শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই, আসুন
০৮/২৬/২০১৭

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই, আসুন

-

বড় বন্যা ধেয়ে আসছে। আশঙ্কার খবরঃ এবার উজানের ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ও তিস্তা অববাহিকায় পানির উচ্চতা গত ৭৫ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বন্যার পূর্বাভাসবিষয়ক দু’টি আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, এবারের বন্যা ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে বানভাসি মানুষের সংখ্যা ও তাদের দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়ে চলেছে প্রাণহানিও। অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে দ্রব্যমূল্যও বাড়ছে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাও ক্রমবর্ধমান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ত্রাণসামগ্রী অপ্রতুল। পানিবন্দি লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার অন্ধকারে নিমজ্জিত। ফসলহানি হয়েছে প্রচুর। নদ-নদীগুলোর প্রবাহ বিপদসীমার ওপরে। শ্রাবণ পার হয়ে ভাদ্র মাস এসে গেছে। বন্যার হুমকি তাও কমেনি। বরং সামনে বিপজ্জনক দিন রয়ে গেছে আরো। সব মিলিয়ে ভয়াবহ এক পরিস্থিতি।

সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর দাবি, ‘চলমান বন্যা পরিস্থিতি '৮৮ সালের চেয়ে মারাত্মক হলেও তা মোকাবিলা করার সামর্থ্য সরকারের আছে।’ দেশবাসী জানেন, সরকারের একার পক্ষে এই আগ্রাসী দুর্যোগ মোকাবেলা করা কোনোমতেই সম্ভবপর নয়। দেশের সর্বশ্রেণির মানুষের সম্মিলিত, সমন্বিত, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এই সঙ্কট উত্তরণে একান্ত কাম্য। আর্ত মানুষের পাশে যেন আমরা যার যার সাধ্যমতো দাঁড়াই। মানুষ মানুষের জন্যঃ মানবিক এই বোধে আমরা সঞ্জীবিত, উদ্বুদ্ধ হই। বিপন্ন মানুষকে সাধ্যমতো যেন সাহায্য সহায়তা করি।

পবিত্র ঈদুল আযহা সমাগত। এবারের ঈদ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার ব্যাপক সংখ্যক দুর্যোগপীড়িত মানুষের জন্য কোনো আনন্দের বার্তা বয়ে আনছে না। তাদের বিড়ম্বিত জীবনযাপন ও কষ্ট দুর্ভোগ আমরা যত দ্রুত, যত বেশি পরিমাণে হ্রাস করতে পারি, ততই মঙ্গল। আমাদের সকলের একটুখানিক সহৃদয়তা, একটু সহানুভূতি তাদের আশার আলো দেখাতে পারে। ঈদুল আযহা ত্যাগের আদর্শেই উদ্বুদ্ধ করে আমাদের। ঈদের আনন্দ যেন আমরা বন্যাদুর্গত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে পারি। আমাদের প্রত্যাশা, উদ্ভূত ও সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থা বিপদের সবদিক মাথায় রেখে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করবে। একনিষ্ঠ, আন্তরিক উদ্যোগ থাকলে মানুষের মূল্যবান জীবন রক্ষা, দুর্ভোগ হ্রাস ও সহায়-সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে সীমিত রাখা সম্ভবপর হবে। বর্তমান সময়ে এটাই সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা আশাবাদী, আমরা বিপত্তারণে সক্ষম হবো।

অনন্যার সম্মানিত পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, হকার সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

- তাসমিমা হোসেন