বুধবার,২৬ Jul ২০১৭
হোম / বিবিধ / ক্যাফে দ্রুম – একজন সফল উদ্যোক্তার পথচলা
০৭/১৭/২০১৭

ক্যাফে দ্রুম – একজন সফল উদ্যোক্তার পথচলা

-

শুরুটা ২০১১ সালের জুলাই মাসে। প্রথমে চিন্তা ছিল একটি ভ্রাম্যমাণ ফুড কার্ট করার। আজকাল সেটা বেশ প্রচলিত হলেও সেই সময় ঢাকা শহরে ফুড কার্টের এত ছড়াছড়ি ছিল না। শেষে ধানমন্ডি দৃক গ্যালালির পাশে একটি পরিত্যাক্ত জমির উপর শুরু হয় সামীরা মোস্তফা তৃষার ক্যাফে দ্রুম।

ক্যাফেতে তখন সিট মাত্র ১৬টি, তবে বাইরে মানুষ যে আরও অনেক বেশি। খোলা আকাশের নিচে বাগানের মতো করে সাজানো ক্যাফেতে পরিবেশন করা হতো নানা পদ। মনোরম পরিবেশ এবং সুস্বাদু খাওয়ার মেন্যু নিয়ে অল্প কয়দিনের মধ্যেই ধানমন্ডির হটস্পট হয়ে যায় দ্রুম। এক সময় এমন অবস্থা হয় যে ক্যাফেতে জায়গা নেই বলে পরিবেশন করা হয় গাড়িতে বসে থাকা কাস্টমারদের। সফল ব্যবসার মাঝেই দুই বছর পর দ্রুমের পক্ষে আর সেই জমিতে থাকা সম্ভব হয় না। জায়গা নেই বলে দ্রুম ছিল ৬ মাস বন্ধ। তবে সামীরার পথ চলা এখানেই থেমে যায়নি। তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সকল বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে আবার শুরু করেন দ্রুম। এবার গার্ডেন ক্যাফে না করে দ্রুমকে গড়ে তোলেন একটি রুফটপ ক্যাফে হিসেবে। সবার উপরে ধানমন্ডির চমৎকার স্কাইলাইন দেখা যায় ক্যাফের চারদিক থেকে। নতুন স্থানে কাস্টমার ধারণ ক্ষমতা আগের থেকে অনেক বেশি। দীর্ঘ সময়ের গবেষণা, পরিশ্রম এবং পাবলিক রিভিউ বিশ্লেষণ করে মেন্যুতে পদ ১০-১২টি থেকে বেড়ে যায় ৪০ এর কাছাকাছি।

তবে এত কিছু অর্জন পরিশ্রম ছাড়া হয়নি। আর্থিক টানাপড়েন কিংবা একজন ব্যস্ত ব্যবসায়ীর মানসিক পীড়ন, সব রকম বাঁধা পেরিয়ে আসতে হয়েছে সামীরাকে। রেস্তোরাঁর ব্যবসা বেশ গতিশীল, তাই উদ্যোক্তা সামীরা বললেন এই ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে একজনকে একধাপ এগিয়ে চিন্তা করতে হয়। ধানমন্ডির দ্রুম চলছে তার আপন গতিতে এবং সামীরার লোকসানের দেখা মেলেনি এখনো। বনানীতে ২০১৫ সাল থেকে চালু আছে দ্রুমের আরেকটি ব্রাঞ্চ। নিজের উদ্যোগে করা স্বপ্নের ব্যবসা নিয়ে সামীরা কি আজ সফল? উত্তরে তিনি বলেন, এখনও অনেক দূর বাকি। দ্রুমকে তিনি দিতে চান আন্তর্জাতিক রূপ। তার নিজ দেশি ব্র্যান্ডের নামডাক ছড়িয়ে দিতে চান বিদেশের মাটিতে। সাহসের সঙ্গে যখন এতদূর পাড়ি দিয়েছেন, তবে আর বাকি পথ কেন নয়।

- আবির আহসান