শনিবার,১৮ অগাস্ট ২০১৮
হোম / বিবিধ / কোন রাশির কেমন ডায়েট?
০১/০৮/২০১৮

কোন রাশির কেমন ডায়েট?

-

দেখতে দেখতেই চলে এল নতুন আরেকটি বছর। নতুন বছরে আপনার সবকিছুই ভালো হবে; কর্মোদীপ্ত জীবনের দ্বারা জয় করবেন সব বাঁধা-এমনটাই তো চাওয়া; কিন্তু সেজন্য স্বাস্থ্যটাকেও তো সায় দিতে হবে। আর এজন্য চাই নিয়ন্ত্রিত ডায়েট।

একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ধরন আর খাদ্যাভাসের নিয়ম জ্যোতিষশাস্ত্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাচীনকাল থেকেই প্রফেশনাল জ্যোতিষিরা রাশির জাতকের অ্যাস্ট্রোলজিকাল চার্ট ব্যবহার করে ডায়েটিং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

গুণগত বিচারে রাশিগুলোতে প্রধানত চার ধরনের মৌলিক প্রকারভেদ লক্ষণীয়, প্রতীকভিত্তিক এই চার প্রকার হলো-আগুন, মাটি, বায়ু আর জল।

মেষ, সিংহ ও ধনু হলো আগুনের প্রতীকের বাহক। বায়ু প্রতীকের ধারক হলো মিথুন, তুলা আর কুম্ভ রাশির জাতকেরা। কর্কট, বৃশ্চিক আর মীন হলো জল প্রতীকধারী। মাটি প্রতীকের ধারকেরা হলেন বৃষ, কন্যা ও মকর রাশির জাতকেরা।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে ২০১৮-তে কেমন হওয়া চাই আপনার ডায়েট

মেষ (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল)
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে ২০১৮ মেষের জন্য ভালো স্বাস্থ্যেরই ইংগিত দিচ্ছে। মেষের প্রধান খনিজ হলো পটাশিয়াম ফসফেট। তাই টমেটো, শিম, মসূর ডাল, জলপাই, কলা প্রভৃতি মেষের জন্য উপকারী। অপরদিকে মেষকে নতুন বছরে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলতে হবে। আগুন প্রতীকের ধারক হওয়ার কারণে প্রচুর শাকসবজি খেতে হবে। পরিহার করতে হবে মশলাজাতীয় খাবার। আঁশজাতীয় খাবার, পরিমিত ব্যায়াম আর বিশ্রাম মেষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

বৃষ (২১ এপ্রিল-২১ মে)
বৃষের প্রধান খনিজ হলো সোডিয়াম সালফেট, যা শরীরে পানির নিয়ন্ত্রক। ফুলকপি, শাক, মূলা, পিঁয়াজ প্রভৃতি বেশি খেতে হবে। বৃষকে অবশ্যই স্টার্চ, ফ্যাট ও সুগার জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সেই সাথে রিচ ফুড থেকেও দূরে থাকতে হবে। বৃষের ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এর যত্নে আয়োডিনযুক্ত খাবার বেশি খেতে হবে।

মিথুন (২২ মে-২১ জুন)
বছরের মাঝামাঝি দিকে মিথুনের স্বাস্থ্য কিছুটা সঙ্গ না দিলেও পুরো বছর ভালোই যাবে। মিথুন বায়ু প্রতীকের বাহক আর বায়ু নার্ভাস আর সার্কুলেটরী সিস্টেমের সাথে জড়িত। তাই এর যত্নে সিমের বিচি, গাজর, কমলা, বাদাম প্রভৃতি খাবার বেশি খাওয়া চাই। জাংক ফুড আর অতিরিক্ত দানাদার খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। আতঙ্ক আর নার্ভাসনেস মিথুনের সবচেয়ে বড় শত্রু, আর এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে ব্যালান্সড ডায়েট গুরুত্বপূর্ণ।

কর্কট (২২ জুন-২২ জুলাই)
পালংশাক, টকদই, মাছ ইত্যাদি খাবার কর্কটের জন্য উপকারী। বৃদ্ধ বয়সে মেদ কর্কটের একটি প্রধান সমস্যা, তাই নতুন বছরে স্টার্চ ও সুগারজাতীয় খাবার পরিহার করাই হবে মূল কাজ। মশলাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

সিংহ (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট)
সিংহ কর্মশক্তিতে পরিপূর্ণ হয়। সিংহ রাশির জাতক জাতিকাদের মেরুদন্ড আর হৃৎপিণ্ডের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। ম্যাগনেসিয়াম ফসফেট যুক্ত খাবার যেমন বাদাম, সূর্যমুখী বীজ, লেবু, নারিকেল আর সামুদ্রিক খাবার বেশি খেতে হবে। আয়রনযুক্ত খাবার সিংহের জন্য বেশ উপকারী।

কন্যা (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর)
এই রাশির প্রধান শারীরিক অংশ হলো নার্ভাস সিস্টেম ও অন্ত্র। সবুজ শাকসবজি, বাদাম, পনির, কমলা, মাংস প্রভৃতি কন্যা জাতক-জাতিকার জন্য উপযুক্ত খাবার। ভারি, মশলাযুক্ত খাবার অবশ্যই পরিহার করুন। এছাড়া ভাজাপোড়াও এড়িয়ে চলা উত্তম। এ রাশির প্রধান সমস্যা মেদ ও টিউমার, এসব সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে ব্যালেন্সড ডায়েট মেনে চলা জরুরি।

তুলা (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর)
তুলা রাশির প্রধান খনিজ হলো সোডিয়াম ফসফেট। স্ট্রবেরি, আপেল, কিসমিস, ভুট্টায় তা পাওয়া যায়। বায়ু প্রতীকধারী তুলাকে বায়ু উচ্চ থাকা অবস্থায় বেশি করে আধাসিদ্ধ সবজি খেতে হবে। কিডনী হলো তুলার প্রধান অঙ্গ। তাই এর যত্নে সচেতন হতে হবে।

বৃশ্চিক (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর)
ক্যালসিয়াম সালফেটযুক্ত খাবার যেমন দুধ, নারিকেল, পনির ইত্যাদি বৃশ্চিকের জন্য উপাদেয়। বৃশ্চিকের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ভাত, আটা প্রভৃতি থাকা উচিত।

ধনু (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর)
ধনু জাতকরা সবসময় অস্থির এবং চঞ্চল হয়ে থাকে। কিন্তু সহজেই স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার জন্য খাবারের তালিকায় রাখা উচিত আঁশ আর শেকড় জাতীয় শাক-সবজি। অতিরিক্ত চর্বি আর মশলাযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে।

মকর (ডিসেম্বর ২২-জানুয়ারি ১৯)
মাটি প্রতীকধারী মকরকে শাক-সবজি, শিম, ফল-ফলারি, আটা ভাত প্রভৃতি শকর্রা জাতীয় খাদ্য খাবারের তালিকা ভুক্তি করা উচিত। আরথ্রাইটিস, রিউমেটিক ফিভার মকরের প্রধান সমস্যা। তাই খাবার তালিকায় সুষম খাবার রাখা উচিত।

কুম্ভ (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি)
সোডিয়াম ক্লোরাইড প্রধান খনিজ। এদের খাবারের তালিকায় থাকা উচিত উজ্জ্বল লাল শাক-সবজি, বাদাম, নারিকেল এবং আঁশ-জাতীয় খাবার। অতিরিক্ত চিনি ও দানাদার শস্য জাতীয় খাবার প্রভৃতি না খাওয়াই ভালো।

মীন (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)
মীন জাতক-জাতিকাদের রোগ শোকের ক্ষেত্রে নাজুক আর সংবেদনশীল দেখা যায়। ভালো স্বাস্থ্যের জন্য তাদের খাবারের তালিকাতে শাক-সবজি, শিম, ফল-ফলারি আটা, ভাত এবং ফলের রস, মধু এসব যুক্ত করা উচিত। খাবারের তালিকায় বাদ দেওয়া উচিত দুগ্ধজাত খাবার।

- তানভীর জাহান