বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
হোম / ফিচার / ত্রিশ বছরে অনন্যাঃ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
১১/১১/২০১৭

ত্রিশ বছরে অনন্যাঃ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

-

পাক্ষিক অনন্যা পথচলায় ৩০ বছরে পা রেখেছে। প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ সালের ১৬ই অক্টোবর। দীর্ঘ এই পথচলায় অনন্যা সহযোদ্ধা হিসেবে অনেককে কাছে পেয়েছে। তাঁদের সকলকে অনন্যার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। অনন্যার এই দীর্ঘযাত্রায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের খ্যাতনামা কয়েকজন লেখক-সংগঠক-শিল্পী-নারী উন্নয়নকর্মী এবং সর্বোপরি সফল নারী।

প্রতিভা মুৎসুদ্দী
পরিচালক
কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট
সাউথ বেঙ্গল মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

আন্তরিক অভিনন্দন পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার জন্য। দীর্ঘ ত্রিশ বছর পেরিয়ে এসেছে সে, পার হতে হবে আরো অনেক পথ। এই পথ চলার অদম্য সাহসকে অভিনন্দন। নারীর সংগ্রাম ও অর্জন আজ আর কোনো কল্পকথা নয়। কোথায় নেই নারীর অংশগ্রহণ ও সাফল্য? ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভূমি আন্দোলন থেকে শুরু করে নারীর স্বাধীনতা ও মানবাধিকার অর্জনের জন্য আন্দোলন, এ আন্দোলনই কখনো তার হাতে উঠেছে অস্ত্র কখনো কলম। সব সামাজিক বাঁধা পেরিয়ে নারীশিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মজগতে হয়ে ওঠেছে আলোময়ী। গত শতকের প্রায় অর্ধশত বছর নারী ছিল অসম্ভব একটি বৈরী পরিবেশে অন্তরীণ। তাকে অবিরত সংগ্রাম করতে হয়েছে পরিবার ও সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। বাঁধা প্রতিকূলতা সহিংসতা শোষণ বৈষম্য এখনও নারীর চলার পথে বড় অন্তরায়। এই প্রতিকূল অবস্থায় নারীর পাশে দাঁড়াবার এক সাহসী শক্তির নাম পাক্ষিক অনন্যা। নারীর অগ্রগতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব বেগম রোকেয়ার পদচিহ্ন অনুসরণ করে এগিয়ে আসা নারী আজ উজ্জ্বল তারকা। শিক্ষাঙ্গনে সাহিত্য, সংস্কৃতি রাজনীতি, গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা, প্রশাসনিক, অভিবাসনিক, পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে আকাশ জয়ে ও পর্বত আরোহণে, চিত্রকলা, ক্ষমতায়নে, মন্ত্রিপরিষদে, দেশনেত্রীত্বে নারী। সবক্ষেত্রেই রয়েছে অনন্যার অনুসন্ধানী চোখ। সাংবাদিকতার জগতে অনন্য ব্যক্তিত্ব তাসমিমা হোসেনের দক্ষ সম্পাদনায় পত্রিকাটি আজ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। আশা রাখি, পাক্ষিক অনন্যার কলমের জোরে মানুষের মনে যেদিন শুভবোধ, বিচারবোধ জাগ্রত হবে সেদিনই সার্থক হবে অনন্যার পথচলা। নতুন সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন। অনন্যার প্রতিটি সংখ্যায় ফুটে উঠুক সৃজন ভাবনার মঞ্জুরি।
এই শুভ কামনায়

জাহানারা নওশিন
কথাসাহিত্যিক
(অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারজয়ী-১৪২১)

৩০ বছর একটি পত্রিকার জন্য দীর্ঘ সময় বটে। বিশেষ করে পত্রিকাটি যখন নারীবিয়ষক। আমি যখন প্রথম অনন্যা দেখি, তখন আমি মফস্বলে থাকি, প্রায়ই দেখতাম প্রচ্ছদে একজন সুন্দর তরুণীর ছবি। আমার মনে হতো এই মেয়েটিই কি অনন্যা! তার চোখে মুখে ভালো করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতাম, না বিশেষ কিছু না। নারীশক্তি আসলে ভেতর থেকে আসে। অনন্যা পত্রিকার ভেতরে প্রবেশ করলে সেটা বোঝাও যায়। মূল শক্তিটা অনন্যার কনটেন্ট বা কথাবস্তুতে। গত কয়েকবছর থেকে সেটা আরো ভালো টের পাচ্ছি। অনন্যা এখন অনেক পরিপাটি, অনেক আধুনিক হয়েছে। অনেক নতুন নতুন বিষয় প্রতিনিয়ত উঠিয়ে এনে অনন্যা নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যথার্থতা প্রকাশ করছে। পাশাপাশি সাহিত্য পুরস্কার ও শীর্ষদশ নারী সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে নারীর শক্তিমত্তার সামাজিক স্বীকৃতি প্রদান করছে-এটাও অনেক বড় কাজ। আমি চাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনন্যা এমনি করে টিকে থাক।

মালেকা বেগম
বিভাগীয় প্রধান, সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি
(অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারজয়ী-১৪১৮)

সফলভাবে ত্রিশবছর পূর্তিতে পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদককে শুভেচ্ছা জানাই। পত্রিকাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি অসাধ্যকে সাধ্য করেছে। নারীবিষয়ক আর কোনো পত্রিকা অনন্যার মতো মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। আজ যেখানে প্রিন্ট মিডিয়া অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে অনন্যা আরো উদ্যমী হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সময়ের সাথে নিজেকে মিলিয়ে মেজাজ বদলেছে। অনন্যার এই টিকে থাকা নারীর জয়ধ্বনি বটে। আজকের এই অবস্থানে এসে অনন্যার কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। কখনো কখনো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছি আমরা। তবে আগামীতে আমরা চাইবো, অনন্যা আধুনিক নারীর নতুন নতুন সংকটকে সামনে আনুক। নাগরিক ও কর্পোরেট জীবনে নারী অন্যভাবে বঞ্চিত-শোষিত হচ্ছে- সেসব মনে রেখে আরো সুচিন্তিত লেখা প্রত্যাশা করি।
সবশেষে অনন্যার সম্পাদক ও প্রকাশক তাসমিমা হোসনকে শুভেচ্ছা জানাই। তাঁর ইচ্ছা, প্রচেষ্টা ও শ্রমের কারণে অনন্যা টিকে আছে। বলিষ্ঠ হচ্ছে নিয়ত।

সেলিনা হোসেন
কথাসাহিত্যিক
(অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারজয়ী-১৪০১)

পাক্ষিক অনন্যা ৩০ বছরে পা দিচ্ছে- এটি আমাদের সকলের জন্য আনন্দের সংবাদ। পত্রিকাটি যাত্রা শুরু করার পর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে, একটি বারের জন্যও থমকে দাঁড়ায় নি। এর জন্যে অনন্যার প্রকাশক ও সম্পাদক তাসমিমা হোসেনকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই। তিনি নিজে একটি দায়িত্ব নিয়েছেন, পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অধিকার ও মর্যাদা সুদঢ় করতে, সেই দায়িত্ব থেকে তিনি এতটুকু সরে যাননি। অনন্যা শুধু পত্রিকা প্রকাশ নয়, সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করে নারী লেখকদের স্বীকৃতি প্রদান করে চলেছে। পাশাপাশি নারীর সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হচ্ছে শীর্ষদশ নারী সম্মাননা। এদুটি পুরস্কারও চালু করার পর থেকে নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে। দুটি পুরস্কারের যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, তা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি। আমি অনেককে বলতে শুনেছি, শীর্ষদশ সম্মাননা পেলে বা সাহিত্য পুরস্কার পেলে আমার ভালো লাগত। এটা কম কথা নয়।
তবে অনন্যার বর্তমান সংখ্যাগুলোতে লক্ষ্য করছি নারীবিষয়ক সিরিয়াস লেখা প্রকাশের হার কমে গেছে। রেসিপি অনেক ছাপা হচ্ছে। আমার মনে হয় রান্না কমিয়ে ইস্যুভিত্তিক আলোচনায় জোর দেওয়া যেতে পারে। বছর কয়েক আগে অনন্যা যে মেজাজে ছিল, তেমনটি করা যায় কিনা ভাবা যেতে পারে।
পাক্ষিক অনন্যার সঙ্গে শুরু থেকে আছি। এটা আমার আত্মতৃপ্তির জায়গা। আমি চাইবো পত্রিকাটি যেন কোনো অবস্থাতে বন্ধ না হয়। আবারো তাসমিমা হোসেন এবং অনন্যা পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাই।

গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী
চেয়ারম্যান, অ্যাডকম লিমিটেড
(অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা জয়ী-১৯৯৫)

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নারীবিষয়ক পত্রিকা ‘পাক্ষিক অনন্যা’র ৩০ বছরে পদার্পণ নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি আনন্দের সংবাদ। যে দেশে শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রসহ সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, পিছিয়ে পড়ছে, সেখানে নারীদের বিষয়-আশয় নিয়ে একটি পত্রিকার নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রায় তিন দশক ধরে পথচলা-সত্যিই বড় একটি ঘটনা। এই পথচলার পিছনে যে শক্তি বা সাহস কাজ করেছে তা হলো এদেশের নারীদের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের জন্য কিছু কাজ করে যাওয়া।
পাক্ষিক অনন্যা এবং এর সম্পাদক তাসমিমা হোসেনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই এই শুভক্ষণে। পাক্ষিক অনন্যা একটি দায়িত্বশীল পত্রিকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নারীবিষয়ক জাতীয় সমস্যা, সংকট, সম্ভাবনাকে যেমন আমাদের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত বাংলাদেশের নারীকে আরো সামনে এগিয়ে যেতে প্রণোদনামূলক নানারকম কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দুটি কর্মকাণ্ডের কথা না বললেই নয়। প্রথমটি হলো- ‘অনন্যা শীর্ষ দশ’ পুরস্কার। প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা আলোচিত ১০ নারীকে নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা এবং তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো। শুরুর দিকে আমি নিজেও ‘অনন্যা শীর্ষদশ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছি এবং আরো ভালো কাজ করার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি। বাংলাদেশের নারীসমাজকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অনন্যার এই আয়োজন সত্যিই অনন্য। দ্বিতীয়টি হলো- ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার’। লেখালেখি ও সাহিত্য অঙ্গনে নারীকে উৎসাহী করে তোলার ক্ষেত্রে তাদের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। আশা করি ভবিষ্যতে এদেশের নারীর কল্যাণে অনন্যা আরো অনেক নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
অনন্যার সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

জওশন আরা রহমান
নারী উন্নয়ন কর্মী ও গবেষক
(অনন্যা শীর্ষদশজয়ী-২০১১)

অনন্যার গত ৩০ বছরের যাত্রা মসৃণ ছিল না বলে আমার বিশ্বাস। নিশ্চয় অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে আজ এখানে এসে পৌঁছেছে। এই সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমা অতিক্রম করার জন্য প্রয়োজন প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাস, প্রত্যয়। প্রচুর সাহস এবং ধৈর্য। এসবই অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের ছিল। আশা করি এই গ্রগতিশীল নারীবিষয়ক পাক্ষিক পত্রিকাটি এমন উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আলো দিয়ে যাবে। আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইল।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী
ভাস্করশিল্পী
(অনন্যা শীর্ষদশজয়ী-১৯৯৯)

অনন্যার পথচলায় ত্রিশ বছর অতিক্রান্ত হলো। আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। পত্রিকাটি নারীদের প্রমোট করে। নারীর মেধা ও মনন বিকাশে কাজ করে। অনন্যা অনেক সাহসী বিষয় যুক্তিনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করে। আমি নিজে অনন্যাকে প্রাণে ধারণ করি। আমি গর্ববোধ করি যে অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননাপ্রাপ্ত নারী আমি। অনন্যাটি যিনি চালান তিনি নিজেও অনন্যা বলে আমি মনে করি। আমাদের সবার প্রিয় ও ভালোবাসার মানুষ তাসমিমা হোসেনকেও শুভেচ্ছা জানাই। আমি চাই অনন্যাতে শিক্ষামূলক লেখা আরো প্রকাশিত হোক। নারী স্বাধীনতা উদ্ধত আচরণ করার স্বাধীনতা নয়। নারী-পুরুষ সকলেই সমাজের কাছে দায়বদ্ধ। মানবতাই প্রতিষ্ঠাই হোন নারী-পুরুষের একমাত্র লক্ষ্য।

ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ
কথাসাহিত্যিক
(অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারজয়ী-১৪১৫)

চার পাশেতে কিসের এত
মিষ্টি কলরোল
মনের মাঝে ফুটছে কেন
জুঁই করবীর ফুল।
হে অনন্যা। পার করেছ
দীর্ঘ তিরিশ বছর
ছড়িয়ে দিয়ে পাঠক-রাজ্যে
মনকাড়া এক আতর।
তাই বুঝি আজ চারদিকেতে
খুশির ডামাডোল
জুঁই-করবীর সবুজ শাখে
শালিক পাখির দোল।

অনাবিল শুভেচ্ছা জানাই অনন্যাকে। পাঠক-প্রিয় হয়েছে বলেই দীর্ঘদিন পথচলা পত্রিকাটির সম্ভব হয়েছে। উত্তরোত্তর এর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি। যাকে ভরসা করি তার কাছেই আমাদের প্রত্যাশা থাকে। আরও সুশোভিত হয়ে, অনিন্দ্যসুন্দর হয়ে পাঠকের হাতে পৌঁছাক-শুভদিনে এই কামনা। সুদীর্ঘ সময় ধরে মনোরম অনন্যাকে কাছে পেয়েছি, অনেক কিছু জেনেছি, বুঝেছি- সমৃদ্ধি করেছি নিজেকে। অনন্যা-পরিবারক অনন্ত শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সম্পাদকের সুযোগ্য পরিচালনায় উদয় শিখরের পথে এগিয়ে যাবে তুমি। হে অনন্যা! চির আয়ুষ্মতী হও। জয়তু অনন্যা!


দিলারা মেসবাহ
লেখক
সভাপতি, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ

অনন্যা ত্রিশ বছরে পা দিয়েছে, এটা পত্রিকার জগতে একটা বিরাট ঘটনা। বাংলাদেশের অবদমিত নারী সমাজকে বিবেচনায় রেখে অনন্যার যাত্রা শুরু। এরপর তিল তিল করে অনন্যা নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে। সমৃদ্ধ হয়েছে দেশের নারীসমাজ। অনন্যার একশত গুণাবলী অর্জনের পেছনে সদা কলকাঠি নাড়াচ্ছেন একজন জয়িতা, তিনি দেশের নারীমহলের গৌরব- তাসমিমা হোসেন। অনন্যা দেশের গুণীনারীদের একত্রিত করে মহাসমারোহে বছরের শীর্ষদশ নারীকে সম্মাননা প্রদান করে। সাহিত্যে একজন করে নারী লেখক সম্মানিত হোন-এসব মহৎ কাজ অনন্যা করে চলেছে। ত্রিশের কোঠায় দাঁড়িয়ে অনন্যা নিশ্চয় গর্ব করে বলতে পারে নারীর অগ্রযাত্রার কথা। নারী স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বহু ঘটনা ও আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে আছে পত্রিকাটি। আমি তার আরো দীর্ঘজীবন ও উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।

- নাসরিন সুলতানা