সোমবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / সম্পাদকীয় / প্রশ্ন অনেক, উত্তরের জন্য সময় খুব কম
০১/১৬/২০১৮

প্রশ্ন অনেক, উত্তরের জন্য সময় খুব কম

-

শীতের দেখা নেই কেন? মাত্র মাসখানেক আগেই আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম বিলম্বিত শীত নিয়ে। নানা তথ্যউপাত্তে দেখেছিলাম, ঠিক সময়ে শীত আসছে না। গ্রীষ্ম বিলম্বিত, বর্ষা বিলম্বিত, আবার এখন দেখা যাচ্ছে শীত ঋতুটিও বিলম্বিত। শীতের কামড় এবার এতটাই মারাত্মক যে, কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বলছে আমরা ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশে পরিণত হতে না পারলেও ধীরে ধীরে তাদের মতো শীতল পরিবেশ অর্জন করতে পারছি। উত্তরের প্রান্তিক জনপদে এবার পারদ নেমেছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর একটু নীচে নামলেই হিমাঙ্ক ছুঁয়ে ফেলবে বাংলাদেশ! তবে কি বাংলাদেশে বসেই অদূর ভবিষ্যতে তুষারপাত দেখতে পাব আমরা? স্কি খেলবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের শিশুরা?

জলবায়ুর পরিবর্তন কত ভয়ঙ্করভাবে আমাদের ঋতু-বৈচিত্র্য নষ্ট করে দিচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পেতে আমাদের হয়তো আরো কিছু বছর অপেক্ষা করতে হবে, কিন্তু কয়েক মাস আগেই মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আগামী শতবর্ষের মধ্যে সলিল সমাধি ঘটতে যাচ্ছে বিশ্বের ২৯৩টি বিখ্যাত শহরের। নাসার দেওয়া তথ্যমতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে সম্ভাব্য এই ডুবন্ত শহরের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রাম। নিউইয়র্ক, লন্ডন, টোকিও, কলম্বো, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হংকং, সাংহাইসহ আরো বেশ কয়েকটি মেগাসিটির নামও রয়েছে এই তালিকায়। বিজ্ঞান স্টিফেন হকিং গত কয়েক বছরে অনেকবার বলেছেন, মানুষের অস্তিত্ব ধ্বংসের পথে। পৃথিবীর ৭১ শতাংশ জায়গা দখল করে আছে সমুদ্র। এই জলরাশি বায়ুমণ্ডলের তুলনায় দ্বিগুণ সূর্যের বিকিরণ শোষণ করে। সুতরাং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে পৃথিবীতে সূর্যালোক শোষণও বৃদ্ধি পাবে, অর্থাৎ পৃথিবী আরো বেশি উত্তপ্ত হবে। আর এসবের দিক থেকে যেসব দেশ সবচাইতে বেশি বিপদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। আমরা জানি, বীজের অঙ্কুরোদগম, গাছের দৈহিক বৃদ্ধি, পরাগায়ন, ফুল ও ফল ধরা ও ফসল পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও সূর্যালোক প্রয়োজন। এসবের হেরফের ঘটলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এই উপাদানগুলোরও পরিবর্তন ঘটিছ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের চাল ও গম উৎপাদন যথাক্রমে ৮ ও ৩২ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হতে পারে ২০ শতাংশের ওপরে।

শীতে শীত বাড়ছে, গরমে গরম। প্রকৃতি প্রতিশোধ নিচ্ছে তার মতো করে। দশকের পর দশক ধরে বন ধ্বংস করে জনপদ গড়েছি আমরা। অথচ এদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ঙ্কর দিক নিয়ে গবেষণা করার মতো বিশেষজ্ঞ আছেন হাতেগোণা ক’জন। এদের পর ভবিষ্যতে আমরা কাদের পাবো? এসব নিয়ে কি আমরা ভাবছি? জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে বিভীষিকার দিকে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ, তাতে দেশের জিডিপি’র ক্ষতিও হবে সর্বাধিক। অথচ সেই গুরুত্বে আমরা সত্যিকারের গবেষক পাচ্ছি কি? আমরা অসচেতন, অশিক্ষা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। দারিদ্র্য নিজেই ব্যাপক দূষণ সৃষ্টি করে, সেটাও আমাদের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচন, অশিক্ষা দূরীকরণসহ আমাদের নিজেদের মধ্যে জলবায়ু সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির প্রকৃত চেষ্টা কি সত্যিই আছে?

এমন অনেক প্রশ্ন তোলা যায়। সময় নেই, এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন এখনই। প্রয়োজন আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই।

শীতের যেটুকু ইতিবাচক দিক আছে, সেটা উপভোগ করুন। সবাই সুস্থ, সুন্দর থাকুন।

- তাসমিমা হোসেন