সোমবার,১৮ Jun ২০১৮
হোম / অন্দর-বাগান / ঘর সাজাতে কুশন
১২/১৮/২০১৭

ঘর সাজাতে কুশন

-

ঘরের বিভিন্ন অংশ সাজাতে নানান আকারের আর রঙের কুশন হতে পারে দারুণ অনুষঙ্গ। হাল ফ্যাশনে ঘরের রং, পর্দা, বিছানার চাদর বা সোফার কভার ইত্যাদির সঙ্গে মানিয়ে কুশন কভার বেছে নিলে তা ঘরে আলাদা আভা যুক্ত করে।

বোহেমিয়ান প্রিন্ট কভার বা ট্রাইবাল প্রিন্ট
একরঙা সোফা বা বিছানার চাদরের সঙ্গে বোহেমিয়ান প্রিন্টের কুশন কভার বা ট্রাইবাল প্রিন্ট দারুণ মানানসই। তাছাড়া চামড়া মোড়ানো সোফার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রিন্ট ভালো লাগবে। বসার ঘরে এমন সোফার উপর কিছু কুশন এবং পাশে রাখতে পারেন কিছু গাছ। এতে প্রকৃতিরও কিছুটা ছোঁয়া থাকবে ঘরে। তবে ট্রাইবাল প্রিন্টের কুশন কভার বেছে নিলে খেয়াল রাখুন যেন ঘর সাজানোর অন্যান্য অনুষঙ্গেও এর ছোঁয়া থাকে। কাঠের সোফায় এই ধরনের প্রিন্টের কভার পরানো কুশন বেশি ভালো লাগে। পাশাপাশি টেরাকোটা ফুলদানি বা অন্য অনুষঙ্গ রাখুন ঘরের কোণায়। দেওয়ালে ঝোলান কাঠের মুখোশ। সব মিলিয়ে ঘরে আফ্রিকান আবহ তৈরি করুন।

ফুলেল নকশা
ঘর সাজাতে ফুলেল নকশার জুরি নেই। গরমের দিনগুলোতে ঘরে স্নিগ্ধভাব ফুটিয়ে তুলতে এই ধরনের নকশা কার্যকর। তবে কুশনের বদলে দেওয়ালে লাগান ফ্লোরাল প্রিন্টের ওয়ালপেপার আর কুশন কভার বেছে নিন ভিন্ন অ্যাবস্ট্রাক্ট কোনো প্রিন্টের। এতে আলাদা একটি চিত্র তৈরি হবে। চাইলে দেওয়ালের সঙ্গে মানিয়ে কোনো প্রিন্টের কুশন বেছে নেওয়া যেতে পারে।

রংবেরংয়ের কুশন
একটি রং বা প্রিন্ট বেছে না নিয়ে নানান রংয়ের একরঙা কুশন কভার বেছে নিন। ঘরের দেওয়ালে যদি হালকা রং থাকে তাহলে গাঢ় রঙের মধ্যে শেডগুলো বেছে নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সোফার কভারের রং ও প্রিন্টের বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে।

সমুদ্রের রং
সমুদ্র যদি ভালোবাসেন তাহলে তার সঙ্গে মানিয়ে সাজান বসার ঘর। সোফার পিছনের দেওয়ালে বড় একটি সমুদ্রের ছবি বা পেইন্টিং ঝুলিয়ে দিন। সোফার কুশনের কভারেও প্রাধান্য দিন নীল এবং সাদাকে। চাইলে সবুজাভ নীল রংটি থাকতে পারে পছন্দের তালিকায়। সঙ্গে পাহাড়ের ছোঁয়াও রাখা যেতে পারে। হালকা সবুজের ছোঁয়া থাকলেও প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতা ফুটে উঠবে ঘরের মধ্যে।

কুশন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো জন্য কোনো বাঁধা-ধরা নিয়ম নেই। আপনার ঘর আপনি সাজাবেন মনের মাধুরী মিশিয়ে। তবে যে-কোনো ক্ষেত্রেই মানানসই বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। তেমনি যেমন কুশন কভারই বেছে নেন না কেন খেয়াল রাখুন তা যেন সোফার রঙের সঙ্গে মিলে না যায়। রঙে কিছুটা কন্ট্রাস্ট থাকলে দেখতে সুন্দর লাগবে। তেমনি কুশনের ক্ষেত্রে জবরজং নকশা এড়িয়ে চলা গেলেই ভালো।

এরপর আসুন, কুশনের সংখ্যায়। বুঝেশুনে কুশন রাখুন সোফা বা বিছানায়। খেয়াল রাখুন যেন সাজাতে গিয়ে আসল উদ্দেশ্যে ব্যাঘাত না ঘটে। সোফায় দুই কোণায় দু’টি কুশন রাখুন বড় আকারের। এরপর পাশে কাছাকাছি মাপের কুশন রাখুন। এভাবে সোফার উপর সাজিয়ে রাখুন বিভিন্ন মাপের জোড়সংখ্যার কুশন।

একই ধরনের বা একই আকারের কুশন দিয়ে ঘর সাজাতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বেছে নিন বিভিন্ন আকারের কুশন। অদলবদল করে রাখুন ঘরের বিভিন্ন কোণায়। এতে দেখতে ভিন্নতা থাকবে। তাছাড়া রং নিয়েও এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে যান। শুধু সোফা বা ঘরের রং বুঝে নয়, প্রতি মৌসুমের সঙ্গে মানিয়ে কুশনেও পরিবর্তন আনুন। পুরো ঘরকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে কুশনের জুড়ি নেই।

- ইরা