শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / ভালোবাসায় ট্রাস্ট ইস্যু
০৭/৩০/২০১৭

ভালোবাসায় ট্রাস্ট ইস্যু

-

‘ট্রাস্ট’ শব্দটা একটা সম্পর্কের ভিত কতটা মজবুত তা নির্দেশ করে। যে কোনো সম্পর্কের জন্যই দুজনের মাঝে ভরসা ও আস্থা থাকা খুবই প্রয়োজন এবং এর বিকল্প কিছুই নেই। ভালোবাসার মানুষের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাস্ট বা বিশ্বাস সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। যদি কোনো কারণে আপনার মনে হয় দুজনের মাঝে ভরসার ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তখনই বিষয়টি বিষয়টি অ্যাড্রেস করুন।

মনের কথা খুলে বলুন
দুজনের মাঝে বিশ্বাসের ভিত্তি হলো একে অপরের সঙ্গে সৎ থাকা এবং সবকিছু নিয়ে খোলামেলা থাকা। যখনই আপনারা একে অন্যের জীবনধারা, বন্ধু-বান্ধব, কাজের ধরন ইত্যাদি নিয়ে সবকিছু জানবেন, দুজন তাল মিলিয়ে চলতে পারবেন অনেক লম্বা সময়। তবে কোনো কিছু শেয়ার করতে না চাইলেও সম্পর্কের প্রথম দিকে আপনাদের সীমা নিয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলে নিন এবং ঠিক করুন আপনার জীবনসঙ্গীর জীবনের কতটুকু অংশ আপনি জানতে চান। যদি সারাদিনে খুব বেশি সময় না পান তবে অন্তত রাতে একটিবার যোগাযোগ করে জেনে নিন পুরো দিনে কী কী করেছেন। নিজেকে একজন ভালো শ্রোতা হিসেবে উপস্থাপন করুন।

ধৈর্য ধরুন
একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য ধৈর্য অত্যাবশ্যক। বিশ্বাস ও ধৈর্য আসলে সমানভাবে দরকার একটি সম্পর্ক সুন্দরভাবে টিকিয়ে রাখতে। তাই যদি আপনার ভালোবাসার মানুষটির প্রতি আপনার মনে সন্দেহও জাগে, অস্থির হয়ে ওঠা যাবে না। ধৈর্য ধরুন, সময় দিন তাকে। হুট করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছালে ক্ষতি হবে দুজনেরই।

বিশ্বাস অর্জন করুন
আপনি যদি আপনার সঙ্গীর কাছ থেকে বিশ্বাস আশা করেন, তাহলে অবশ্যই তাকেও সুযোগ দিতে হবে আপনাকে বিশ্বাস করার। এরজন্য ঘটা করে কিছু করার দরকার নেই, ছোটোখাটো কিছু কাজ করলেই একজনের প্রতি অন্যজনের বিশ্বাস স্থাপিত হয়। দেখা করতে কোনো কারণে দেরি হলে আগে থেকে জানিয়ে রাখুন, বন্ধুদের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিন, নতুন কোনো বন্ধু হলে তার কথা জানান- এ ধরনের ছোটো ব্যাপারগুলো সঙ্গে সঙ্গে করে ফেললে ক্ষোভ জমে যায় না এবং অবিশ্বাসের কোনো জায়গাও থাকে না। মনে রাখবেন, যদি একান্ত আপন মানুষটার কাছ থেকেও সব গোপন করতে হয়, তাহলে আপনার নিজের জীবনেই সমস্যা তৈরি হবে। বরং এমন কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন, যা সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে বলা যায় না।

সন্দেহ-অভিযোগ করা কমিয়ে দিন
সঙ্গীর নানা কাজে যদি আপনার একের পর এক সন্দেহ বা অভিযোগ থাকে তাহলে কিছু সময় পর আপনার উচিত সম্পর্কটি নিয়ে আবার খোলাখুলি দুজনে কথা বলা। এই সন্দেহ বা অভিযোগের পাল্লা ভারি হতে থাকলে আপনার চিন্তা করা উচিত আসলেই আপনি এই সম্পর্ক থেকে আপনি কী চান। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি আসলেই যুক্তিসংগতভাবে সন্দেহ করছেন কি, অথবা অভিযোগ করার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে না তো? সঙ্গীর সব ব্যাপারে ঢালাওভাবে সমালোচনা বা অভিযোগ করার অভ্যাস আপনাদের সম্পর্কে অবনতি নিয়ে আসবে।

একে অপরকে শ্রদ্ধা করুন
সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একে অপরকে সম্মান করা। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসার মজবুত সেতু তৈরি করে। একজন আরেকজনের প্রতি সহমর্মিতা বজায় রাখুন। সহানুভূতি না থাকলে সঙ্গীর প্রতি মায়া বা ভালোবাসা থাকে না। একজন আরেকজনের প্রতি সহমর্মিতা বজায় রাখুন। এধরনের মনোভাবের মাধ্যমে সঙ্গীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক হবে সুন্দর-স্বাভাবিক এবং বলার অপেক্ষা রাখে না, সম্পর্কের মূল ভিত-বিশ্বাসের- জায়গাটা হবে বহু গুনে মজবুত।

- নৌশিন মিথী