বুধবার,১৭ জানুয়ারী ২০১৮
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ছেলেদের বিষণ্ণতা আর নয় উপেক্ষা
১২/১৯/২০১৭

ছেলেদের বিষণ্ণতা আর নয় উপেক্ষা

-

'বয়েজ ডোন্ট ক্রাই' - ‘ছেলেদের কাঁদতে হয় না’- সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি আপ্ত্যবাক্য বলা চলে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যুগ যুগ ধরে ছেলেদের চিত্রায়িত করা হয়েছে দৃঢ়মনোবল এবং পেশিশক্তির প্রতীক হিসেবে; মানসিক দিকগুলো তাই কেন জানি, মেয়েলি ব্যাপার হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে নানা গবেষণায় উঠে এসেছে এই ভাবমূর্তির পুরুষদের মধ্যে বাস্তুবিক জীবনে আত্মহত্যা করার প্রবণতা নারীদের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। আর এর পেছনে রয়েছে হতাশা বা অবসাদ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবেগীয় ব্যাপারগুলো সামলে নেয়ার অক্ষমতা এবং নানা মানসিক সমস্যা।

ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় লিঙ্গভিত্তিক কোনো ব্যাপার নয়। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় যে কেউই মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারেন। অবসাদগ্রস্ত পুরুষদের মধ্যে নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো কম-বেশি দেখা যেতে পারে।

এড়িয়ে চলার মনোভাব
কোনো বিষয় নিয়ে হতাশায় ভুগছেন এমন অনেক পুরুষের মাঝেই স্বাভাবিক জীবন এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখা যায়। এই এড়িয়ে চলার প্রবণতা আসলে ছেলেমেয়ে উভয়ের মধ্যে দেখা গেলেও ছেলেদের মধ্যে বেশিরভাগ সময় সমস্যাটা এড়িয়ে বিশেষ কিছু বিষয়ের উপর অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে দেখা যায়। যেমন- অনেকেই দিন-রাত অফিসের কাজের মধ্যে ডুবে থাকেন, কেউ কেউ আবার পছন্দের স্পোর্টস টিমের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করেন। আবার ইমোশনাল ইটিং, রাত জেগে মুভি দেখা, অতিরিক্ত পরিমাণে হ্যাং আউট করার প্রবণতা এসবও দেখা দিতে পারে।

ড্রাগস-অ্যালকোহলে আসক্তি
অ্যালকোহল বা ড্রাগসে আসক্তি অবসাদে ভুগছে এমন ছেলেদের মাঝে অহরহ দেখা যায়। ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা ভুলে থাকার জন্য স্মোকিং, অ্যালকোহল কিংবা ড্রাগসে পুরোপুরি নির্ভরশীল হতে দেখা যায় অনেককেই।

আচরণগত পরিবর্তন
অবসাদগ্রস্ত যে-কোনো মানুষের মধ্যেই আচরণগত বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এক্ষেত্রে ছেলেদের মধ্যে হুট করে রেগে যাওয়া, সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া এমনকি অপরাধমূলক কাজে যোগ দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যেমন- কান্ডজ্ঞানহীনভাবে গাড়ি চালানো, মৃত্যুর ঝুঁকি আছে এমন কাজ করার অভ্যাস এসব করার ঝোঁকও দেখা যায়। আবার একেবারে উল্টো চিত্রও দেখা দিতে পারে। অনেক কর্মচঞ্চল মানুষকেও হুট করে অলস হতে দেখা যায়, আবার সবসময় হাসি-খুশি রসিক মানুষটিও একেবারে চুপ হয়ে যান। পুরুষদের মাঝে অবসাদগ্রস্ততার আরেকটি উদাহরণ হতে পারে সন্দেহপ্রবণতা। সবশেষে বলতে হয় আত্মহত্যা করার প্রবণতার কথা। হতাশায় ভুগে আজকাল আত্মহত্যার পথে যাচ্ছেন এমন পুরুষের সংখ্যা কম নয়।

চিকিৎসকের কাছে যেতে অনীহা
মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের এই সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চরম অনীহা দেখা যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, পুরুষ মানুষের মানসিক সমস্যা থাকতে পারে না, এমন বদ্ধমূল ধারণাই চিকিৎসার প্রতি অনীহার প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

করণীয়
- প্রথমেই ছেলেদের অবসাদে ভোগা বা কান্নার প্রবণতা স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা তৈরি করা উচিত। নইলে সমস্যার আশু কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না।
- গল্প কিংবা নাটক-সিনেমায় পুরুষকে শারীরিক-মানসিকভাবে ইস্পাতকঠিন হিসেবে উপস্থাপন না করে স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে দেখানো উচিত। আবেগীয় ব্যাপারগুলোতে পুরুষরাও সমানভাবে সক্রিয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ভঙুরও বটে তা মেনে নেয়ার সময় এসেছে।
- মানসিক সমস্যা বিষয়টিকে ট্যাবু হিসেবে না ভেবে খোলামেলা আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। তাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটাও জরুরি।
- পুরুষের মাঝে হতাশা, অবসাদগ্রস্ততা বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ দেখা দিলে দ্রুত মনোবিদের সাহায্য নিতে হবে। আর এ ধরনের লক্ষণ শনাক্ত করার জন্য পরিবার থেকেই প্রাথমিক উদ্যোগ নিতে হবে।
- এই ব্যাপারটি নিয়ে যে-কোনো পুরুষই যাতে নিয়মিত আলোচনা, মুক্তমনে কথা বলা কিংবা পরিবার, বন্ধু-বান্ধবের সাথে শেয়ার করার সুযোগ পান তার ব্যবস্থা করতে হবে।

- নাইব রিদোয়ান