বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / সাজিয়ে নিন হোম অফিস
১০/২৩/২০১৭

সাজিয়ে নিন হোম অফিস

-

ইন্টারনেটের এই যুগে নিজের বাড়িতে ছোটো করে অফিস বানিয়ে নেয়া এখন প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন্ডেও পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী পরিশ্রমী মানুষরা নিজেদের বাড়িতে সৃজনশীল এবং অনুপ্রেরণামূলক কাজের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন। একটি মার্জিত হোম অফিস গড়ে তোলা যায় সহজেই। খেয়াল রাখতে হবে কিছু ছোটখাট ব্যাপার।

জায়গা
আপনার এপার্টমেন্ট যদি ছোট হয় আর আলাদা করে অফিস করার জায়গা না থাকে, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। জায়গা ছোট হলে কীভাবে জিনিসগুলো সাজাচ্ছেন তার উপর অফিসের লুক নির্ভর করে। ঘরের যে কোনো একটি কোণ খালি করে তাতে একটি টেবিল বসিয়ে দিন এবং চারদিকে কাঠের পার্টিশন, এতে ছোটখাটো একটি অফিস কিউবিকল হয়ে যাবে আপনার নিজের। অফিসে জায়গা কম থাকলে টেবিলের নিচে একটি ছোটো বাক্স রাখুন ম্যাগাজিন বা পেপার রাখার জন্য। তবে জায়গা নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকলে হাজারো অপশন আছে হোম অফিস সাজাবার। বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করে এক রঙের ফার্নিচার বসিয়ে খুব মার্জিত একটি অফিসের পরিবেশ তৈরি করে নিতে পারবেন সহজেই।

সৃজনশীলতা
ভালো একটি অফিস রুমের জন্য জায়গার চেয়ে বেশি সৃজনশীলতার দরকার হয়। হোম অফিসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনার নিজের ব্যক্তিগত ছোঁয়া দিয়ে সম্পূর্ণ করতে পারেন সাজটি। অফিস টেবিলের একপাশে একটি লম্বা কাঠের বুকশেলফ রাখলে ঘরের লুকই বদলে যাবে, আরেকপাশে ছোটো একটি কাঠের মই রাখা যায় যাতে ম্যাগাজিন ও পেপার রাখতে পারেন। ঘরোয়া ছোঁয়া আনতে আপনার ডেস্কের চেয়ারে বা পাশের সোফায় ছোটো কুশন দিয়ে দিন কয়েকটি। এতে কাজের ফাঁকের সময়ের আড্ডায় আরামদায়ক একটি পরিবেশ তৈরি হয়। অফিস ফার্নিচারের উপর বিভিন্ন ধরনের হাতে বানানো জিনিস রেখে অফিস কোড ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

আসবাবপত্র
বাসায় অফিসের জন্য আপনি যেই ফার্নিচার পছন্দ করবেন তা আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে হওয়া উচিত। গতানুগতিক চিন্তা থেকে একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করে ফার্নিচার পছন্দ করুন। ঘরে অফিসে একটি আরামদায়ক চেয়ার খুবই প্রয়োজনীয়। কারণ দিনের অনেকটুকু সময় এতে বসে থাকতে হয়। তাই চেয়ার কেনার আগে চিন্তা করুন কোনটি আপনাকে অধিকতর আরাম দেবে, পাশাপাশি পরিবেশটাও যেন নান্দনিক হয়। যদি নির্দিষ্ট কোনো রং, স্পোর্টস টিম বা অন্য যে কোনো থিম আপনার মনে আনন্দ নিয়ে আসে, তাহলে এমন একটি চেয়ার খুঁজে বের করুন, যা সেই থিমের সঙ্গে মানানসই। যদিও সব অফিসেরই নিজস্ব চেয়ার থাকে, নতুন এবং ভিন্নধর্মী চেয়ার নিয়ে এলে তা আপনার কিউবিকলের লুক সম্পূর্ণভাবে বদলে দেবে। কেননা অফিস স্পেসে সবচেয়ে দৃশ্যমান বস্তুটি কিন্তু আপনার চেয়ারটিই। নিজের বাসা হওয়ায় আপনি আসবাবপত্রগুলো মনোমতো বানিয়েও নিতে পারেন।

আলোকসজ্জা
গতানুগতিক অফিস কিউবিকলের মতো আপনারটিও সোডিয়াম আলোর নিচে হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বরং আপনার কিউবিকলে কম্পিউটারের পাশে ছোট্ট, সুন্দর একটি ডেস্ক ল্যাম্প রাখুন। শেড পছন্দ করুন আপনার রুচি অনুযায়ী। বাজারে এখন নানাধরনের ও ডিজাইনের ল্যাম্পশেড পাওয়া যায়। পছন্দমতো বেছে নিন। এবার আপনার নিজস্ব ল্যাম্পটি জ্বালিয়ে তার মনোরম আলোয় কাজ করুন। দিনের বেলা কাজের জন্য প্রাকৃতিক আলোর সাহায্য না নিয়ে উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করাই ভালো। ভিন্ন ধরনের কিছু করতে চাইলে বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রনিক প্রদীপের আলো রাখুন, এতে ঘরে বৈচিত্র্য আসবে।

দেয়াল
একটি সুন্দর হোম অফিস শুধু কম্পিউটার বা আসবাবপত্রের উপরই নির্ভর করে না, দেয়াল ও তার রঙও এখানে খুব দরকারি একটি ব্যাপার। বেশিরভাগ অফিসের রঙ নিউট্রাল হয়ে থাকে সবার কথা চিন্তা করে। কিন্তু হোম অফিস যেহেতু আপনার পছন্দে হচ্ছে, তাই দেয়ালটিকে মনোমতো রঙ করে নিতে পারেন। অফিসটির দেয়াল আপনার পছন্দের রঙে সাজাতে পারেন, ব্যবহার করতে পারেন ওয়ালপেপার। যেকোনো একটি দেয়ালকে ক্রিয়েটিভ কর্নার বানিয়ে তাতে আর্টিস্টিক পেইন্ট করানো যেতে পারে বা বোর্ড বসাতে পারেন, যাতে দিনের টু-ডু লিস্ট বা ছোটোখাটো রিমাইন্ডার লিখে রাখতে পারেন।

- নুসরাত ইসলাম