রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / রান্নাঘরের খোলামেলা সাজ
০৮/১৭/২০১৭

রান্নাঘরের খোলামেলা সাজ

-

রান্নাঘর একটি বাসার উষ্ণতম জায়গা, তা সেটা আক্ষরিক বা রূপক যে অর্থেই বলা হোক না কেন। রান্না একটি উন্নতমানের শিল্প আর রান্নাঘর সেই শিল্প প্রকাশের জায়গা। তাই রান্নাঘরটি সাজিয়ে গুছিয়ে রাখাটা একজন ব্যক্তির শিল্পমনের পরিচায়ক। রান্নাঘরের ডিজাইনে দক্ষতার সঙ্গে নান্দনিকতার ছাপ থাকাটাও প্রয়োজন।

কিভাবে সাজাবেন রান্নাঘর? নিচের টিপসগুলো আপনাকে সাহায্য করবে এক্ষেত্রে

বাতাস চলাচল
যেহেতু বাংলাদেশি খাবারে অনেক তেল ও মশলা ব্যবহৃত হয়, আর এসব দ্রব্য তীব্র গন্ধযুক্ত তাই রান্নার পরে ঘরে গন্ধ থেকে যায়। তাই যারা রান্নায় খুব তেল-মশলা ব্যবহার করেন তাদের রান্নাঘরে ইলেকট্রিক চিমনির মাধ্যমে কৃত্রিম বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকাটা খুবই জরুরি। এতে রান্না করার সময়ে রান্নাঘরে যে তেলচিটে ভাব থাকে সেটাও দূর হয়ে যায়। কারণ চিমনি তেলগুলো শুষে নেয়। রান্নাঘরকে তেল-কালিমুক্ত ও ঠান্ডা রাখার জন্য এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া খেয়াল রাখুন রান্নাঘরে যেন অন্তত একটি জানালা থাকে। এতে বাতাস চলাচলের পাশাপাশি ঘরে প্রাকৃতিক আলো সঞ্চালনের ব্যবস্থাও থাকে।

টাইলস
বাঙালি রান্নাঘরে সবসময়ই দেখা যায় অনেক কাটাকাটি করতে বা চুলা থেকে তরকারি পড়তে যার ফলে ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখাটা কঠিন হয়ে যায়। আর অপরিষ্কার রান্নাঘর ডিজাইনার হলেও তার দ্যুতি হারায়। তাই পুরো মেঝে টাইলস দিয়ে বাঁধিয়ে ফেলুন। কিচেন ক্যাবিনেটের সঙ্গে মিলিয়ে রান্নাঘরের টাইলস লাগান।

স্টোরেজ
স্টোরেজ এমনভাবে পরিকল্পনা করে সাজান যাতে প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো হাতের কাছে থাকে। ওভারহেড ক্যাবিনেটগুলো এমন উচ্চতায় রাখুন যাতে হাতের নাগালে থাকে। আবার ক্যাবিনেট বেশি নিচে হলে তা কাপড়ে লাগে। তাই বুঝেশুনে ক্যাবিনেট তৈরি করুন।

রান্নাঘরের ইলেকট্রিকাল সাজ-সরঞ্জাম যেমন মিক্সার, গ্রাইন্ডার, টোস্টার, মাইক্রোওভেন ইত্যাদি ক্যাবিনেটে সেট করে রাখতে পারেন। ছোট্ট পরিবারের জন্য মডিউলার কিচেন সুবিধাজনক হতে পারে। ড্রয়ার, ক্যাবিনেটে বাস্কেট সংবলিত রান্নাঘরে প্রত্যেক ধরনের কিচেনওয়্যার, বোতল, কৌটা রাখার সুব্যবস্থা যেন থাকে।

লাইটিং
রান্নাঘর ডিজাইনের সব উপাদানের মাঝে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় একটি ব্যাপার হলো উপযুক্ত আলোকসজ্জা। যদিও পুরো বাড়ির জন্য হলুদ আলোকে সর্বোৎকৃষ্ট মনে করা হয়, রান্নাঘরের জন্য সাদা আলো সবচেয়ে মানানসই। বেডরুম বা লিভিংরুমের থেকে কিচেনের লাইটিং বেশ খানিকটা আলাদা। রান্নাঘরের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড লাইটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে সেন্ট্রাল লাইট জরুরি। কিচেনের সিলিংয়ে বা দেয়ালে উজ্জ্বল আলোর সঙ্গে সঙ্গে কিচেন কাউন্টারের ডাউন লাইট বা অ্যাঙ্গেল লাইট লাগাতে পারেন। ক্যাবিনেট বা চুলার নিচেও আলোর ব্যবস্থা রাখুন যাতে রান্নাঘরে কোনোভাবে ছায়া না পড়ে। যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ করে দিন।

খোলামেলা ইন্টেরিয়র
আপনার রান্নাঘর এমনভাবে সাজানো থাকা প্রয়োজন যাতে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিগুলো সামনের দিকে থাকে। এছাড়া বাকি সবকিছু ক্যাবিনেটে রেখে দিন। বাংলাদেশের রান্নাঘরগুলোকে কমিউনিটি স্পেসও বলা যায়, যেহেতু সাধারণত রান্নাঘরে কেউ একা থাকে না। তাই সেটি মাথায় রেখেই ঘরসজ্জা করুন। মেঝেতে হাবিজাবি জিনিসপত্র না রাখার চেষ্টা করুন, যাতে হাঁটাচলা করা সুবিধাজনক হয়। রান্নাঘরের মেঝে অপরিচ্ছন্ন রাখতে নেই। এতে রান্নাঘরের সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। তাই হাতের কাছে মোছার কাপড় বা ডাস্টার রাখুন। কর্নারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করুন। স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়লে তেলাপোকাসহ অন্যান্য পোকামাকড় হতে পারে। প্রয়োজনে কীটনাশক স্প্রে বা ফিনিশ পাউডার ব্যবহার করুন।

কেবিনেটের তেলঝোলের দাগ ওঠাতে ডিশ ওয়াশিং লিকুইড বা ডিটারজেন্ট পানিতে মিশিয়ে তা দিয়ে মুছে ফেলুন। পানি পুরোপুরি শুকিয়ে নেবেন, মরিচা ধরতে পারে। টাইলসের মেঝে পরিষ্কার করার সময় এর জোড়াগুলো ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। কাঠের মেঝে হলে তা নিয়মিত একটু কম পানি দিয়ে মুছতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে ফেলতে হবে।

এছাড়া আরো কয়েকটি বিষয় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রান্নাঘরের নান্দনিকতা বাড়াতে পারেনঃ

* হালকা রং ব্যবহার করুন; কেননা তাতে রান্নাঘরের দেয়াল বড় দেখায়, এতে কাজ করতে আরামবোধ হয়।

* ক্যাবিনেটের ক্ষেত্রে হলুদ বা লালজাতীয় রং ব্যবহার করাটাই ভালো।

* যেহেতু আজকাল রান্নাঘরের বেশিরভাগ জিনিসই ইলেকট্রনিক, তাই খেয়াল রাখুন পর্যাপ্ত প্লাগপয়েন্ট রাখার কথা।

* আধুনিক স্টাইলে মাটিতে ছোটো জলচৌকি ও কাচের টেবিল রাখতে পাড়েন।

* রান্নাঘরে স্নিগ্ধভাব আনতে ছোট গাছ কিংবা প্লাস্টিকের ফুল রাখতে পারেন। দেয়ালের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিতে পারেন প্লাস্টিকের কোন লতা।

- নুসরাত ইসলাম