রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফিচার / পুনর্পাঠঃ বিশেষ সাক্ষাৎকারে ‘বেগম’ সম্পাদিকা নূরজাহান বেগম
০৮/০৯/২০১৭

পুনর্পাঠঃ বিশেষ সাক্ষাৎকারে ‘বেগম’ সম্পাদিকা নূরজাহান বেগম

-

‘বেগম’ সম্পাদিকা নূরজাহান বেগম (জন্ম ১৯২৫) বাংলাদেশের সাংবাদিক জগতে একটি বিশিষ্ট নাম। ১৯৪৭ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি সাপ্তাহিক ‘বেগম’ সম্পাদনা করে আসছেন। এদেশের নারী সমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সাপ্তাহিক ‘বেগম’ বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। অনেক মহিলা ‘বেগম’ পত্রিকায় লিখে সাহিত্যিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। অনেকের লেখার হাতেখড়িও হয়েছে এই পত্রিকার পাতায়। এই পত্রিকার মাধ্যমে নূরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে এক বিরাট সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নারী জাগরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, মহিলা পরিষদ ও লেখিকা সংঘের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়।

নূরজাহান বেগম ব্যক্তিগত জীবনে দুই মেয়ের মা। ১৯৫২ সালে তিনি বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক, শিশু সংগঠক ও সাংবাদিক জনাব রোকনুজ্জামান খানের (দাদা ভাই) সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।

অনন্যার পক্ষ থেকে আমরা সম্প্রতি নূরজাহান বেগমের যে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছি তার বিবরণঃ

প্রশ্নঃ আপনাকে আমরা একজন সফল সম্পাদক এবং সফল মহিলা বলে জানি- আপনার এই সাফল্যের পেছনে কী কী কারণ কাজ করেছে?

জবাবঃ আমার সম্পর্কে যে বিশেষণ প্রয়োগ করলেন, আমি তার যোগ্য কি না জানি না। সাফল্যের পরিচয় যদি কিছু থেকে থাকে, তা অনেকটা পারিবারিক পরিবেশ, ধৈর্য এবং একাগ্রতার ফল। আমার বাবা সওগাত সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন অনেক কষ্টে নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অর্থাৎ তিনি নিজেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন। তাঁর আদর্শ ও প্রেরণা নিঃসন্দেহে আমাদের চলার পথে সহায়ক হয়েছে। একটি কাজে হাত দিয়ে সে কাজটিকে সাফল্যম-িত করে তোলার জন্য যে একাগ্রতা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং অধ্যবসায়ের প্রয়োজন, এটা আমার বাবাই আমাদের দেখিয়েছেন তাঁর নিজের জীবনযাত্রার ভেতর দিয়ে।

প্রশ্নঃ ‘বেগম’ পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা ও পটভূমি বলুন।

জবাবঃ প্রথম যখন সাপ্তাহিক বেগম প্রকাশিত হয়, সে সময়টায় বিশেষ করে মুসলিম সমাজ আজকের মত উদার ছিল না। মেয়েদের দায়িত্ব ছিল প্রধানত রান্নাঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমন কি শিক্ষিত মেয়েরাও এর বাইরে কিছু ভাবতে পারতো না। মেয়েদের প্রতিভার স্ফুরণের তেমন কোন ব্যবস্থা ছিল না। এই সীমাবদ্ধতা থেকে নারী সমাজকে টেনে তোলার জন্য জনাব নাসিরউদ্দীন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। হয়তো জানেন, বাবার সঙ্গে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরও এ ব্যাপারে যোগাযোগ ছিল। জনাব নাসিরউদ্দীন প্রথম মহিলা সংখ্যা সওগাত প্রকাশ করেন পরীক্ষামূলকভাবে। এরফলে কিছু কিছু লেখিকার সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু বছরে একটিমাত্র সংখ্যা বের করে মহিলা সমাজের তেমন কিছু কল্যাণ সম্ভব ছিল না। তাই তাঁরই উদ্যোগ এবং প্রেরণায় ১৯৪৭ সালের ২০শে জুলাই সাপ্তাহিক বেগম-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।

প্রশ্নঃ আচ্ছা প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সময় এমন কোন ঘটনা কি ঘটেছিল- যা আজও মনে পড়ে?

জবাবঃ তেমন বিশেষ কোন ঘটনার কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। নামকরণ নিয়ে কিছুটা চিন্তা-ভাবনা ছিল। অনেকগুলো নামের মধ্যে শেষ পর্যন্ত টিকলো দু’টি নাম-বেগম আর খাতুন। পরিশেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে ‘বেগম’ই টিকে গেল।

প্রশ্নঃ তখনকার সমাজের মহিলাদের সম্পর্কে কিছু লিখুন।

জবাবঃ এ প্রসঙ্গে আগেই কিছুটা আভাস দিয়েছি। সার্বিকভাবে তখনকার দিন মহিলাদের মধ্যে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। শিক্ষকতার কাজ ছাড়া অন্য পেশায় তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল একেবারেই অনুল্লেখ্য। সমাজে কূপম-ুকতা বিরাজ করতো। মেয়েদের স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা ছিল। সামাজিক গোঁড়ামিও ছিল যথেষ্ট। আর এরফলে প্রতিভাবান মেয়েদের পক্ষেও ইচ্ছা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্র বেছে নেয়া সম্ভব ছিল না। দৈনিক পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনায় জড়িত দু’একজন ছাড়া মহিলা সাংবাদিক চোখে পড়তো না। অনেক শিক্ষিত পরিবারের মেয়েরাও ডিগ্রী নিয়ে ঘর-সংসার পরিচালনা ছাড়া আর কোন পেশায় নিজেকে জড়িত করার সুযোগ পেত না।

প্রশ্নঃ মেয়েরা তো তখন আরও পিছিয়ে ছিল, আপনি লেখা পেতেন কী ভাবে?

জবাবঃ প্রথম দিকে বেশ কষ্ট করে লেখা সংগ্রহ করতে হতো। কিছু কিছু অনুবাদ করিয়ে পত্রিকার কলেবর পূর্ণ করতে হতো। ধীরে ধীরে নতুন লেখিকা বেরিয়ে আসতে লাগলো। লেখার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় মেয়েদের ভেতরেও বেশ সাড়া পড়ে গেল। বিশেষ করে তখন ঘর-সংসার করা ছাড়া বহু উচ্চ শিক্ষিত মহিলার অন্য কোন কাজ তেমন একটা ছিল না। তাঁরা লেখালেখির ব্যাপারে এগিয়ে এলেন। মৌলিক লেখা না হোক অনুবাদ করেও ‘বেগম’-এর সঙ্গে নিজেদের জড়িত করলেন।

প্রশ্নঃ আচ্ছা, অনেক পুরুষের ধারণা, বেশীর ভাগ লেখিকা তেমন কিছু লিখতে পারেন না। শুধু মহিলা বলে তাঁদের লেখা ছাপা হয়। (আমি অবশ্য সুফিয়া কামাল, রিজিয়া রহমান বা সেলিনা হোসেনদের কথা বলছি না। গড়পড়তা লেখিকাদের কথা বলছি, ‘যাঁদের লেখা ‘বেগমে’ হরহামেশা ছাপা হয়।

জবাবঃ এ প্রশ্নের জবাব দেবার আগে আমি আপনাকে একটি প্রশ্ন করবো- দৈনিক পত্রিকা বা অন্যান্য সাময়িকীতে যেসব পুরুষের লেখা ছাপা হয় তার সবগুলোই কী মান-উত্তীর্ণ রচনা? নতুন যারা লিখছেন তাঁদের লেখা তো কিছু দুর্বল হবেই। লিখতে লিখতেই তো লেখার মান উন্নত হয়। মেয়েই হোক আর পুরুষই হোক- যাঁরা প্রথম লেখেন তাঁদের লেখার সঙ্গে একজন প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকের লেখার তুলনা তো চলে না। ‘বেগম’-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, লেখিকা সৃষ্টি। সুতরাং নতুন লেখিকাদের সুযোগ দিতে গিয়ে যদি দু’একটি দুর্বল লেখা ছাপা হয়ে থাকে, তারজন্য এমন ধারণা করা ঠিক নয়। কোন অপাঠ্য লেখাতো বেগমে ছাপা হয় না। অবশ্য তুলনামূলকভাবে আমাদের ভাল লেখকের চেয়ে ভাল লেখিকার সংখ্যা কম। এরও কারণ আছে। পুরুষেরা দীর্ঘদিন থেকে লিখছে-মেয়েরা সে সুযোগ পায়নি।

প্রশ্নঃ আচ্ছা, আপনি এটাও কি মনে করেন, ‘বেগম’-এর মত পত্রিকার পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে অনেক মহিলা লেখকই হতেন না?

জবাবঃ হ্যাঁ, আমি এটা বিশ্বাস করি। অনেক লেখিকাও এটা মনে করেন।

প্রশ্নঃ ‘বেগম’ পত্রিকা হিসেবে কী সামাজিক ভূমিকা পালন করেছে বলে আপনি দাবী করেন?

জবাবঃ ঠিক দাবী করি না, তবে আমার মনে হয়, লেখিকা সৃষ্টি করাটাও যদি একটি সামাজিক দায়িত্ব হয়ে থাকে, তাহলে এক্ষেত্রে ‘বেগম’-এর কিছু অবদান আছে। নারীমুক্তি আন্দোলনের ক্ষেত্রেও ‘বেগম’ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এ দেশের নারী সমাজের সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রেও ‘বেগম’-এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে মুসলিম বিবাহ ও পারিবারিক আইন প্রবর্তনে ‘বেগম’-এর যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। এ ধরনের আরও কিছু সামাজিক সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে ‘বেগম’ তার বলিষ্ঠ বক্তব্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে। আর একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। ‘বেগম’কে কেন্দ্র করে ১৯৫৪ সালে ‘বেগম ক্লাব’ গঠিত হয়। এদেশের নারী জাগরণের ক্ষেত্রে বেগম ক্লাবেরও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

প্রশ্নঃ অনেকের অভিযোগ, আপনি ইচ্ছে করেই ‘বেগম’ পত্রিকাকে প্রাচীন ধাঁচে রেখে দিয়েছেন। কেন?

জবাবঃ মুদ্রণ পারিপাট্যের দিক থেকে ‘বেগম’ চোখ ঝলসানো পত্রিকা নয়, বিশ্বাস করি। কিন্তু প্রাচীন ধাঁচ বলতে যা বুঝি ‘বেগম’কে সেই পর্যায়ে ফেলা ঠিক হবে না। এর ভাষা ও লেখার মান সহজ, সরল। খুব উঁচুদরের রচনা (যা পড়ে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ভাল বুঝতে পারবে না) পত্রিকায় ছাপা হয় না, এর গ্রাহিকা-পাঠিকাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে। সাধারণত যেসব মহিলা অল্প লেখাপড়া শিখে ঘর-সংসারের কাজে নিজেদের জড়িত রেখেছেন, তাঁরাই এই পত্রিকার বেশীর ভাগ পাঠিকা। কোন কোন ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও আছে। অনেক উচ্চশিক্ষিত পরিবারেও ‘বেগম’-এর যথেষ্ট কদর আছে। কিন্তু সহজ-সরল ভাষায় পত্রিকা বের করা আর প্রাচীন ধাঁচে পত্রিকা বের করা- ঠিক এক কথা নয়। রান্না, সেলাই, ঘরকন্না, সন্তান পালন, রূপচর্চা প্রভৃতি ধরনের বিভাগ সেই ১৯৪৭ সাল থেকে ‘বেগম’-এ ছাপা হচ্ছে। আজ এই অষ্টাশি সালেও যেসব পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে, এমন কি অত্যাধুনিক নামকরা যেসব পত্র-পত্রিকা চোখে পড়ে দৈনিক পত্রিকার মহিলা বিভাগসহ, তাতেও দেখি এইসব বিভাগ ছাপা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা ‘বেগম’-এর ছাপার মান উন্নত করা যেত, কিন্তু তাতে এর দাম রাখতে হতো অনেক বেশী, আর এই মূল্যবৃদ্ধির দরুন পত্রিকাটি সাধারণ পাঠিকাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেত। মেয়েদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও তেমন আশা করা যায় না যে সেই বিজ্ঞাপনের আয়ে খরচ পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

প্রশ্নঃ আজকাল ঢাকা ও কলকাতা থেকে অনেক আধুনিক, রঙিন মহিলা পত্রিকা বেরুচ্ছে। এসব পত্রিকা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?

জবাবঃ কলকাতার তুলনা ঠিক হবে না। সেদেশে তুলনামূলকভাবে পাঠক/পাঠিকার সংখ্যা অনেক বেশি। বিজ্ঞাপনের সুযোগ যথেষ্ট। কিন্তু ঢাকা থেকে বহুবর্ণে চিত্রিত, ফটোকম্পোজে অফসেট প্রেসে কোন পত্রিকা বের করে টিকিয়ে রাখা বেশ দুরূহ কাজ। আর একটি কথা কি জানেন- ঢাকায় অনেক বড় বড় হোটেলে ইংলিশ ডিস, মোগলাই ডিস প্রভৃতি দামী দামী খাবার সরবরাহ করা হয়। অনেক ধনীব্যক্তির লাঞ্চ বা ডিনার চলে এসব হোটেলে। আবার ঢাকায় এমন কিছু কিছু ছোট হোটেল বা রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে, যেখানে খরিদ্দাররা যায় থানকুনির পাতার বড়া, কলমি শাক ও সুঁটকি রান্না বা রুই, চিতল, পাঙাস অথবা পাবদা মাছের কারীর লোভে। আমার মনে হয় দু’টোরই প্রয়োজন আছে।

প্রশ্নঃ আপনার কি ইচ্ছে করে না এ রকম রঙ ঝলমল করে পত্রিকা বের করতে?
জবাবঃ এ প্রশ্নের জবাব আগেই দিয়েছি।

প্রশ্নঃ আপনার পাঠিকাদের চাহিদা তো পাল্টাতেও পারে। আপনি কি তার খোঁজ নিয়েছেন কখনো?

জবাবঃ সুস্থ মন-মানসিকতার সহায়ক, রুচি মার্জিত পরিপাটি একটি পত্রিকা ‘বেগম’-এর পাঠিকারা আশা করেন। রঙ ঝলমলে পত্রিকার প্রতি যাঁরা আকৃষ্ট হবেন, তাঁরা অবশ্য ‘বেগম’ আর কিনবেন না। পত্রিকার কাটতি দেখেই পাঠকের চাহিদা বোঝা যায়।

প্রশ্নঃ অনেক পরিবারে ‘বেগম’ প্রজন্মের পর প্রজন্ম হচ্ছে। ‘বেগম’-এর অব্যাহত সাফল্য ও চাহিদার গোপন রহস্য কী?

জবাবঃ গোপন রহস্য কথাটি ঠিক হলো নাা রহস্যের কোন প্রশ্ন এখানে নেই। অনেক পত্রিকারই এমন ট্রাডিশন গড়ে ওঠে। বিশেষ করে যে সব পত্রিকা পাঠক/পাঠিকাদের মন জয় করতে পারে।

প্রশ্নঃ আজকালকার অনেক মেয়ে ‘মহিলা পত্রিকা’- এই কনসেপ্টই বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে পত্রিকা হবে সবার জন্য। মহিলাদের জন্য বিশেষ পত্রিকা আবার কেন? এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

জবাবঃ শিক্ষার দিক থেকে মেয়েরা এখনও পুরুষের তুলনায় অনেক পিছয়ে আছে। কর্মক্ষেত্রেও তারা আজও পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। সামাজিক দিক থেকেও মহিলা সমাজ পিছিয়ে। আছে। তাই যতদিন পর্যন্ত মেয়েরা সবদিক থেকে পুরুষের সমকক্ষতা অর্জন করতে না পারবে, ততদিন তাদের জন্য দৈনিক পত্রিকায় মহিলা বিভাগ বা বিশেষ মহিলা সাময়িকী প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে আমার ধারণা।

প্রশ্নঃ সম্পাদক হিসেবে আপনি একজন সমাজসেবকও। আজকালকার তরুণীদের চালচলন, শিক্ষা, রুচি ইত্যাদি সম্পর্কে মন্তব্য করুন।

জবাবঃ আজকালকার তরুণী বলতে কি বোঝাতে চাচ্ছেন বুঝতে পারছি না। দুঃস্থ সাধারণ পরিবারের কথা দূরে থাক- আজকাল নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারেও সংসারের খরচ চালানো দারুণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছ। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বাবা-মা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখার ব্যবস্থা করেন। তাও নানা সমস্যা। এসব ব্যাপার আজকের দিনের তরুণ-তরুণীরা অনুভব করে। মুষ্টিমেয় সংখ্যক তরুণীর চালচলন যদি কারো কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয়, সে তো আমাদেরই ব্যর্থতা। আমরা তাদের তেমনভাবে শিক্ষা দেইনি।

প্রশ্নঃ আপনার বিবেচনায় এখন বাংলাদেশের মহিলাদের সামনে কী কী সমস্যা রয়েছে এবং তার সমাধান কী?

জবাবঃ মহিলাদের সামনে অনেক সমস্যা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা মেয়েদের শিক্ষা দান। মেয়েদের ব্যাপকভাবে লেখাপড়া শেখাতে হবে। মেয়েরা শিক্ষিত হলে সমাজের অনেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মেয়েদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। মেধা অনুযায়ী তাদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু একটি সমস্যা- যা নাকি ক্রমশ বেড়েই চলেছে, নারী নির্যাতন; কিভাবে যে এর সমাধান হবে বুঝতে পারছি না। এরজন্য সামাজিক দিক থেকে পরিবর্তন প্রয়োজন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও মেয়েদের ভূমিকাকে আরও বাস্তবধর্মী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রশ্নঃ আজকাল অনেক মহিলা সংগঠন নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করছে। এই আন্দোলন সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?

জবাবঃ মহিলা সংগঠনগুলোর আন্দোলনের ফলে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু সার্বিক সাফল্য এখনও আসেনি।

প্রশ্নঃ অনন্যাও একটি মহিলা পত্রিকা। আপনার সাফল্যের পথ বেয়ে আমরা শুরু করলাম। আমাদের কিছু উপদেশ দিন।

জবাবঃ অনুজদের প্রতি অগ্রজদের স্নেহ-প্রীতি-ভালোবাসা থাকে। এটাই স্বাভাবিক। আমি যদি সাফল্য অর্জন করে থাকি, তা অনেক বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে; অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে। জ্যেষ্ঠার শুভেচ্ছা কনিষ্ঠার চলার পথকে সাবলীল করুক উপদেশ নয়, এই আমার আন্তরিক কামনা।

সাক্ষাৎকারঃ দিলারা জলি