রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / আলজাইমার'স-এর সঙ্গে বসবাস
০৯/০৪/২০১৭

আলজাইমার'স-এর সঙ্গে বসবাস

-

আলজাইমার এক ধরনের ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশকারী রোগ। ধারণা করা হয়, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি মানুষ আলজাইমার রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশেও বয়োবৃদ্ধ এবং মধ্যবয়স্ক মানুষের মধ্যে এই রোগ দেখা যায়। এই রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত প্রোটিন জমা হতে থাকে। যার ফলে ‘প্লেক’ এবং ‘ট্যাঙ্গেল’ গঠিত হয় এবং স্নায়ুতে সিগন্যালে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। পর্যায়ক্রমে মস্তিষ্কের স্নায়ু ক্ষয় হয়ে যায় এবং রোগী স্মৃতি সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে।

আলজাইমার'স রোগ একবারে ধরা পড়ে না; কারণ তা মস্তিষ্কের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এবং বেশ সময় নিয়ে বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্ষয় প্রকট আকার ধারণ করে।

আলজাইমার'স রোগ এর কারণ
বিজ্ঞানীরা এখনও আলজাইমার'স রোগ এর কারণ বা ট্রিগারিং ফ্যাক্টর নির্ধারণ করতে পারেননি। তবে কিছু দিক আছে যা একজনের আলজাইমার'স রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যেমন- ১. বয়স বৃদ্ধি, ২. অতীতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা মাথায় আঘাত, ৩. হৃৎপিণ্ডে ব্লক বা ধমনীতে এই রোগ দেখা দেয়া।

লক্ষণ বা উপসর্গ
আলজাইমার'স এর উপসর্গ রোগীদের মাঝে বিভিন্নভাবে লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা নতুন তথ্য বা সাধারণ কথোপকথন মনে করতে পারে না। এর কারণ হচ্ছে মস্তিষ্কের ক্ষয়। রোগী পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে যা দৈনন্দিন জীবনে ভীষণ প্রভাব ফেলে। আরও কিছু উপসর্গ দেখা যায়, যেমন- বাসায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম খুঁজে না পাওয়া, কথা বলার সময় সঠিক শব্দ মনে করতে না পারা, পরিচিত স্থানে নিজেকে হারিয়ে ফেলা, এবং সাক্ষাৎ বা কোনো নির্ধারিত অনুষ্ঠানের কথা ভুলে যাওয়া।

অনেক ক্ষেত্রে আলজাইমার'স এর রোগীরা সামান্য কোনো সমস্যার সমাধান করতেও অনেক কষ্টের সম্মুখীন হয়। তা ছাড়া, সময় এবং স্থান নিয়ে ভ্রম কিংবা হঠাৎ করে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়াও আলজাইমার'স এর লক্ষণ।

পরিবার-পরিজনের উপর প্রভাব
আলজাইমার'স এর রোগী বাদেও আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার বা সবচেয়ে কাছের মানুষের উপর এই রোগের ব্যাপক প্রভাব পড়ে। স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পারায় কেউ একজন সর্বদা আলজাইমার'স এর রোগীর আশপাশে থাকতে হয়। এর ফলে পরিবারের মাঝে বেশ সমস্যা হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে কাউন্সেলিং করে মানিয়ে নেওয়া যায়।

চিকিৎসা
বর্তমানে আলজাইমার'স রোগের কোনো চিকিৎসা বা সমাধান নেই। তবে ঔষধ সেবন করে স্মৃতিশক্তি কিংবা আচরণের সমস্যা কিছুটা দমিয়ে রাখা যায়। চিকিৎসকরা বর্তমানে দুই ধরনের ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন। যার মধ্যে একটি অ্যাসিটাইকোলিনস্টিরেস নিরোধক এবং আরেকটি এনএমডিএ রিসেপটর ট্রিটমেন্ট।

অ্যাসিটাইকোলিন ব্যবহার করে স্নায়ুগুলো একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকে। তবে আলজাইমার'স এর রোগীর মস্তিষ্কে এই রাসায়নিক পদার্থ স্বল্পমাত্রায় থাকে, যার ফলে রোগী কিছু মনে করতে বা রাখতে পারে না। অ্যাসিটাইকোলিনস্টিরেস নিরোধক ব্রেইনের বিভিন্ন স্থানে সিগন্যাল দিতে সাহায্য করে এবং রোগীর স্মৃতিশক্তির কিছুটা উন্নতি হয়।

মস্তিষ্কে গ্লুটামেট নামে আরেক ধরনের রাসায়নিক আছে, যা স্নায়ুর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে। আলজাইমার'স এর রোগীদের স্নায়ু ক্ষয়ের ফলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত মাত্রায় গ্লুটামেট রয়ে যায়, যার ফলে দ্রুত স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যায়। তবে এনএমডিএ রিসেপটর ট্রিটমেন্ট করে গ্লুটামেট উৎপাদন দমিয়ে রাখা যায় এবং মস্তিষ্কের দ্রুত ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।

- কাজী মাহদী আমিন