সোমবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / খাবার-দাবার / নববর্ষে রসনা বিলাস
০৪/০১/২০১৬

নববর্ষে রসনা বিলাস

-

বছর ঘুরে আরও একবার দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর উৎসব-আয়োজনে আমাদের রসনা বিলাস এককথায় জগদ্বিখ্যাত। প্রতিবারের মতো তাই এবারও পহেলা বৈশাখকে ঘিরে শহরের ছোট-বড় রেস্তোরাঁগুলোতে থাকছে খাওয়া-দাওয়ার মহাআয়োজন।

ঢাকার রেস্তোরায় পহেলা বৈশাখ
বছরের বাকি দিনগুলোতে যতই ফাস্টফুড, চাইনিজ বা কন্টিনেন্টাল খাবারের প্রতি ঝোঁক থাকুক না কেন, এই দিনটা অন্তত ষোলআনা-বাঙালিয়ানার জন্য বরাদ্দ থাকে। আর এই দিনটিতে পান্তা-ইলিশ খাওয়াটা বছরের পর বছর ধরে বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এর সঙ্গে পাঁচমিশালি সবজি, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, মুড়িঘণ্ট, মুরগি, খাসি ও গরুর মাংস এবং মাছ ও চাটনি যোগ হলে জিভে জল আসতে বাধ্য।

বাংলা বছরের প্রথম দিনে অনেকটা গ্রামীণ আবহে সকাল বা দুপুরের খাবার সেরে নিতে রাজধানীর লালমাটিয়াতে অবস্থিত কুটুমবাড়ি রেস্তোরাঁ থেকে ঘুরে আসতে পারেন। প্রতিবছর পান্তা ইলিশ, ইলিশ পোলাও, ইলিশ খিঁচুড়ি ছাড়াও টাকিমাছের ভর্তা, চ্যাপা শুটকির ভর্তাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের নানা আয়োজন থাকে এই রেস্তোরাতে।

রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত পুরান ঢাকা রেস্তোরাঁয় পহেলা বৈশাখের দিনটিতে সম্পূর্ণ দেশিয় আবহ তৈরি করা হয়। এই দিন রেস্তোরাঁটিতে লোভনীয় ইলিশ পোলাও, চিকেন রোস্ট, বিভিন্ন পদের ভর্তা ও গোলাপ জামুনের বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়া এই দিনটিতে পরিবার পরিজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেশিয় খাবার চেখে দেখতে যেতে পারেন শহরের বাংলাবাজারে অবস্থিত বিউটি বোর্ডিং, পুরানা পল্টনের রাঁধুনি ও কস্তুরী, খন্দকার রেস্তোরাঁসহ ছোটবড় নানা রেস্তোরাতে। পান্তা-ইলিশ বা শর্ষে-ইলিশ ছাড়াও কাসুন্দি দিয়ে রান্না পাটশাক, খাশির ডাল গোস্ত, চিংড়ি, শুটকি, আলু, টমেটো, ডাল, বেগুন-ভর্তা, বিভিন্ন ধরনের কাবাব ও নানরুটি পাওয়া যাবে।

তারকা হোটেলে বর্ষবরণ আয়োজন
পহেলা বৈশাখের দিনটিতে ওয়েস্টিন, হোটেল সোনারগাঁ, হোটেল সারিনা, ঢাকা রিজেন্সি বা রেডিসন ব্লুর মতো নামীদামি হোটেলগুলোতেও বাঙালিয়ানা লক্ষ্য করা যায়। পহেলা বৈশাখে বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়স্বজন অনেকজন মিলে একই সাথে দুপুর বা রাতের খাবার খেতে চাইলে আগে থেকেই এ সকল হোটেলগুলোতে বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন। এখানে বুফে লাঞ্চ ও ডিনারে পহেলা বৈশাখের যাবতীয় খাবারের আয়োজন থাকবে। এছাড়া বর্ষবরণের গতানুগতিক আয়োজন ছাড়াও চটপটি, ফুচকা, পিঠাপুলি কিংবা হাওয়াই-মিঠাই, গুড়ের সন্দেশজাতীয় খাবারেরও আয়োজন করা হয়।

এই দিনটিতে হোটেলগুলোতে বাঙালি আমেজে মেহেদি উৎসব, লোকসংগীত ও বাঁশির আসরের ব্যাবস্থাও থাকবে। এছাড়া নির্মল বিনোদনের জন্য ভাগ্যগণক টিয়াপাখি, ফেস পেইন্টিং, ম্যাজিক শোসহ অন্যান্য আয়োজন তো থাকছেই।

সার্বজনীন পহেলা বৈশাখ
ঢাকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্ষবরণের খাওয়া-দাওয়ার মহাযজ্ঞে চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোও পিছিয়ে নেই। চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদ, পেনিনসুলা, স্যাফরন স্পাইস, ওয়েলপার্ক রেডিসনের মতো তারকা হোটেলগুলোতে বৈশাখের প্রথম দিনে বিশেষ আয়োজন লক্ষ্য করা যায়।

এক্ষেত্রে প্রতিবছর হোটেল আগ্রাবাদে নির্দিষ্ট দিনব্যাপী বৈশাখি খাদ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই খাদ্য উৎসবে সামুদ্রিক মাছসহ প্রায় ৬০ পদের বাঙালি খাবার থাকে। চট্টগ্রামের চার-তারকা হোটেল পেনিনসুলায় ৪০ পদের বাঙালি খাবারসহ থাকে বুফে আয়োজন। একই নগরের আগ্রাবাদ এলাকার স্যাফরন স্পাইস রেস্তোরাঁয় একশ বা তারও অধিক পদ নিয়ে বুফে খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে প্রতিবছর ইলিশ পোলাও, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ ভাজা, সরিষা ইলিশ, দই ইলিশ কারি, ভাপা ইলিশ, আনারস ইলিশসহ শুধু ইলিশ মাছেরই অন্তত ১০ পদ রাখা হয় এখানে।
চট্টগ্রাম ছাড়াও রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল সহ অন্যান্য বিভাগস্থ অঞ্চলগুলোর বড় হোটেল থেকে শুরু করে স্থানীয় রেস্টুরেন্ট-মোটামুটি সব জায়গায়ই বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিতে খাওয়া-দাওয়ার উৎসব লক্ষ্য করা যায়। তাই দেশের যেখানেই থাকুন বা বাজেট যাই হোক না কেন, বর্ষবরণের দিনটিতে রসনা-বিলাসের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুষ্করই বটে।

-নাইব মুহাম্মদ রিদোয়ান