রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / পানি থেকে সন্তানকে সুরক্ষা
০৮/১৭/২০১৭

পানি থেকে সন্তানকে সুরক্ষা

-

বাচ্চাদের কৌতূহলের যেন শেষ নেই। বিশেষ করে পানির সংস্পর্শে আসলে প্রায় সব শিশুই হয়ে ওঠে মাত্রাছাড়া উচ্ছল। যার ফলে একটু অসাবধানেই হয়তো ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। তাই আপনার শিশুকে অল্প বয়সেই সাঁতার শেখান সেইসাথে পানির আশেপাশে গেলে নজর রাখুন।

সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে অবগত হন
শুধুমাত্র যে বড় কোনো পানির আধারের কাছেই আপনার সতর্ক থাকতে হবে, তা নয়। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা যে কোনো জায়গায় হতে পারে। তাই বাচ্চদের পানির কাছে নিয়ে গেলে এমনকি বাথটাবে গোসল করার সময়ও খেয়াল রাখুন। বাসার আশপাশে বড় কোনো ড্রামে পানি থাকলে তা ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করুন বা খালি করে রাখুন। পানি আটকা থাকলে মশামাছির উপদ্রবও বেড়ে যাবে।

বড়দের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করুন
ছোটদের কখনোই কোনো বড় মানুষের তত্ত্বাবধান ছাড়া পানির কাছে যেতে দেওয়া উচিত না। যে কোনো গুরুতর সময়ে যাতে বাচ্চাদের সাহায্যের জন্য আশপাশে কেউ থাকে তা নিশ্চিত করা দরকার। যদিও সুইমিংপুলগুলোতে লাইফগার্ডের ব্যবস্থা থাকে। তবু বাবা-মা কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের কাউকে আশপাশে থাকা উচিত। এতে খুব সহজেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞান
সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বনের পরেও দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই বাচ্চাদের তত্ত্বাবধানে যিনি থাকবেন তার দুর্ঘটনাপরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। কেউ ডুবে যেতে থাকলে প্রথমেই তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। সেজন্য কোনো তোয়ালে বা আশপাশের কোনো রড ধরে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে এগিয়ে যান, তা সম্ভব না হলে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে কোনো সেফটি রিং ছুড়ে দিতে পারেন। প্রয়োজন হলে রেস্কিউ বোটের সাহায্য নিন। শুকনো জায়গায় নিয়ে এসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিত করে শুইয়ে দিন ও পাম্প করে পেট থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে ফেলুন। একজন ডুবন্ত মানুষের সাহায্য করার প্রক্রিয়া জানা খুব জরুরি। কিন্তু মনে রাখবেন, যে-মানুষটি ডুবে যাচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই সে চেষ্টা করবে তার আশপাশের মানুষকে আঁকড়ে ধরার।

নিয়ম বেঁধে দিন
সমুদ্র, নদী কিংবা সুইংপুলে বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়ার আগে তাদের অবশ্যই কিছু নিয়ম বেঁধে দিন। পানির আশপাশে দৌড়াদৌড়ি করতে বারণ করে দিন। কাউকে পানিতে ধাক্কা দেওয়া কিংবা বড়দের নজরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলুন। এ-ব্যপারেও সতর্ক করে দিন যে, নিয়ম না মেনে চললে তাদের আর পানির আশেপাশে নিয়ে যাবেন না।

লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন
সুইমিংপুল কিংবা সমুদ্র সৈকতে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা থাকলেও পর্যটক অনুসারে তার পরিমাণ যথেষ্ট নয়। বাচ্চাদের পানিতে খেলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভাসমান খেলনা কোনোভাবেই লাইফ জ্যাকেটের প্রতিস্থাপক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বাচ্চাদের অবশ্যই তাদের দেহের মাপ অনুসার এ-জ্যাকেট পরাতে হবে। জ্যাকেটের আকার যদি বড় হয় তবে তা খুলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাথটাব কিংবা সুইমিংপুল থেকে গোসলের সময় ছাড়া অন্য সময় খেলনা সরিয়ে রাখা উচিত, নয়ত খেলনা নিতে গিয়ে বাচ্চারা পানিতে পড়ে দুর্ঘটনায় পতিত হতে পারে।

পানির আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিতি
বাচ্চাদের সমুদ্র সৈকতে, সুইমিংপুলে কিংবা নৌকা ভ্রমণে নিয়ে গেলে আপনার প্রথম করণীয় হবে তাদের পানির আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করা। এতে তাদের নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে। বাচ্চাদের আরো একটি বিষয় শেখাতে পারেন, পানিতে নামার পর যেন তারা একে অন্যের দিকে খেয়াল রাখে। এতে করে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কমে যায়।

- রুবায়েত মহিউদ্দিন