সোমবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / এক ভক্ত পাঠিকার রবীন্দ্র পরিভ্রমণ
০৩/১৬/২০১৬

এক ভক্ত পাঠিকার রবীন্দ্র পরিভ্রমণ

- আবু সাঈদ তুলু

সম্প্রতি ‘প্রাঙ্গণে মোর’ প্রযোজনা করেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনপরিক্রমা নিয়ে তথ্যবহুল নাটক ‘আমি ও রবীন্দ্রনাথ’। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় নূনা আফরোজ। এ নাটকে রবীন্দ্রনাথের জীবনের নানা কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায়গুলো অত্যন্ত নাটকীয়তায় উন্মোচিত হয়েছে দর্শকের সামনে। মঞ্চে রবীন্দ্রচরিত্রের ক্রিয়াশীলতার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের জীবন-দর্শন ও লেখনির প্রেক্ষাপটসহ সমকালীন নানাবিষয় অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

অথৈ নামে এক রবীন্দ্রভক্ত তার বন্ধুর সাথে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়িতে বেড়াতে যায়। কুঠিবাড়ি দেখতে দেখতে একসময় বিসম্বিৎ হয়ে যায় অথৈ। মঞ্চে উপস্থিত হন স্বয়ং ২৯ বছর বয়সি রবীন্দ্রনাথ। ভক্ত পাঠিকা অথৈ ক্রমশ হয়ে উঠেন রবীন্দ্রপ্রেমিকা। অথৈ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাট্যকার ও নিদের্শক নূনা আফরোজ। ভক্ত অথৈ চায় নি রবীন্দ্রনাথকে রঘুপতি চরিত্রে অভিনয় করুক। রবীন্দ্রনাথকে মহৎ হিসেবেই দেখতে চেয়েছিল অথৈ। অথচ রবীন্দ্রনাথ নিজের যুগ যন্ত্রণাকেই বড় করে দেখেছেন। ২৯ বছর বয়সি রবীন্দ্রনাথের কাছে অথৈ যেন নিজেই হয়ে ওঠেন অপর্ণা। অপর্ণা ও জয়সিংহের নতুন এক উদ্বেলিত প্রেমের রূপ ধরা দেয় নাট্যে।

নাটকে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় ওকাম্পো, মৈত্রেয়ী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক। ভক্ত পাঠক অথৈ হাজারো নারীর মতো একান্তভাবেই পেতে চায় রবীন্দ্রনাথকে। অথৈ প্রায় প্রতিটি ছোটগল্পের নারীগুলোর সঙ্গেও নিজের সাদৃশ্য খোঁজে পায়। সে যখন সমকালীন কবি সৈয়দ শামসুল হক প্রসঙ্গ তুলে অনুরক্তির ইঙ্গিত প্রদান করলে রবীন্দ্র চরিত্রও ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠেন। পাঠক ও লেখকের মধ্যে এক অনবদ্য ভক্তি, প্রেম ও নিবেদনের অপরূপ মহিমা উপস্থাপিত হয়ে ওঠে নাটকে।

২১ বছরের রবীন্দ্রনাথের আগমন ঘটে। ধীরে ধীরে ভক্ত আপ্লুত পাঠক অথৈ যেন কাদম্বরী হয়ে ওঠেন। অথৈ যেন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অসহায় নিঃসঙ্গ কাদম্বরী। প্রেম ভালোবাসা ও কথোপকথনের মধ্য দিয়ে কাদম্বরীর আত্মভিমান ও ঠাকুর পরিবারের গঞ্জনাসহ নানাপ্রসঙ্গ উঠে আসে। লেখনীর বিকাশে কাদম্বরীর ভূমিকাসহ নানা আবেগী প্রসঙ্গ স্থান পায়।

দু ঘণ্টা দশ মিনিট যেন এক পলকেই চলে গিয়েছিল সেদিন। চার ভিন্ন বয়সি রবীন্দ্রনাথ চরিত্র উপস্থাপন দর্শককে এক অলীক আনন্দের স্রোতে ভাসিয়েছে। গেটআপ-মেকআপ অত্যন্ত মূল রবীন্দ্রচরিত্র অনুগামী। অত্যন্ত মেধাদীপ্ত ও নান্দনিক উপস্থাপন। অথৈ চরিত্রের রূপান্তরও অসাধারণ। কুঠিবাড়ির অভ্যন্তর সাজেশনে মঞ্চবিন্যাসটি হলেও যৌক্তিক বা হৃদয়গ্রাহী হয়নি বলেই অনুভূত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের আগমনগুলোতে পদাবলী ও ধ্রুপদী নিনাদগুলো অসাধারণ উপভোগ্য। ঘটনার পরম্পরায় কবিতা, গানগুলোর ব্যবহার অসাধারণ। চরিত্রায়ন ও সাত্ত্বিক অভিনয় অসাধারণ। অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও নান্দনিক প্রযোজনা। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন- নূনা আফরোজ, অনন্ত হিরা, আউয়াল রেজা, রামিজ রাজু, তৌহিদ বিপ্লব ও সারোয়ার সৈকত। পোশাক ও মঞ্চপরিকল্পনা- নূনা আফরোজ, সংগীত পরিকল্পনায় রামিজ রাজু, আলোক পরিকল্পনা- তৌফিক রবিন।