে দূরে থাকুন।

- সাজ্জাদ
ছবিঃ মুশফিকুর জোহান