সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / বই সাজানোর প্রিয় শেলফ
০৯/১৬/২০১৭

বই সাজানোর প্রিয় শেলফ

-

বই ভালবাসেন কিংবা বই পড়ে কাটিয়ে দেন অবসরের বিরাট অংশ, এমন মানুষের সংখ্যা এখনও অনেক। মানসিক উৎকর্ষ ও বিনোদনের জন্য বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বই পড়ে আপনি এক মুহূর্তে সব দুশ্চিন্তা ভুলে নিজের স্বপ্নের দুনিয়ায় পৌঁছে যেতে পারেন। তবে কোনো ঝামেলা ছাড়া বই পড়া উপভোগ করতে চাইলে প্রথমে জায়গা ও প্রয়োজনীয়তা বুঝে বই রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

লিভিং রুমে বইয়ের তাক বানাতে চাইলে জায়গাটি বসার জায়গার চেয়ে বেশি লাইব্রেরীর মতো মনে হবে। তাই চেষ্টা করুন ঘরে একটির বেশি বুক শেলফ না রাখার। বুক শেলফ না রেখে এবং অযথা জায়গা না নিয়ে লিভিং রুমের ছোটো ছোটো খালি জায়গাগুলোতে, যেমন কর্নার বা জানালার নিচে বই রাখার শেলফ করে নিন।

যদি আপনার বই পড়তে পড়তে ঘুমোতে যাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে বিছানার কাছে কোথাও একটি স্টোরেজ বানিয়ে নিতে পারেন, যাতে বই নেয়া বা রাখার জন্য উঠতে না হয়। অনেক বিছানার নিচে খোলা থাকে, বই রাখার জন্য ড্রয়ার করতে পারেন এখানেই। নতুন বিছানা কিনতে হলে বিল্ট-ইন বিছানা কিনে ফেলুন, এতে আপনি পছন্দ মতো শেলফ করে নিতে পারবেন।

এছাড়াও জানালার পাশে জানালার সমান উচ্চতা বিশিষ্ট ছোটো ফার্নিচার রাখুন। এতে জানালা দিয়ে বাইরে দেখার জন্য বসার একটি জায়গা পাবেন, সাথে পছন্দের বইগুলো সাজিয়ে রাখতে পারবেন।

বই পড়া যাদের শখ, তারা কখনই নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বসে বই পড়েন না। যেমন, যারা রান্না করেন তারা অনেক সময়ই রান্না ঘরে বই পড়েন। রান্নার জিনিস পত্রের মাঝখানে বই ওলট-পালট করে না রেখে রান্নাঘরে একটি ছোটো বুকশেলফ করে নিন। চুলা থেকে দূরের কোনো কেবিনেট ব্যবহার করতে পারেন অথবা গ্লাস লাগানো একটি কাপবোর্ডও বানিয়ে নিতে পারেন হাতের নাগালে। গ্লাস লাগালে রান্নাঘরের ধোঁয়া বা ময়লা থেকে বই সুরক্ষিত থাকবে। এছাড়া বই সাজাতে পারেন কাঁচের জিনিসপত্রের পাশে, এক্ষেত্রে একটি ডিভাইডার দিয়ে তাক আলাদা করে নিন। এরকম কোনো জায়গা খালি না থাকলে চিন্তার কিছু নেই। অনেকের রান্নাঘরে বিভিন্ন রকম মসলা রাখার জন্য আলাদা আলাদা সেল থাকে, এসকল জায়গাগুলো খালি না রেখে বই দিয়ে নান্দনিক করে তুলুন আপনার রান্নাঘর।

অনেকেই বাথরুমে বই পড়তে পছন্দ করেন, তা বাথটাবে আরাম করে গোসল করার জন্যই হোক কিংবা বাথরুমে কাটানো সময়টুকু নেহায়েতই বই পড়ে কাটাতে। তাই বাথরুমে বিল্ট-ইন স্টোরেজ সিস্টেম থাকাই সবচেয়ে ভালো। বাথরুম বড় হলে লম্বা করে দুটি তাক করে নিন, তবে অবশ্যই উপরের দিকে, যাতে বইয়ে পানি লেগে নষ্ট না হয়। বাথরুমে রাখার জন্য খুব বেশি বই নিবেন না, অল্প কয়েকটি বই এবং কিছু ম্যাগাজিনই যথেষ্ট। বাথটাবে গোসল করতে করতে বই পড়াটা খুবই রিল্যাক্সিং, আপনার অভ্যাস থাকলে অন্য জায়গায় শেলফ না বানিয়ে বাথটাবের পাশে কিছুটা উপরের দিকে একটি শেলফ রাখুন।

যদি আপনার স্টোরেজ রুমে জায়গা থাকে তাহলে পুরানো বা সচরাচর পড়া হয় না, এমন বইগুলো ভালো করে পলিথিনে মুড়িয়ে স্টোরেজ ঘরে রেখে দিন। তবে এর আগে আপনাকে কিছু ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে, যেমন- স্টোরেজ রুমে পানি পড়ে কিনা কিংবা ইঁদুর-জাতীয় প্রাণী আছে কিনা।

অনেকের ফ্ল্যাট বা নিজেদের বাড়িতে হলওয়ে থাকে। বাড়ির জায়গা নষ্ট করে লম্বা-সরু হলওয়ে কেউ চায়না, কেননা এই জায়গাটুকু কোনো আসবাবপত্র বসানোর জন্য উপযুক্ত নয়। হলওয়ে জুড়ে দেয়ালের সাথে চিকন বইয়ের তাক করে নেওয়া একটি চমৎকার আইডিয়া, কেননা এতে বই রাখতে আলাদা কোনো জায়গা দরকার হয়না। হলওয়েতে ভালো আলোকসজ্জা করুন, কিছু সুন্দর-নামকরা বই, সাথে গুটিকয়েক রঙ্গিন ম্যাগাজিন রাখুন।

বইপ্রেমী হিসেবে আপনার বইয়ের সংগ্রহ বাড়াতে থাকুন আর সেইসাথে ঘর সাজিয়ে নিন আপনার প্রিয় বইগুলো দিয়ে।

- নুসরাত ইসলাম