শুক্রবার,২০ Jul ২০১৮
হোম / সম্পাদকীয় / কেমন বিশ্ব রেখে যাচ্ছি আমরা?
১২/৩১/২০১৭

কেমন বিশ্ব রেখে যাচ্ছি আমরা?

-

২০১৭ সালে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর জন্য কেমন বিশ্ব রেখে যাচ্ছি আমরা? বিদায়ী বছর ২০১৭ সালকে বলা হচ্ছে নতুন অস্থিরতার আঁতুড়ঘর। জগৎটা হলো রিলে রেসের মতো। সুতরাং অস্থিরতার আঁতুরঘর থেকে উঠে আসা নতুন বছরটিও নবতর অস্থিরতার ব্যাটন হাতে যাত্রা শুরু করবে।

বিদায়ী বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান, যাকে জাতিসংঘ বর্ণনা করেছে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে। প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে; সৃষ্টি হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কটের। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে বিশ্বব্যাপী। বছরের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার রাজি হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মনে। অতীতেও দেখা গেছে, কমিটমেন্টের জায়গায় মিয়ানমার প্রায়শই রং পাল্টিয়ে থাকে গিরগিটির মতো। এদিকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তুমুল চাপ থামেনি। বিদায়ী বছরেও সেখানে সলিলসমাধি ঘটে শত শত শরণার্থীর।

এদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ উপেক্ষা করে এ-বছরও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। চালিয়েছে ষষ্ঠ ও সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গতবছরও সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন নানাসময়। মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কঠিন করে তোলার পাশাপাশি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে তিনি সরিয়ে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে। জেরুজালেম প্রশ্নে ট্রাম্পের হঠকারী পদক্ষেপের পর আরববিশ্বে সৃষ্টি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

তবে সৌদি রাজপরিবারেও ক্ষমতার রদবদল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটির নতুন প্রশাসন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়, দেয় স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার অধিকারও। এমন কী ঘোষণা এসেছে সিনেমা হল চালু করারও। সকল ধরনের অস্থিরতা ও অশান্তির ভেতরেও বিশ্বব্যাপী নারীর ক্রমবর্ধমান জাগরণ আমাদের আশান্বিত করে। অব্যাহত থাকুক সেই অগ্রযাত্রা। যৌনহয়রানিকারীদের মুখোশ উন্মোচনে বিপ্লব ঘটিয়েছে ‘মি টু হ্যাশট্যাগ’। টুইটার ও ফেইসবুকে এ বিষয়ে সরব হয়ে ওঠেন বিশ্বের হাজার হাজার নানা পেশার নারীরা। এ-আন্দোলন ঢেউ তোলে সমগ্র বিশ্বে।

এভাবে বছরের শেষ সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর হিসেবের খাতা খুলে দেখলে অস্থিরতার চিত্রটিই আমাদের সামনে প্রকাশিত হচ্ছে সবচেয়ে প্রকটভাবে। নতুন বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এটা এখন আর কেবল একটি সাধারণ নির্বাচন নয়, বাংলাদেশের বৈপরীত্যপূর্ণ পরিবর্তনের সন্ধিকালও বলা যায়। প্রশ্ন জাগে, নতুন প্রজন্মের জন্য আমরা কেমন পৃথিবী রেখে যাচ্ছি?

অনন্যা’র এই বর্ষশেষ সংখ্যাও আমরা সাজাতে চেষ্টা করেছি নানাবৈচিত্র্যে। নিজের ভবিষ্যৎ জানতে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। জ্যোতিষশাস্ত্র, রাশিবিজ্ঞান গড়ে উঠেছে এভাবেই। বিনোদনমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা এবারও সাজিয়েছি রাশিসংক্রান্ত বিশেষ আইটেম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সবসময় সময়োপযোগী করে তোলে অনন্যা। আশাকরি, অনন্যা’র শ্রমসাধ্য বিবর্তিতরূপ ঋদ্ধমুগ্ধ করবে পাঠকদের।

সুন্দর আগামীর জন্য সবাইকে জানাই নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

- তাসমিমা হোসেন