শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / উৎসবের আগের রূপচর্চা
০৬/২২/২০১৭

উৎসবের আগের রূপচর্চা

-

ঈদের দিন নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য আগে থেকেই কিছুটা প্রস্ততি নিয়ে রাখা জরুরি। ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া হলে রোজার আগে অবাঞ্ছিত ব্রণ, রোদে পোড়া দাগ এড়ানো সম্ভব হবে।

রোজার সময় খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে আর এর প্রভাব পড়তে পারে ত্বকেও, তাই বাড়তি যত্ন বেশ জরুরি। এক্ষেত্রে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে এবং ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিদিন সকালে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে এবং সম্ভব হলে সপ্তাহে দু’বার এক্সফলিয়েট করতে হবে। এতে ত্বকের উপরের স্তরে জমে থাকা ময়লা ও মৃত কোষ দূর হবে।

এছাড়াও বাড়তি যত্নের জন্য ঘরোয়া ফেইসমাস্ক ব্যবহার করাও বেশ উপযোগী। বেশ সহজেই তৈরি করা যাবে এমন কিছু মাস্ক তৈরির উপায় এখানে দেওয়া হলো।

কফি মাড মাস্ক
দুই টেবিল-চামচ মুলতানি মাটি ও এক চা-চামচ মিহিগুঁড়া করা কফি এক সঙ্গে নিন। পরিমাণ মতো অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের বদলে পানি বা গোলাপজল ব্যবহার করা যেতে পারে। মিশ্রণটি মুখে এবং গলায় মেখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মুলতানি মাটি ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে এবং কফিতে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লামাটরি উপাদান যা ত্বকের জন্য উপকারী। পাশাপাশি এটি ত্বক এক্সফলিয়েট করে। অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ত্বকের পিএইচ’য়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

গ্রিন টি এবং মধুর মাস্ক
গ্রিন টি’র টি-ব্যাগ কেটে পাতা নিয়ে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। মুখে ও গলায় মেখে ১৫ মিনিট রেখে আলতো হাতে মালিশ করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। গ্রিন টি’র অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের লালচেভাব দূর করে এবং মধু ত্বক কোমল করে।

কলা এবং মধুর মাস্ক
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক দেখতে মলিন দেখায়, তাছাড়া ব্রণ, ব্ল্যাক হেডস ইত্যাদি সমস্যাও বেশি হয়। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে এই মাস্ক বিশেষ উপযোগী। ত্বকের বাড়তি তেল প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে কলা। কলায় আছে জিঙ্ক এবং ভিটামিন সি, যা ত্বকের বাড়তি তেল নিয়ন্ত্রণ করে ব্রণের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

এই মাস্ক তৈরি করতে প্রয়োজন হবে দুটি পাকাকলা, দুই টেবিল-চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস। ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে উপকরণগুলো মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে শুকিয়ে এলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

এছাড়া পছন্দসই ঘরোয়া উপাদান যেমন, বেসন, মুলতানি মাটি, মেথি, হলুদ, মধু, টমেটো, পেঁপে, পাকা আম ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিস দিয়ে মাস্ক তৈরি করে নেওয়া যায়। এই গরমে পুদিনা পাতা দিয়ে মাস্কও ত্বকের জন্য ভালো। ত্বকের সমস্যা বুঝে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া অবশ্যই ত্বকোপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রেও ময়েশ্চারাইজার জরুরি।

ত্বকের পাশাপাশি চুলেরও যত্ন নিতে হবে। শ্যাম্পু করার ঘণ্টাখানেক আগে চুলে ভালোভাবে তেল মালিশ করে নিন, এত চুলের শুষ্কভাব দূর হবে। ভালো ফল পেতে কয়েক ধরনের তেল মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

ত্বকের মতো চুলেরও বাড়তি পুষ্টি প্রয়োজন। চুলের পুষ্টি জোগাতে ট দই, ডিম, কলা, মধু, মেথি, মেহেদি বেশ উপকারী। ঘরেই বিভিন্ন উপাদান দিয়ে মাস্ক তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে।

দই, মধু ও ডিমের মাস্ক
দই চুলের যত্নে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের মতো কাজ করে। অন্যদিকে ডিম চুলে পুষ্টি জোগায় এবং গঠন মজবুত করে চুল পড়ার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার মধু ক্ষতিগ্রস্ত চুল সুস্থ করে।

একটি ডিম ভালোভাবে ফেটে নিন যেন ফেনাভাব হয়। এর সঙ্গে ছয় টেবিল-চামচ দই এবং দুই চা-চামচ মধু মিশিয়ে মাথার ত্বক ও পুরো চুলে ভালোভাবে লাগান। বিশ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

ডিম ও ক্যাস্টর অয়েল মাস্ক
একটি ডিমের কুসুম, এক টেবিল-চামচ ক্যাস্টর অয়েল, এক টেবিল-চামচ বিয়ার এবং এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে এই মাস্ক তৈরি করে নিতে হবে।
চুলের মাস্ক তৈরিতে বিয়ারের ব্যবহার শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এতে থাকা উপাদানগুলো চুল সুন্দর করে তুলতে সাহায়ক।

মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলার পর পানিতে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার গুলিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত থাকবে।

রোজায় ভাজা পোড়া খাবার বেশি খাওয়া হয়, কিন্তু ত্বক ও চুল সুন্দর রাখতে চাইলে তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এর বদলে সবজি, তাজা ফল, ফলের রস খেতে হবে। রোজা শেষে প্রচুর পানি পান করতে হবে শরীরের পানির চাহিদা পূরণের জন্য। পানির পাশাপাশি গ্লুকোজ ও স্যালাইনও পান করা যেতে পারে।

ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে নিলেই হবে না, ভিতর থেকেও যত্ন নিতে হবে।

- সামিরা আহসান