শনিবার,১৭ নভেম্বর ২০১৮
হোম / সম্পাদকীয় / ভেঙে পড়ুক নীরবতার প্রাচীর
১২/১৫/২০১৭

ভেঙে পড়ুক নীরবতার প্রাচীর

-

কোনো সিনেমার শুটিং নয়, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে বিমান চালাচ্ছেন দুই নারী বৈমানিক। অত্যন্ত বৈরী পরিবেশ, হাড়ভাঙা খাটুনির ভেতর দিয়ে সাত বছর ধরে তাঁরা তিলে তিলে তৈরি করছেন নিজেদের। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই দুজন নারী বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের নাম নাইমা হক ও তামান্না-ই-লুৎফী। এই অকুতোভয় দুঃসাহসী দুই বৈমানিক প্রথমবারের মতো কঙ্গোতে যাচ্ছেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৫ সালে অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছিল এই দুজন নারী বৈমানিককে। অমিয় সম্ভাবনাময় অনেক নারীই প্রথমবারের মতো অনন্যা শীর্ষদশে স্বীকৃতি পাওয়ার পর পা রেখেছেন নতুন উচ্চতায়। নারীপ্রতিভা অন্বেষণের প্লাটফর্ম হিসেবে অনন্যা শীর্ষদশ যে দূরদৃষ্টির উদাহরণ তৈরি করে-তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো গত ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার। বিজয়ের মাসে চট্টগ্রামে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারী শফীকে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার দিতে পেরে আমরা উচ্ছ্বসিত, গর্বিত। সম্প্রতি একটি যন্ত্রমানবী দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশে ঘুরে যাওয়া ‘সোফিয়া’ নামের এই যন্ত্রমানবী অর্জন করেছে সৌদি নাগরিকত্ব। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, সোফিয়ার পরনে ছিল না মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল পোশাক। লন্ডনের ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা মনে করে যে, সৌদি যন্ত্রমানবী সোফিয়ার যেসব অধিকার আছে, তা ওই দেশটির নারীদেরও নেই। সৌদি আরবের নতুন নেতৃত্ব দেশটির নারীসমাজের সংস্কারের পথ খুঁজছেন। তারই কি ট্রায়াল চলছে যন্ত্রমানবী সোফিয়াকে বিভিন্ন ধরনের অধিকার দেওয়ার মাধ্যমে?

এটা বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই শেরপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী সোহাগপুর গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে ১৮৭জন পুরুষকে। এই সোহাগপুর বিধবাপল্লী গতবছর থেকে নতুন নাম পেয়েছে ‘বীরকন্যাপল্লী’ হিসেবে। বিজয় দিবসের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে এই পল্লী নিয়েও রয়েছে বিশেষ রচনা। আসন্ন বড়দিন উপলক্ষে আমরা প্রকাশ করেছি বিশেষ রেসিপি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গৃহস্থালি বা খানা আয়-ব্যয় জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, নারী পরিচালিত পরিবারগুলোর দারিদ্র্যের হার পুরুষ পরিচালিত পরিবারগুলোর তুলনায় কম। অর্থাৎ যে পরিবারের প্রধানব্যক্তি একজন নারী হয়, সেই পরিবারে দারিদ্র্যের হার কমে এবং ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। সুতরাং বাস্তবের জমিনে দাঁড়িয়েই আমরা একথা উচ্চারণ করতে পারি, দায়িত্ব অর্পিত হলে নারী বহুক্ষেত্রেই পুরুষের তুলনায় আরো ভালোভাবে সামলাতে পারেন।

এবার টাইম ম্যাগাজিনের বিচারে বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব হয়েছে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ (#মি টু)। যৌনহয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে সারা বিশ্বে আলোড়ন তোলা এই ‘#মি টু’ ক্যাম্পেইনকে বলা যায়-দ্য সাইলেন্স ব্রেকারস। এটা হলো যৌনহেনস্থাকারীর মুখোশ উন্মোচনের অত্যন্ত শক্তিশালী একটি উপায়। এই পথে পা রেখে সাহসী উদাহরণ তৈরি করতে পারেন এদেশের নিপীড়িত নারীরাও। মুখোশ উন্মোচনেই রোখা সম্ভব অপরাধীর ভবিষ্যৎ অপরাধ। সুতরাং ভেঙে পড়ুক নীরবতার প্রাচীর।

সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

- তাসমিমা হোসেন