সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / ঘুরে আসুন বগালেক
০৮/০৯/২০১৭

ঘুরে আসুন বগালেক

-

বান্দরবনের রুমা উপজেলায় অবস্থিত বগালেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। পাহাড়ের মাঝে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই লেকটি যে কোনো ভ্রমণপিপাসু মানুষকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা এ লেকের সৌন্দর্য এবং এখানকার স্থানীয় মানুষদের আপন করার ক্ষমতার কারণে লেকটি হয়ে উঠেছে ভ্রমণবিলাসিদের জন্য ছোটোখাটো এক স্বর্গ।

ভূতাত্ত্বিকেরা মনে করেন লেকটি ২০০০ বছর পুরনো একটি মৃত আগ্নেয়গিরির গর্তে বৃষ্টির পানির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। বগালেককে ঘিরে স্থানীয় একটি কিংবদন্তী রয়েছে যে, খুমি গ্রামের বাসিন্দারা এক দেবতাকে খুন করে ফেললে দেবতাটি একটি ড্রাগনের রূপে পুনরায় আবির্ভূত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি ভূমিকম্প ঘটে, যার ফলে পর্বতগুলোর মাঝে একটি গর্ত সৃষ্টি হয়ে বগালেকটি গড়ে ওঠে এবং গ্রামটি ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

চারকোণা লেকটি পর্বতমালা দ্বারা তিনদিকে ঘেরাও করা এবং পুরু বাঁশের ঝোপ দিয়ে ঢাকা। শহরের ব্যস্ত জীবনের মাঝে একচিলতে শান্তির পরশ বয়ে আনতে সময় নিয়ে খুব সহজেই ঘুরে আসুন বগালেক থেকে।

যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি বান্দরবন শহরে গিয়ে সেখান থেকে চান্দের গাড়ি করে রুমা উপজেলায় যেতে পারবেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল মনে হলেও রুমাতে প্রায় সবই পাবেন। তাই রওনা দেবার সময় অত্যাবশ্যকীয় কিছু ভুলে গেলেও ভয় পাবার কোনো কারণ নেই।

রুমা থেকে গাইড ভাড়া করে আর্মি ক্যাম্পে রেজিস্ট্রেশন করে আরেকটি চান্দের গাড়ি নিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে চলে যেতে পারেন বগালেকের নিচে অবস্থিত কমলাবাজারে। কমলাবাজার থেকে লাঠি নিয়ে অল্প কিছুক্ষণের ট্রেকিং-এর পরেই পৌঁছে যাবেন বগালেকের কোলে। ওখানে অবস্থিত আর্মি ক্যাম্পে গাইডসহ দলের রেজিস্ট্রেশন করে নিন।

উল্লেখ্য, বর্ষাকালে রাস্তা খারাপ থাকলে রুমা থেকে চান্দের গাড়ি কমলাবাজার নাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে রুমা থেকে ঝিরিপথে ২ ঘণ্টার ট্রেকিং করে বগালেক পৌঁছতে হবে। অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয় হয়ে সরাসরি বগালেকে এভাবেও যেতে পারেন। ঝিরিপথের রূপ ও মাধুর্য আপনাকে বিমোহিত করতে বাধ্য।

করণীয়
বগালেকের পাশে অবস্থিত উপজাতিদের গ্রামে কোথাও থাকার বন্দোবস্ত করুন। তারপর বেরিয়ে পড়ুন। আশপাশের দৃশ্য উপভোগ করুন এবং আঞ্চলিক লোকদের সঙ্গে গল্প করুন। এখানকার পাহাড়িরা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অমায়িক। যেখানেই থাকার ব্যবস্থা করবেন সেখানেই খাবারের ব্যবস্থা হবে। নেমে পড়ুন পাহাড়ের পাদদেশে প্রকৃতির বিস্ময় বগালেকের ঠান্ডা জলে। সাঁতার না পারলে পাড়ঘেঁষে থাকুন, লেকের নিচে পিচ্ছিল নুড়ি-পাথরের ছড়াছড়ি, তাই সাবধানে থাকবেন। আধঘণ্টা ট্রেকিং করে চিংড়ি ঝরনা ঘুরে আসতে পারেন।

বগালেকের একটি বিস্ময় হলো লেকটির কোনো নির্ধারিত রং নেই। দিনের সময়, আকাশে মেঘের উপস্থিতি এবং আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে দিনের একেক সময়ে লেকটি একেক রং ধারণ করে। কখনো বা গাঢ় সবুজ, কখনো নীল, কখনো হলুদাভ সবুজ, অথবা সাগরের মতো টলটলে আকাশী।

লেকে মাছ ধরবেন না। ময়লা ফেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না। নির্ধারিত জায়গায় ময়লা ফেলুন। আঞ্চলিক রীতিনীতির প্রতি সম্মান দেখান, বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব পোষণ করুন।

যা যা নিয়ে যাবেন
পানিরোধক ব্যাগ ও ভালো গ্রিপের জুতো, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, স্যালাইন, ছাতা, মশার কয়েল/ স্প্রেস (ওডোমস নিয়ে গেলে সবচেয়ে ভালো), প্রয়োজনীয় ফার্স্ট এইড এবং ঔষধ, রোদ-চশমা, গামছা, টুপি, পাওয়ার ব্যাংক, টর্চ লাইট, কাপড়চোপড়, লাঠি, স্পঞ্জের স্যান্ডেল, টয়লেট পেপার/টিস্যু।

কখন যাবেন
বর্ষাকালে রাস্তা খারাপ থাকে, তাই এডভেঞ্চার-প্রিয় না হলে বর্ষায় যাওয়ার দরকার নেই। তবে বর্ষাতেই পাহাড়ের রাস্তার এবং লেকের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি।

শীতকাল হলো মৌসুম, এসময় সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুরতে যায়, রাস্তার ঝামেলা থাকে না। তাই অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝে ঘুরে আসতে পারেন অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বগালেক থেকে।

খরচ
গ্রুপ করে যেতে পারলে খরচ খুবই কমে যায়। ৬ জনের একটি গ্রুপে প্রত্যেকের খরচ পড়বে ২৫০০-৩০০০-এর মতো। ৮-১২ জন গেলে ২০০০-এর কাছাকাছি খরচ পড়বে।

শহরের গৎবাঁধা জীবন থেকে মুক্তি পেতে পাহাড়ের বুকে টলটলে ঠান্ডা পানিতে শরীর জুড়াতে, মনে শান্তির পরশ বুলাতে মাত্র কয়টা দিন সময় নিয়ে চলে যেতে পারেন বগালেকে।

- আজমেরী

- ছবিঃ আলভী, আফতাব