বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / মেয়ের ফোনে অশালীন আলাপচারিতা। কি করবো?
১০/২২/২০১৭

মেয়ের ফোনে অশালীন আলাপচারিতা। কি করবো?

-

প্রশ্নঃ আমার মেয়ের বয়স ১৬। কিছুদিন ধরেই সে নতুন কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে মেলামেশা করছে; কিন্তু আমার তাদের মোটেও পছন্দ না। তাদের সবারই বয়স ১৬ বছরের আশপাশে, অর্থাৎ টিনএজার। কিন্তু তারা অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে ঘোরাঘুরি করে। ছেলেদের সঙ্গেও তাদের মেলামেশা বেশি।
আমি বা আমার পরিবার সংকীর্ণমনা নই; কিন্তু আমি চাই আমার মেয়ে আগে নিজে থেকে ভালোমন্দ বুঝতে শিখুক এবং পরিবারের আদর্শ মেনে চলুক।
আমি কিছুদিন আগে আমার মেয়ের ফোন প্রথমবারের মতো চেক করি। আর সেখানে আমি এমন কিছু মেসেজ পাই যা মোটেও রুচিশীল নয়। ‘হোয়াটস অ্যাপ’-এর একটি গ্রুপে তাদের চ্যাট পড়ি। যেখানে তারা ‘সেক্স’ নিয়ে আলাপ করছিল। আমি তাদের কথা বলার বিষয়বস্তু এবং ধরন থেকে রীতিমতো অবাক হয়েছি। তারা খুব সাবলীলভাবে শারীরিক সম্পর্ক এবং এই বিষয়ক কথাগুলো বলছিল।

আমার এখন কি করা উচিত? আমি কি আমার মেয়েকে বলবো যে, আমি তার ফোন চেক করেছি এবং তাদের চ্যাট পড়েছি? এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো যায় আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।

জিজ্ঞাসার উত্তরঃ সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে অনেক মা-বাবাই সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। আর এমন মানসিক পরিস্থিতি থেকে তারা সন্তানের কাজকর্ম অনেকটা গুপ্তচরের মতোই খুঁটিয়ে দেখতে থাকেন। এ পর্যায়ে সন্তান ও মা-বাবার সম্পর্কের মধ্যে অনেকটা চোর-পুলিশের মতো ব্যপার তৈরি হয়। যদিও মা-বাবা সন্তানের ভালোর জন্যই এমনটা করে থাকেন।

টিনএজ বয়সে এসে ছেলে-মেয়েদের ব্যক্তিগত জগৎ তৈরি হয়। আর আপনার মেয়ে এবং তার সমবয়সী বান্ধবীরা কি নিয়ে আলাপ করবে তা আপনি চাইলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তাই আপনি যদি তাদের মা-বাবার সঙ্গেও কথা বলতে চান তা থেকে কোনো ভালো ফল পাওয়া যাবে না।
অন্যদিকে আপনি যদি আপনার সন্তানের সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে রাগারাগী করেন এবং জানান যে আপনি তার কনভারসেশন পড়েছেন তাহলে বরং পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে। আপনার সন্তান আপনার কাছ সবকিছু আরো লুকানোর চেষ্টা করবে।

টিনএজ বয়সে এসেই সাধারণত ছেলেমেয়েদের মাঝে যৌন বিষয়ের ব্যাপারে আগ্রহ ও কৌতুহল দেখা দিতে থাকে। আর আমাদের দেশে এটি একটি ট্যাবু বিষয় বলে সন্তানেরা না পারে বাবা-মার সাথে কথা বলতে, না পারে ভালো বইপত্র থেকে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে।

তাই সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভভাবে কথা বলুন। তাকে বোঝান যে সে আপনার সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে খোলাখুলিভাবে আলাপ করতে পারে।

সেক্স এডুকেশনের ব্যাপারে তার সাথে কথা বলুন। কথা বলতে অস্বস্তি হলে তাকে এ বিষয়ের ওপর ভালো বই পড়তে দিন কিংবা ভিজিট করতে বলুন ইনফরমেটিভ ওয়েবসাইটগুলো। সন্তানের সাথে আপনি নিজেও কিন্তু এ পড়াশোনাগুলো করতে পারেন। এতে আপনার সাথে সন্তানের বন্ডিং ভালো হবে। এছাড়াও সে আজেবাজে বই কিংবা ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিচ্ছে কি না তার উপর নজর রাখতে পারবেন।

বন্ধু বাছাইয়ে সচেতন হওয়ার বিষয়টিও তাকে বোঝাতে পারেন কথার ছলেই। আর সবচেয়ে জরুরি হোল - আপনার সন্তানের ওপর বিশ্বাস রাখুন।