রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / সঙ্গী কি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত?
০৮/০৯/২০১৭

সঙ্গী কি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত?

-

পর্নোগ্রাফি- কারো জন্য তা একেবারে নিষিদ্ধ, কারো জন্য ট্যাবু, কারো জন্য মানসিক-সামাজিক অধঃপতনের অন্যতম কারণ। আবার কারো বা কারো জন্য তা সহজ স্বাভাবিক। তবে ভালো-মন্দ যে যাই বলুক এটা অস্বীকার করার উপায় নেই পর্নোগ্রাফি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে নিতান্ত তুচ্ছ হলেও একটা অংশ বটে। আর ব্যাপারটা যেহেতু ব্যক্তিগত পর্যায়ের তাই একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্কে এর স্পষ্ট প্রভাব আছে। আর ভালোবাসায় আবদ্ধ যুগলের কারো যদি অতিরিক্ত পর্ন আসক্তি থাকে তবে তা সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতেই পারে।

আপনার সঙ্গী পর্ন দেখায় আসক্ত হলে তা অবশ্যই আপনার জন্য চিন্তার বিষয়। তবে এ-ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার আগে সম্পূর্ণ বিষয়টা একটু ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা যাক। এক্ষেত্রে সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন পর্ন দেখার বিষয়টা নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মতামত কী? ব্যাপারটা যদি আপনার জন্য একেবারে সিরিয়াস লেভেলের খারাপ কাজ মনে হয় বা ভালোবাসায় বিশ্বাসঘাতকতার পর্যায়ের হয় তবে সবার আগে ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে, আপনার সম্পর্ক নিয়েই পুনরায় ভেবে দেখতে হবে, আদৌ যে মানুষটিকে বেছে নিয়েছেন তার সঙ্গে আপনার চিন্তা-ভাবনার মিল কতটুকু। আর যদি পর্ন দেখাটা আপনার কাছে স্বাভাবিক মানবীয় প্রবৃত্তি হয় তবে তা নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করে নেয়া উচিত।

এবার আসা যাক, পর্নোগ্রাফিতে আসক্তির বিষয়টা। আদতে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। আসক্তি যে কোনো জিনিসেই থাকুক না কেন, মোটা দাগে তা খারাপ বলা চলে। একটি সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্কে জৈবিক-শারীরিক চাহিদা থাকবে এবং তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আপনার সঙ্গীর চাহিদার জোগান যদি ইন্টারনেটে সহজলভ্য পর্নসাইট হয় তবে তা কোনো রোগের চেয়ে কম নয়। জীবনসঙ্গীর এই পর্ন আসক্তি সম্পর্কের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এর সমাধানের পথ আপনাকেই বের করতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো কাজে আসতে পারে।

- প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার সঙ্গী পর্নে আসক্ত কিনা। এক্ষেত্রে জানার চেষ্টার করুন তিনি পর্নোগ্রাফি দেখার পেছনে কেমন সময় ব্যয় করছেন এবং তা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কতখানি প্রভাব ফেলছে।

- সঙ্গী ঠিক কী ধরনের পর্ন ভিডিও দেখছেন তা জানাটাও বেশ জরুরি। এই যেমন তিনি যদি শিশুদের নিয়ে বানানো পর্ন ভিডিও বা এ ধরনের এক্সট্রিম লেভেলের পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হন তবে আপনাকে দ্রুত শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। তার এ-ধরনের বিকৃত মনোভাব মেনে না নিয়ে সরাসরি তা নিয়ে প্রশ্ন করা বা অন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

- ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে যেতে পারলে এ সমস্যার প্রতিকার সহজ হবে। আপনি যদি একজন বন্ধু হিসেবে তাকে এই আসক্তির খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন এবং ধীরে ধীরে তা বাদ দিতে বলেন তবে তা আপনার সঙ্গী ইতিবাচকভাবেই নেবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আপনাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসলে এধরনের ব্যাপারগুলো তিনি বাদ দেবেন। তবে ছাড়ার প্রক্রিয়াটা অনেকটা সিগারেট ছাড়ার মতো কঠিন বা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।

- যদি এই আসক্তি সীমা ছাড়িয়ে যাবার মতো পর্যায়ে পৌঁছায় তবে সঙ্গীকে নিয়ে অভিজ্ঞ মনোবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। অভ্যাসটা যেহেতু মানসিকতা জনিত, তাই কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে সুফল পেতে পারেন।

- এত কিছুর পরও যদি কিছুতে কিছু না হয় তবে সঙ্গীকে বলুন তিনি আপনার সঙ্গে রীতিমতো বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। সমস্যা সমাধান না হলে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন। কারণ আপনার সে অধিকার অবশ্যই আছে।

- আতিফ হাসান